রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন বিপণন প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি গুদামে নতুন করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাতের অভিযানে গুদামগুলোতে আগুন ও ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
আবারও লক্ষ্যবস্তু ওয়াইল্ডবেরিজ
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ক্রাসনোদার ও স্তাভরোপোল অঞ্চলে অবস্থিত ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি সরবরাহকেন্দ্রে এই হামলা হয়। হামলার পরপরই সেখানে কর্মরত কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এটি মাত্র চার দিনের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির গুদামে দ্বিতীয় হামলা। এর আগে শনিবার তাম্বভ ও ইলেকট্রোস্তাল অঞ্চলের দুটি গুদামে হামলায় আটজন নিহত এবং ৬২ জন আহত হয়েছিলেন।
কেন হামলার লক্ষ্য এই গুদাম
ইউক্রেনের দাবি, এসব গুদাম শুধু বাণিজ্যিক পণ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল না। তাদের অভিযোগ, এখানে রাশিয়ার ড্রোন তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, নৌ ও স্থলপথে চলাচলের জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং সামরিক কাজে লাগতে পারে এমন বিভিন্ন উপকরণ রাখা হতো।
এ কারণে এসব স্থাপনাকে সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে হামলা চালানো হয়েছে বলে ইউক্রেনের অবস্থান।
প্রতিষ্ঠানের মালিকের প্রতিক্রিয়া
ওয়াইল্ডবেরিজের মালিক তাতিয়ানা কিম হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, সাধারণ কর্মীদের ওপর এমন হামলার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মানুষের সেবায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং ভয় পেয়ে থেমে থাকবে না।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়ছে
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বড় বড় সরবরাহকেন্দ্রে হামলার উদ্দেশ্য শুধু সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন ব্যাহত করা নয়, বরং রাশিয়ার সরবরাহব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং জনমনে চাপ সৃষ্টি করাও। এ ধরনের হামলা দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাদের ধারণা।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান সংঘাতে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সরবরাহ ও পরিবহন অবকাঠামোও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব এখন সামনের যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়িয়ে বাণিজ্য ও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতেও স্পষ্টভাবে পড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















