মধ্য-শরৎ উৎসব উপলক্ষে সিঙ্গাপুরের সায়েন্স সেন্টারে এবার আয়োজন করা হয়েছে একটু ভিন্ন ধরনের রাতের অনুষ্ঠান—‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’। বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, নাচ, সঙ্গীত ও রাতের বিনোদনকে একসঙ্গে মিলিয়ে তৈরি এই আয়োজনটি হবে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার, মাত্র এক রাতের জন্য।
সাধারণ সময়ে যে গ্যালারিগুলোতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা প্রদর্শনী দেখা যায়, সেদিন রাতেই সেগুলো বদলে যাবে নাচ ও বিনোদনের জায়গায়। দর্শনার্থীরা হেডসেটে তিনটি আলাদা সঙ্গীতধারা থেকে নিজেদের পছন্দের গান বেছে নিতে পারবেন। এক গ্যালারি থেকে আরেক গ্যালারিতে ঘুরতে ঘুরতে তারা নাচতে পারবেন, আবার চাইলে রাতের আলোর ভিন্ন আবহে বিজ্ঞানকেন্দ্রের প্রদর্শনীগুলোও দেখতে পারবেন।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করছে ওয়াইল্ড পার্ল স্টুডিও, সাইলেন্ট ডিস্কো এশিয়া, উমামি এফএক্স ও মিসচিফ মেকার্স। পুরো আয়োজনটি সায়েন্স সেন্টারের ‘সেলেস্টিয়াল নাইটস’ মধ্য-শরৎ উৎসবের অংশ।
শুরু হবে নীরব ডিস্কো প্যারেড দিয়ে
মূল অনুষ্ঠানে ঢোকার আগে আয়োজনের সূচনা হবে ‘মুনবিটস সাইলেন্ট ডিস্কো প্যারেড’ দিয়ে। মধ্য-শরতের চাঁদের নিচে হেডসেটে গান শুনতে শুনতে দর্শনার্থীরা সায়েন্স সেন্টার থেকে জাপানিজ গার্ডেনের দিকে হাঁটবেন।
হেডসেটে গান, চারপাশে রাতের আলো আর উৎসবমুখর মানুষের উপস্থিতিতে তৈরি হবে ভিন্ন এক পরিবেশ। তবে এই প্যারেডের আসন সীমিত এবং আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এর সব জায়গা ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে।
বিজ্ঞান গ্যালারিই হবে রাতের পার্টির মঞ্চ
প্যারেড শেষে দর্শনার্থীরা সায়েন্স সেন্টারের ভেতরে ফিরে আসবেন। সেখানে বিভিন্ন গ্যালারি রাতের পার্টির জায়গায় রূপ নেবে।
‘মিরর মেজ’-এ অসংখ্য প্রতিফলন ও আলো তৈরি করবে এক ধরনের ভিন্ন আবহ। আয়োজকদের ভাষায়, সেখানে নিজের সঙ্গীদের আবার খুঁজে পাওয়াটাও হয়ে উঠবে মজার অংশ।
‘লেজার মেজ’-এ আলোয় তৈরি পথ পেরোতে হবে। নাচের ছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আলোর রশ্মির ফাঁক দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে দর্শনার্থীদের।
‘নাইট অ্যাট দ্য গার্ডেন’ অংশে রাতের আবহে দেখা যাবে সায়েন্স সেন্টারের অভ্যন্তরীণ বাগান এবং মাংসাশী উদ্ভিদ। কেউ চাইলে সেখানে নাচতে পারবেন, আবার কেউ শুধু হেডসেটে পছন্দের গান শুনতে শুনতে গ্যালারি ঘুরে দেখতে পারবেন।
তিন ডিজের তিন ধরনের সঙ্গীত
অনুষ্ঠানের নাচের মঞ্চে থাকবেন তিন ডিজে—ডিজে ইকো, ডিজে জ্যাজ ও কিড ফিয়েস্তা।
ডিজে ইকোর সঙ্গীতে থাকবে ইলেকট্রনিক সঙ্গীত ও নব্বইয়ের দশকের নাচের গান। ডিজে জ্যাজ পরিবেশন করবেন জাতিগত ও সিনেমাটিক আবহের ইডিএম। আর কিড ফিয়েস্তার সঙ্গীতে থাকবে ডিপ হাউস, পার্টি ঘরানার হিপহপ, ডিস্কো, ফাঙ্ক ও সোল।
এর পাশাপাশি সায়েন্স সেন্টারের কোথাও থাকবে ‘ডার্ক সাইড অব দ্য মুন’ নামে একটি কক্ষ, যা অনুষ্ঠানের মানচিত্রেও দেখানো হবে না। ফলে সেটি খুঁজে বের করাও রাতের আয়োজনের একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা হতে পারে।
টিকিটের সঙ্গে থাকছে বিশেষ পানীয়
অনুষ্ঠানের টিকিটের সঙ্গে দর্শনার্থীরা পাবেন একটি বিশেষ অ্যালকোহলবিহীন পানীয়। সিঙ্গাপুরের লুলি এই অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করেছে উদ্ভিদ ও ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা-অনুপ্রাণিত একটি বিশেষ পানীয়, যার মূল্য ১৫ সিঙ্গাপুর ডলার।
গ্যালারির মধ্যেই এক রাতের জন্য তৈরি হবে পপ-আপ বার। ঐতিহ্যবাহী ভেষজ উপাদানকে আধুনিকভাবে ব্যবহার করে তৈরি এই ঠান্ডা পানীয় হবে অনুষ্ঠানের টিকিটের অন্তর্ভুক্ত।
জ্যোতির্বিজ্ঞানেও থাকছে রাতভর আয়োজন
‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ শুধু নাচ ও সঙ্গীতের আয়োজন নয়। এটি ‘সেলেস্টিয়াল নাইটস’ উৎসবের অংশ হওয়ায় দর্শনার্থীরা একই রাতে জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক নানা আয়োজনেও অংশ নিতে পারবেন।
সায়েন্স সেন্টারের মানমন্দিরে শক্তিশালী দূরবীন দিয়ে চাঁদের পৃষ্ঠ দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে প্রধান মানমন্দিরের এই পর্যবেক্ষণের টিকিট ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
ওমনি-থিয়েটারে থাকবে ‘মুন লেজেন্ডস: ফ্রম মিথ টু মিশন’ নামের গ্রহ-নক্ষত্রভিত্তিক অনুষ্ঠান, যেখানে প্রাচীন চাঁদের কাহিনি থেকে আধুনিক মহাকাশ অভিযানের সঙ্গে একটি যোগসূত্র তুলে ধরা হবে।
এ ছাড়া থাকবে ‘সেলেস্টিয়াল ট্রেইল’। জাপানিজ গার্ডেনের মধ্য দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন জগতের চাঁদের কল্পনাময় ও আলোকিত রূপ দেখতে পারবেন।
টিকিটের দাম কত
‘সেলেস্টিয়াল নাইটস’-এর সাধারণ টিকিটের দাম শুরু হচ্ছে ৪ সিঙ্গাপুর ডলার থেকে। এতে ডিজিটাল প্ল্যানেটেরিয়াম অনুষ্ঠান, সেলেস্টিয়াল ট্রেইল ও তারকা দেখার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’-এর প্রারম্ভিক পাখি টিকিটের দাম ছিল ২০ সিঙ্গাপুর ডলার, তবে সেটি ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। সীমিত ডুয়ো বান্ডেলের দাম ৪০ সিঙ্গাপুর ডলার। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে বিশেষ মূল্যে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে ২৫ সিঙ্গাপুর ডলারে। আর প্রবেশপথে টিকিটের দাম ৩৫ সিঙ্গাপুর ডলার।
‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’-এর টিকিটে সাইলেন্ট ডিস্কো, একটি বিশেষ অ্যালকোহলবিহীন পানীয়, সেলেস্টিয়াল ট্রেইল ও তারকা দেখার সুযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কখন ও কোথায়
‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ অনুষ্ঠিত হবে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার। সাইলেন্ট ডিস্কোর জন্য নিবন্ধন শুরু হবে সায়েন্স সেন্টারের প্রধান প্রবেশপথে সন্ধ্যা ৬টায়। ডিজিটাল প্ল্যানেটেরিয়াম অনুষ্ঠানের নিবন্ধন শুরু হবে ওমনি-থিয়েটারে বিকেল সাড়ে ৫টায়।
জুরং ইস্ট এমআরটি স্টেশন থেকে সায়েন্স সেন্টারে হেঁটে যেতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগে। কাছাকাছি বাসস্টপ হিসেবে ২৮২৫১ ও ২৮২৫৯ নম্বর স্টপ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ার আশঙ্কায় আয়োজকেরা গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। সায়েন্স সেন্টার ও কিডসস্টপের পার্কিংয়ের জায়গা সীমিত।
নিরাপত্তার কারণে সাইলেন্ট ডিস্কো এলাকায় ব্যাগ পরীক্ষা করা হতে পারে। বড় ব্যাগ থাকলে অতিরিক্ত ফি দিয়ে লকারে রাখতে হতে পারে। তাই আয়োজকেরা কম ব্যাগ নিয়ে অনুষ্ঠানে আসার পরামর্শ দিয়েছেন।
অনুষ্ঠান চলাকালে ব্যক্তিগত দূরবীন ব্যবহার বা ট্রাইপড স্থাপন করা যাবে না। সায়েন্স সেন্টার কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ কোনো সামগ্রী সরিয়ে দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।
রাতের আয়োজনের সময় কিউরিওসিটি শপ, রিগেল ও ফিনিক্স ইন্ডিয়ান রেস্তোরাঁসহ কিছু খাবার ও খুচরা পণ্যের দোকান খোলা থাকবে।
মধ্য-শরৎ উৎসবকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞানকেন্দ্রের গ্যালারি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, আলোকসজ্জা ও সঙ্গীতকে এক রাতের অভিজ্ঞতায় একত্র করছে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’। ফলে যারা প্রচলিত উৎসবের বাইরে একটু ভিন্ন ধরনের রাত কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি হতে পারে সিঙ্গাপুরের একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন।












