‘আমাকে মুগ্ধ করো’—একটি অদ্ভুত কিন্তু আকর্ষণীয় নির্দেশ
চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করার সময় অধিকাংশ মানুষ নির্দিষ্ট প্রশ্ন করেন বা কাজের নির্দেশ দেন। কিন্তু ওপেনএআইয়ের পণ্য ব্যবস্থাপক টাই জেরির একটি ভিন্ন অভ্যাস রয়েছে। তিনি প্রায়ই চ্যাটজিপিটিকে বলেন, “আমাকে মুগ্ধ করো।”
তবে তিনি নিজেই মনে করেন, ভবিষ্যতে এমন নির্দেশ দেওয়ারও প্রয়োজন থাকবে না। কারণ তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোর এমনিতেই ব্যবহারকারীকে সর্বোচ্চ মানের উত্তর দিয়ে মুগ্ধ করার চেষ্টা করা উচিত।
মনের সব কথা একসঙ্গে বলে ফেলেন
টাই জেরি জানান, তিনি অনেক সময় দীর্ঘ সময় ধরে নিজের ভাবনাগুলো মুখে বলে যান। ফোনে কথাকে লেখায় রূপান্তরের সুবিধা চালু করে তিনি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে যেন নিজের চিন্তার সঙ্গী হিসেবে কথা বলেন।
তিনি বলেন, এভাবে এলোমেলোভাবে বলা কথাগুলো চ্যাটজিপিটি বিশ্লেষণ করে মূল বিষয়গুলো বের করে আনে এবং কোন ধারণাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে সাহায্য করে।
তাঁর ভাষায়, চ্যাটজিপিটি শুধু একটি সফটওয়্যার নয়, বরং চিন্তাগুলো গুছিয়ে নেওয়ার একজন সহযোগী।
অফিসের মিটিং রুমেই চলে কথোপকথন
জেরি জানান, তিনি প্রায়ই অফিসের একটি মিটিং কক্ষে গিয়ে কর্মস্থলের ফোন চালু করে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলেন। বাইরে থেকে দেখলে অনেকের মনে হতে পারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কোনো বৈঠক করছেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি নিজের ধারণা, পরিকল্পনা ও সমস্যাগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আলোচনা করছেন।
আরেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞেরও একই অভ্যাস
এই ধরনের ব্যবহার শুধু টাই জেরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ওপেনএআইয়ের সাবেক গবেষক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই কারপাথিও সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে অবাধে কথা বলতে পছন্দ করেন। তাঁর মতে, চিন্তার ধারাকে আটকে না রেখে মুক্তভাবে কথা বললে নতুন ধারণা বেরিয়ে আসে এবং সমস্যার সমাধান সহজ হয়।

ভবিষ্যতে ‘প্রম্পট কৌশল’ লাগবে না
টাই জেরির বিশ্বাস, ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যেখানে ব্যবহারকারীকে বিশেষ কৌশলে নির্দেশ লিখতে হবে না। তিনি স্বীকার করেন, লেখার মানসহ কিছু ক্ষেত্রে এখনো উন্নতির সুযোগ রয়েছে। তবে লক্ষ্য হলো এমন অভিজ্ঞতা তৈরি করা, যেখানে ব্যবহারকারী যা চাইবেন, তা সহজেই বুঝে যথাযথ উত্তর দেওয়া হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বদলে দিচ্ছে পণ্য ব্যবস্থাপকের কাজ
জেরির মতে, পণ্য ব্যবস্থাপকের মূল দায়িত্ব এখনো একই—ব্যবহারকারীর জন্য সেরা অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাঁদের কাজের ধরন আমূল বদলে দিয়েছে।
আগে কোনো প্রযুক্তিগত কাজ করতে হলে আলাদা প্রকৌশলী বা তথ্যবিজ্ঞানীর ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন অনেক কাজই নিজেরাই দ্রুত করে ফেলা সম্ভব। ফলে প্রযুক্তিগত বিষয় না জানার অজুহাতও আর আগের মতো গ্রহণযোগ্য নয়।
‘নিজেকে সীমাবদ্ধ ভাববেন না’
অন্য পণ্য ব্যবস্থাপকদের উদ্দেশে টাই জেরির পরামর্শ, নিজের সক্ষমতাকে ছোট করে দেখা যাবে না। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শেখার সুযোগ এত বেশি যে ইচ্ছা থাকলে প্রায় যেকোনো দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ব্যবহারকারীর জন্য সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে যা যা প্রয়োজন, তা করতে প্রস্তুত থাকাই এখন সফল পেশাজীবীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















