০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
বিচারকদের অবসরের বয়স বাড়ানো: প্রশাসনিক সমাধান, নাকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরীক্ষা? ২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও চীনে ভক্সওয়াগেনের ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনায় নতুন শঙ্কা, কমছে বিক্রি ডানপন্থী উত্থানে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন উদ্যোগ, তবু বড় প্রশ্নে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা রেকিয়াভিকে ‘যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’: পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের স্বপ্নে রিগ্যান-গর্বাচেভ গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন লক্ষাধিক শ্রমিক কুষ্টিয়ায় বালুবাহী যান পদ্মায়, নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু ১৫ আগস্ট ঘিরে ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা, মাঠে ডিএমপির বিশেষ ইউনিট নেপালের নতুন রাজনৈতিক তারকার আলো কেন ম্লান হয়ে আসছে

যেখানে পাহাড়ই শিল্পশালা: লাদাখের আকাশছোঁয়া প্রান্তরে শিল্পের নতুন ভাষা

শিল্প মানেই চার দেয়ালের গ্যালারি—এই প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে নতুন এক দিগন্তের সূচনা করেছে ভারতের লাদাখ। তুষারঢাকা পর্বত, নির্জন উপত্যকা, প্রাচীন গ্রাম আর বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক ভূদৃশ্যকে শিল্পের ক্যানভাসে পরিণত করে শুরু হয়েছে ‘সা লাদাখ দ্বিবার্ষিক শিল্পোৎসব’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার মিটার উচ্চতায় আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু শিল্প প্রদর্শনী নয়; এটি মানুষ, প্রকৃতি, ইতিহাস ও ভবিষ্যতের মধ্যে এক গভীর সংলাপ।

মাটির অর্থবাহী লাদাখি শব্দ ‘সা’ থেকেই উৎসবের নাম। এবারের প্রতিপাদ্য ‘অন্য এক নক্ষত্রের সংকেত’। এখানে অংশ নিচ্ছেন লাদাখ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ২৬ জন সমকালীন শিল্পী। কিন্তু এই আয়োজনের বিশেষত্ব অন্যত্র—এখানে নেই কোনো জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন, নেই সমাপনী অনুষ্ঠান, নেই টিকিটের ব্যবস্থা কিংবা সাদা দেয়ালের প্রচলিত শিল্পগ্যালারি। শিল্পকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বেছে নেওয়া হয়েছে পাহাড়, গ্রাম ও খোলা প্রান্তর।

প্রকৃতিই যেখানে শিল্পের সহশিল্পী

প্রদর্শনীগুলো ছড়িয়ে রয়েছে লেহ থেকে কারগিল পর্যন্ত প্রায় দুইশ কিলোমিটার বিস্তৃত আটটি ভিন্ন স্থানে। প্রতিটি স্থানে নির্মিত হয়েছে তিনটি করে শিল্পস্থাপনা, যার সবই তৈরি হয়েছে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত মাটি, পাথর, কাঠ, উদ্ভিদসহ প্রাকৃতিক উপাদানে।

প্রতিটি প্রদর্শনীস্থলে পৌঁছাতে দর্শকদের হাঁটতে হবে। এই হাঁটাটুকুও শিল্পানুভূতিরই অংশ। পাহাড়ি পথ, শীতল বাতাস, নীরবতা, তীব্র আলো, দূরের পর্বতশ্রেণি এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলাপ—সব মিলিয়ে শিল্প এখানে কেবল দেখার বিষয় নয়; বরং অনুভবের এক পূর্ণাঙ্গ যাত্রা।

উৎসবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রাকি নিকাহেতিয়া মনে করেন, এটি প্রচলিত শিল্পোৎসবের বিরোধিতা নয়; বরং শিল্পকে নতুনভাবে ভাবার এক আন্তরিক প্রয়াস। তাঁদের লক্ষ্য দর্শককে শিল্পের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক নতুন করে উপলব্ধি করানো।

বন্ধুত্ব থেকে জন্ম নেওয়া এক স্বপ্ন

আজকের এই আন্তর্জাতিক শিল্পোৎসবের সূচনা হয়েছিল তিন বন্ধুর স্বপ্ন থেকে। শিল্পী রাকি নিকাহেতিয়া, পর্বতারোহী তেনজিন জামইয়াং এবং নকশাবিদ সাগরদীপ সিং—লাদাখের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই একত্রিত হন।

দুই হাজার তেইশ সালে তাঁরা পরিত্যক্ত বাইশ একর জমিকে পুনরুজ্জীবিত করে গড়ে তোলেন একটি জনসম্পৃক্ত উন্মুক্ত স্থান। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় ভূমিশিল্পভিত্তিক উদ্যোগ, যা পরবর্তীতে আজকের এই বৃহৎ শিল্পোৎসবে রূপ নেয়।

উচ্চতার সঙ্গে বদলে যায় শিল্প দেখার অভিজ্ঞতাও

লাদাখের উচ্চভূমিতে দাঁড়িয়ে শিল্প দেখা সমতলের অভিজ্ঞতার মতো নয়। উচ্চতা মানুষের হাঁটার গতি কমিয়ে দেয়, শ্বাস-প্রশ্বাসের ছন্দ বদলে দেয়, মনোযোগকে আরও গভীর করে।

একটি শিল্পস্থাপনা থেকে আরেকটিতে পৌঁছানোর পথ, পাহাড়ের নিস্তব্ধতা, প্রকৃতির বিশালতা এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন—সবই শিল্পের অংশ হয়ে ওঠে। ফলে দর্শক কেবল একটি ভাস্কর্য বা স্থাপনা দেখেন না; তিনি একটি ভূখণ্ড, একটি সংস্কৃতি এবং একটি জীবনদর্শনের মুখোমুখি হন।

The inaugural Sā Biennale in Ladakh asks you to trek - The Hindu

লাদাখের সংস্কৃতি ও জলবায়ুর গল্প

এই শিল্পোৎসবের প্রতিটি স্থান লাদাখের নিজস্ব ইতিহাস ও সমাজকে সামনে নিয়ে আসে।

লেহর শিল্পস্থাপনাগুলোতে উঠে এসেছে প্রাচীন বাণিজ্যপথ, মঠ, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের ছাপ। মুলবেখ অঞ্চলে শিল্পীরা তুলে ধরেছেন মৈত্রেয় বুদ্ধের ঐতিহ্য, পশুপালননির্ভর জীবন এবং বরফগলা পানির ওপর নির্ভরশীল জনপদের বাস্তবতা।

অন্যদিকে কারগিলের হুন্দারমান গ্রামে শিল্পের বিষয়বস্তু হয়েছে সীমান্তজীবন, বাস্তুচ্যুতি, বালতি ও পুরিগ জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং সীমান্তবাসীর প্রতিদিনের সংগ্রাম।

জলবায়ু পরিবর্তনের সাক্ষ্য বহন করছে শিল্প

লাদাখের শিল্পীদের কাছে এই উৎসব শুধু প্রদর্শনীর সুযোগ নয়, বরং নিজের ভূখণ্ডের সংকটকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

শিল্পী জিগমেত আংমো কাদামাটি দিয়ে তৈরি একটি শিল্পস্থাপনার মাধ্যমে দেখিয়েছেন জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা। একসময় লাদাখের মাটির ঘর অতিরিক্ত বৃষ্টির কথা ভেবেই নির্মিত হতো না। কিন্তু এখন বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় সেই শিল্পকর্মকে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়েছে। এই ছোট্ট দৃশ্যটিই বদলে যাওয়া জলবায়ুর এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে।

লাদাখের সমকালীন শিল্পের নতুন পরিচয়

দীর্ঘদিন ধরে লাদাখকে বিশ্বের মানুষ চিনেছে মূলত বৌদ্ধ মঠ, প্রাচীরচিত্র ও ধর্মীয় চিত্রকলার জন্য। কিন্তু এখানকার সমকালীন শিল্পচর্চা সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা ছিল সীমিত।

এই শিল্পোৎসব সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। অনেক তরুণ শিল্পী এখন আন্তর্জাতিক শিল্পমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছেন। কেউ ভারতের বৃহৎ শিল্পমেলায় অংশ নিচ্ছেন, কেউ আবার আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতেও আমন্ত্রণ পাচ্ছেন।

ফলে লাদাখ ধীরে ধীরে কেবল পর্যটনের নয়, সমকালীন শিল্পচর্চারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

সাফল্যের মাপকাঠি দর্শক নয়, উপলব্ধি

আয়োজকদের মতে, এই শিল্পোৎসবের উদ্দেশ্য বিপুল দর্শকসংখ্যা টানা নয়। বরং যারা এখানে আসবেন, তারা যেন লাদাখ, এর মানুষ, প্রকৃতি ও শিল্প সম্পর্কে আরও গভীর উপলব্ধি নিয়ে ফিরে যান।

তাঁদের বিশ্বাস, শিল্প যদি মানুষের মধ্যে কৌতূহল, সংবেদনশীলতা এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে পারে, তাহলেই এই উদ্যোগের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে।

আগস্টের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত চলবে এই ব্যতিক্রমী শিল্পোৎসব। সব প্রদর্শনী সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এবং প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিচারকদের অবসরের বয়স বাড়ানো: প্রশাসনিক সমাধান, নাকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরীক্ষা?

যেখানে পাহাড়ই শিল্পশালা: লাদাখের আকাশছোঁয়া প্রান্তরে শিল্পের নতুন ভাষা

০৮:২৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

শিল্প মানেই চার দেয়ালের গ্যালারি—এই প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে নতুন এক দিগন্তের সূচনা করেছে ভারতের লাদাখ। তুষারঢাকা পর্বত, নির্জন উপত্যকা, প্রাচীন গ্রাম আর বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক ভূদৃশ্যকে শিল্পের ক্যানভাসে পরিণত করে শুরু হয়েছে ‘সা লাদাখ দ্বিবার্ষিক শিল্পোৎসব’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার মিটার উচ্চতায় আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু শিল্প প্রদর্শনী নয়; এটি মানুষ, প্রকৃতি, ইতিহাস ও ভবিষ্যতের মধ্যে এক গভীর সংলাপ।

মাটির অর্থবাহী লাদাখি শব্দ ‘সা’ থেকেই উৎসবের নাম। এবারের প্রতিপাদ্য ‘অন্য এক নক্ষত্রের সংকেত’। এখানে অংশ নিচ্ছেন লাদাখ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ২৬ জন সমকালীন শিল্পী। কিন্তু এই আয়োজনের বিশেষত্ব অন্যত্র—এখানে নেই কোনো জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন, নেই সমাপনী অনুষ্ঠান, নেই টিকিটের ব্যবস্থা কিংবা সাদা দেয়ালের প্রচলিত শিল্পগ্যালারি। শিল্পকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বেছে নেওয়া হয়েছে পাহাড়, গ্রাম ও খোলা প্রান্তর।

প্রকৃতিই যেখানে শিল্পের সহশিল্পী

প্রদর্শনীগুলো ছড়িয়ে রয়েছে লেহ থেকে কারগিল পর্যন্ত প্রায় দুইশ কিলোমিটার বিস্তৃত আটটি ভিন্ন স্থানে। প্রতিটি স্থানে নির্মিত হয়েছে তিনটি করে শিল্পস্থাপনা, যার সবই তৈরি হয়েছে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত মাটি, পাথর, কাঠ, উদ্ভিদসহ প্রাকৃতিক উপাদানে।

প্রতিটি প্রদর্শনীস্থলে পৌঁছাতে দর্শকদের হাঁটতে হবে। এই হাঁটাটুকুও শিল্পানুভূতিরই অংশ। পাহাড়ি পথ, শীতল বাতাস, নীরবতা, তীব্র আলো, দূরের পর্বতশ্রেণি এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলাপ—সব মিলিয়ে শিল্প এখানে কেবল দেখার বিষয় নয়; বরং অনুভবের এক পূর্ণাঙ্গ যাত্রা।

উৎসবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রাকি নিকাহেতিয়া মনে করেন, এটি প্রচলিত শিল্পোৎসবের বিরোধিতা নয়; বরং শিল্পকে নতুনভাবে ভাবার এক আন্তরিক প্রয়াস। তাঁদের লক্ষ্য দর্শককে শিল্পের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক নতুন করে উপলব্ধি করানো।

বন্ধুত্ব থেকে জন্ম নেওয়া এক স্বপ্ন

আজকের এই আন্তর্জাতিক শিল্পোৎসবের সূচনা হয়েছিল তিন বন্ধুর স্বপ্ন থেকে। শিল্পী রাকি নিকাহেতিয়া, পর্বতারোহী তেনজিন জামইয়াং এবং নকশাবিদ সাগরদীপ সিং—লাদাখের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই একত্রিত হন।

দুই হাজার তেইশ সালে তাঁরা পরিত্যক্ত বাইশ একর জমিকে পুনরুজ্জীবিত করে গড়ে তোলেন একটি জনসম্পৃক্ত উন্মুক্ত স্থান। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় ভূমিশিল্পভিত্তিক উদ্যোগ, যা পরবর্তীতে আজকের এই বৃহৎ শিল্পোৎসবে রূপ নেয়।

উচ্চতার সঙ্গে বদলে যায় শিল্প দেখার অভিজ্ঞতাও

লাদাখের উচ্চভূমিতে দাঁড়িয়ে শিল্প দেখা সমতলের অভিজ্ঞতার মতো নয়। উচ্চতা মানুষের হাঁটার গতি কমিয়ে দেয়, শ্বাস-প্রশ্বাসের ছন্দ বদলে দেয়, মনোযোগকে আরও গভীর করে।

একটি শিল্পস্থাপনা থেকে আরেকটিতে পৌঁছানোর পথ, পাহাড়ের নিস্তব্ধতা, প্রকৃতির বিশালতা এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন—সবই শিল্পের অংশ হয়ে ওঠে। ফলে দর্শক কেবল একটি ভাস্কর্য বা স্থাপনা দেখেন না; তিনি একটি ভূখণ্ড, একটি সংস্কৃতি এবং একটি জীবনদর্শনের মুখোমুখি হন।

The inaugural Sā Biennale in Ladakh asks you to trek - The Hindu

লাদাখের সংস্কৃতি ও জলবায়ুর গল্প

এই শিল্পোৎসবের প্রতিটি স্থান লাদাখের নিজস্ব ইতিহাস ও সমাজকে সামনে নিয়ে আসে।

লেহর শিল্পস্থাপনাগুলোতে উঠে এসেছে প্রাচীন বাণিজ্যপথ, মঠ, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের ছাপ। মুলবেখ অঞ্চলে শিল্পীরা তুলে ধরেছেন মৈত্রেয় বুদ্ধের ঐতিহ্য, পশুপালননির্ভর জীবন এবং বরফগলা পানির ওপর নির্ভরশীল জনপদের বাস্তবতা।

অন্যদিকে কারগিলের হুন্দারমান গ্রামে শিল্পের বিষয়বস্তু হয়েছে সীমান্তজীবন, বাস্তুচ্যুতি, বালতি ও পুরিগ জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং সীমান্তবাসীর প্রতিদিনের সংগ্রাম।

জলবায়ু পরিবর্তনের সাক্ষ্য বহন করছে শিল্প

লাদাখের শিল্পীদের কাছে এই উৎসব শুধু প্রদর্শনীর সুযোগ নয়, বরং নিজের ভূখণ্ডের সংকটকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

শিল্পী জিগমেত আংমো কাদামাটি দিয়ে তৈরি একটি শিল্পস্থাপনার মাধ্যমে দেখিয়েছেন জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা। একসময় লাদাখের মাটির ঘর অতিরিক্ত বৃষ্টির কথা ভেবেই নির্মিত হতো না। কিন্তু এখন বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় সেই শিল্পকর্মকে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়েছে। এই ছোট্ট দৃশ্যটিই বদলে যাওয়া জলবায়ুর এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে।

লাদাখের সমকালীন শিল্পের নতুন পরিচয়

দীর্ঘদিন ধরে লাদাখকে বিশ্বের মানুষ চিনেছে মূলত বৌদ্ধ মঠ, প্রাচীরচিত্র ও ধর্মীয় চিত্রকলার জন্য। কিন্তু এখানকার সমকালীন শিল্পচর্চা সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা ছিল সীমিত।

এই শিল্পোৎসব সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। অনেক তরুণ শিল্পী এখন আন্তর্জাতিক শিল্পমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছেন। কেউ ভারতের বৃহৎ শিল্পমেলায় অংশ নিচ্ছেন, কেউ আবার আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতেও আমন্ত্রণ পাচ্ছেন।

ফলে লাদাখ ধীরে ধীরে কেবল পর্যটনের নয়, সমকালীন শিল্পচর্চারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

সাফল্যের মাপকাঠি দর্শক নয়, উপলব্ধি

আয়োজকদের মতে, এই শিল্পোৎসবের উদ্দেশ্য বিপুল দর্শকসংখ্যা টানা নয়। বরং যারা এখানে আসবেন, তারা যেন লাদাখ, এর মানুষ, প্রকৃতি ও শিল্প সম্পর্কে আরও গভীর উপলব্ধি নিয়ে ফিরে যান।

তাঁদের বিশ্বাস, শিল্প যদি মানুষের মধ্যে কৌতূহল, সংবেদনশীলতা এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে পারে, তাহলেই এই উদ্যোগের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে।

আগস্টের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত চলবে এই ব্যতিক্রমী শিল্পোৎসব। সব প্রদর্শনী সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এবং প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।