০৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রতিদিন কত কাপ কফি নিরাপদ? গবেষণায় মিলল হৃদযন্ত্রের জন্য নতুন তথ্য ঢাকা-বেইজিং বৈঠকে পরিবহন করিডর ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শিশুপুত্রকে বাঁচাতে বিশেষ হৃদযন্ত্রের আবেদন, অঙ্গদানে সচেতনতার আহ্বান পরিবারের বিদেশ নয়, দেশে থেকেই নতুন দক্ষতা শেখার ছুটি—জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নতুন ভ্রমণধারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানকে দিলে বিশ্বে বিপজ্জনক নজির তৈরি হবে: আসিয়ানে রুবিওর সতর্কবার্তা বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১০ জঙ্গি নিহত, আটক দুই নারী আত্মঘাতী হামলাকারী ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: হরমুজে জাহাজে হামলা হলে ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে লক্ষ্য রাহুল গান্ধীর দাবি: ‘শিক্ষামন্ত্রী থাকার যোগ্য নন’ ধর্মেন্দ্র প্রধান, প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে সরকারের কড়া সমালোচনা বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাসে বদল আনতে সেনাবাহিনীর খাবারে নতুন ভাবনা, মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় টানা বৃষ্টিতে প্রাণহানি বেড়ে ১৮, ভূমিধসে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ

বাড়ির বাগানের ওপর দিয়ে ছুটছে মহাসড়ক, তবু বাসিন্দাদের কাছে সেটিই আশ্রয়ের ছাদ

যুক্তরাজ্যের পোর্ট ট্যালবট শহরে এমন কিছু বাড়ি রয়েছে, যাদের পেছনের বাগানের ওপর দিয়েই চলে গেছে ব্যস্ততম এম৪ মহাসড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি ছুটে যায় বাসিন্দাদের মাথার ওপর দিয়ে, অথচ অনেকের কাছে এই বিশাল সড়ক এখন বিরক্তির নয়, বরং এক ধরনের আশ্রয়ের মতো।

শহরের বাসিন্দা নারেল কোয়ান বলেন, তার বাড়ির বাগানের ওপর থাকা মহাসড়কটি তার জন্য যেন বিনামূল্যের ছাউনি। বৃষ্টি হলে এই জায়গা ব্যবহার করে সহজেই বাইরে যাওয়া যায়, আবার প্রচণ্ড গরমেও এটি রোদ থেকে সুরক্ষা দেয়।

মাথার ওপর মহাসড়ক, নিচে বসবাসের স্বাভাবিক জীবন

পোর্ট ট্যালবটের এই এলাকায় এম৪ মহাসড়ক প্রায় ১৪ মিটার উচ্চতায় তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৭৫ হাজার যানবাহন এই পথ দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু নিচে থাকা বাসিন্দাদের অনেকেই এখন এই শব্দের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।

নারেল জানান, শুরুতে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলেও এখন মহাসড়কের শব্দ তাদের কাছে দূরের এক ধরনের গুঞ্জনের মতো। বাড়ির পেছনের অংশের বড় একটি জায়গা মহাসড়কের নিচে থাকায় সেখানে বৃষ্টি বা তীব্র রোদে স্বস্তিতে থাকা যায়।

আরেক বাসিন্দা অ্যাইমি লিপলি বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই মহাসড়কের ছায়ায় বড় হয়েছেন। বৃষ্টি হলেও শিশুরা নিচে খেলতে পারে, কারণ ওপরের সড়কটি একটি প্রাকৃতিক ছাদের মতো কাজ করে।

উন্নয়নের প্রতীক থেকে মানুষের জীবনের অংশ

এম৪ মহাসড়কের এই অংশটি ১৯৬৬ সালে চালু করা হয়। তখন এটি ওয়েলসের প্রথম বড় মহাসড়ক প্রকল্পগুলোর একটি ছিল। পুরোনো সড়কে যানজট কমানো এবং যাতায়াত সহজ করাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।

তবে এই সড়ক নির্মাণের সময় অনেক বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয় এবং কিছু এলাকার পুরোনো সামাজিক কাঠামো বদলে যায়। অনেক বাসিন্দা মনে করেছিলেন, উন্নয়নের নামে তাদের পরিচিত পরিবেশ হারিয়ে গেছে।

পরবর্তীতে মানুষের সম্পত্তির ক্ষতি ও জীবনযাত্রার প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আইনও পরিবর্তন করা হয়।

শব্দ ও দূষণ কমাতে নতুন উদ্যোগ

মহাসড়কের নিচে বসবাসকারী অনেকেই আগে শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে বর্তমানে নির্দিষ্ট এলাকায় গাড়ির গতি সীমিত করার কারণে শব্দ ও দূষণের মাত্রা কমেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

নারেল জানান, আগে কখনো কখনো বাতাসে অস্বস্তিকর গন্ধ পাওয়া যেত, তবে সেটি মহাসড়কের চেয়ে শিল্প এলাকার কারণে বেশি ছিল বলে তার ধারণা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই অদ্ভুত পরিবেশের মধ্যেও তাদের এলাকায় রয়েছে শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন। অনেকের কাছে মাথার ওপর থাকা বিশাল কংক্রিটের সড়ক এখন আর শুধু একটি মহাসড়ক নয়, বরং তাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিদিন কত কাপ কফি নিরাপদ? গবেষণায় মিলল হৃদযন্ত্রের জন্য নতুন তথ্য

বাড়ির বাগানের ওপর দিয়ে ছুটছে মহাসড়ক, তবু বাসিন্দাদের কাছে সেটিই আশ্রয়ের ছাদ

০৮:১১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যের পোর্ট ট্যালবট শহরে এমন কিছু বাড়ি রয়েছে, যাদের পেছনের বাগানের ওপর দিয়েই চলে গেছে ব্যস্ততম এম৪ মহাসড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি ছুটে যায় বাসিন্দাদের মাথার ওপর দিয়ে, অথচ অনেকের কাছে এই বিশাল সড়ক এখন বিরক্তির নয়, বরং এক ধরনের আশ্রয়ের মতো।

শহরের বাসিন্দা নারেল কোয়ান বলেন, তার বাড়ির বাগানের ওপর থাকা মহাসড়কটি তার জন্য যেন বিনামূল্যের ছাউনি। বৃষ্টি হলে এই জায়গা ব্যবহার করে সহজেই বাইরে যাওয়া যায়, আবার প্রচণ্ড গরমেও এটি রোদ থেকে সুরক্ষা দেয়।

মাথার ওপর মহাসড়ক, নিচে বসবাসের স্বাভাবিক জীবন

পোর্ট ট্যালবটের এই এলাকায় এম৪ মহাসড়ক প্রায় ১৪ মিটার উচ্চতায় তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৭৫ হাজার যানবাহন এই পথ দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু নিচে থাকা বাসিন্দাদের অনেকেই এখন এই শব্দের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।

নারেল জানান, শুরুতে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলেও এখন মহাসড়কের শব্দ তাদের কাছে দূরের এক ধরনের গুঞ্জনের মতো। বাড়ির পেছনের অংশের বড় একটি জায়গা মহাসড়কের নিচে থাকায় সেখানে বৃষ্টি বা তীব্র রোদে স্বস্তিতে থাকা যায়।

আরেক বাসিন্দা অ্যাইমি লিপলি বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই মহাসড়কের ছায়ায় বড় হয়েছেন। বৃষ্টি হলেও শিশুরা নিচে খেলতে পারে, কারণ ওপরের সড়কটি একটি প্রাকৃতিক ছাদের মতো কাজ করে।

উন্নয়নের প্রতীক থেকে মানুষের জীবনের অংশ

এম৪ মহাসড়কের এই অংশটি ১৯৬৬ সালে চালু করা হয়। তখন এটি ওয়েলসের প্রথম বড় মহাসড়ক প্রকল্পগুলোর একটি ছিল। পুরোনো সড়কে যানজট কমানো এবং যাতায়াত সহজ করাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।

তবে এই সড়ক নির্মাণের সময় অনেক বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয় এবং কিছু এলাকার পুরোনো সামাজিক কাঠামো বদলে যায়। অনেক বাসিন্দা মনে করেছিলেন, উন্নয়নের নামে তাদের পরিচিত পরিবেশ হারিয়ে গেছে।

পরবর্তীতে মানুষের সম্পত্তির ক্ষতি ও জীবনযাত্রার প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আইনও পরিবর্তন করা হয়।

শব্দ ও দূষণ কমাতে নতুন উদ্যোগ

মহাসড়কের নিচে বসবাসকারী অনেকেই আগে শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে বর্তমানে নির্দিষ্ট এলাকায় গাড়ির গতি সীমিত করার কারণে শব্দ ও দূষণের মাত্রা কমেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

নারেল জানান, আগে কখনো কখনো বাতাসে অস্বস্তিকর গন্ধ পাওয়া যেত, তবে সেটি মহাসড়কের চেয়ে শিল্প এলাকার কারণে বেশি ছিল বলে তার ধারণা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই অদ্ভুত পরিবেশের মধ্যেও তাদের এলাকায় রয়েছে শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন। অনেকের কাছে মাথার ওপর থাকা বিশাল কংক্রিটের সড়ক এখন আর শুধু একটি মহাসড়ক নয়, বরং তাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ।