০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
লোবিতো করিডর থেকে নতুন বিশ্বব্যবস্থা: খনিজের সঙ্গে এখন ডেটারও লড়াই ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা ৮৮০ বাগেরহাট হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, চালক আহত; পুড়ল ৯ মোটরসাইকেল মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যেই পরীক্ষা ফেডপ্রধান ওয়ারশের ‘গানের মাহাত্ম্য গায়কের চেয়েও বড়’: নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে উষা উত্থুপ মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যেই পরীক্ষা হবে ফেডপ্রধান ওয়ারশের নেতৃত্ব গালফের ভারতীয় প্রবাসীরা এখন শুধু রেমিট্যান্স পাঠান না, গড়ছেন বৈশ্বিক সম্পদ পর্দাহীন গারমিন সিরকা: তথ্য দেবে, কিন্তু মনোযোগ কেড়ে নেবে না ড্রোন হামলা বন্ধ না হলে জাওয়িয়া তেল শোধনাগার বন্ধের হুঁশিয়ারি লিবিয়ার তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর: অন্তত তিস্তা চুক্তি তো আশা করতে পারে বাংলাদেশ

পজিতানোর চেয়েও মুগ্ধকর ইতালির ছোট্ট শহর মিনোরি, যেখানে মিলবে আসল আমালফি উপকূলের স্বাদ

ইতালির আমালফি উপকূল মানেই চোখে ভাসে পাহাড়ের গায়ে সাজানো রঙিন বাড়ি, নীল সমুদ্র, সরু পথ আর বিলাসী পর্যটনকেন্দ্র পজিতানো। তবে জনপ্রিয়তার আড়ালে থাকা ছোট্ট শহর মিনোরি এখন অনেক ভ্রমণপ্রেমীর কাছে হয়ে উঠছে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য।

ভ্রমণকারীদের অনেকেই মনে করছেন, পজিতানোর সৌন্দর্য যেমন অসাধারণ, তেমনি মিনোরি দেয় আরও শান্ত, স্বাভাবিক ও স্থানীয় জীবনের কাছাকাছি থাকার অভিজ্ঞতা।

লেবুর পথ ধরে মিনোরির আবিষ্কার

আমালফি উপকূল ভ্রমণে অনেকেই বেছে নেন “লেবুর পথ” নামে পরিচিত একটি মনোরম পাহাড়ি পথ। এই পথটি মাইওরি ও মিনোরি শহরকে যুক্ত করেছে। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে তৈরি এই পথ ধরে হাঁটলে দেখা যায় বিস্তৃত সমুদ্র, লেবুর বাগান এবং উপকূলের অপূর্ব দৃশ্য।

এক ভ্রমণকারী ও তার পরিবার এই পথ ধরে হাঁটতে গিয়ে প্রথমে পৌঁছান মিনোরির একটি পারিবারিক লেবুর খামারে। সেখানে ছিল পুরোনো ধাঁচের লোহার ফটক, গাছের নিচে সাজানো আরামদায়ক বসার জায়গা এবং স্থানীয় লেবু দিয়ে তৈরি নানা খাবার।

লেবুর শরবত, লেবুর আইসক্রিম, লিমনচেলো পানীয়সহ বিভিন্ন স্থানীয় স্বাদ উপভোগ করার পাশাপাশি তারা ঘুরে দেখেন লেবুর বাগান। চারপাশের শান্ত পরিবেশ ও আতিথেয়তা তাদের কাছে সিনেমার দৃশ্যের মতো মনে হয়।

পর্যটকের ভিড় থেকে দূরে স্থানীয় জীবনের ছোঁয়া

মিনোরির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর স্বাভাবিক পরিবেশ। পজিতানোর মতো এখানে পর্যটকের ভিড় বা ব্যস্ততা তুলনামূলক কম। ফলে ভ্রমণকারীরা ধীরে ধীরে শহরটি উপভোগ করার সুযোগ পান।

লেবুর বাগান থেকে হাঁটা চালিয়ে তারা পৌঁছান আরেকটি পারিবারিক খাবারের জায়গায়। সেখানে ছিল তাজা টমেটো, ফুলের নকশার কাপড়ে সাজানো টেবিল, রোদ পোহানো স্থানীয় বিড়াল আর পাহাড়ের ওপর থেকে দেখা অপূর্ব দৃশ্য।

সেখানে পরিবেশন করা হয় স্থানীয় মাংস, চিজ, জলপাই, মধু, মৌসুমি জ্যাম এবং বিশেষ ধরনের পাস্তা। লেবুর মাখনযুক্ত সস দিয়ে তৈরি হাতে বানানো পাস্তা ছিল পুরো ভ্রমণের অন্যতম সেরা খাবারের অভিজ্ঞতা।

The Amalfi towns that are better than Positano | The Australian

ইতিহাস, স্থাপত্য আর সমুদ্রের শহর

মিনোরির ছোট্ট শহরজুড়ে রয়েছে অনেক আকর্ষণীয় স্থান। সরু গলি, প্রাচীন রোমান নিদর্শন, স্থানীয় মাটির তৈরি সামগ্রীর দোকান এবং সমুদ্রের পাশের ছোট ছোট খাবারের দোকান শহরটিকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে।

শহরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্থাপনা হলো সান্তা ত্রোফিমেনা গির্জা। হলুদ রঙের এই গির্জাটি শহরের প্রধান চত্বরের পাশে দাঁড়িয়ে আছে এবং পর্যটকদের নজর কাড়ে।

এ ছাড়া মিনোরির সমুদ্রতীরবর্তী মিষ্টির দোকানগুলোতে পাওয়া যায় বিখ্যাত লেবুর মিষ্টি, যা স্থানীয় স্বাদের অন্যতম পরিচয়।

পরের বার পজিতানো নয়, মিনোরিই হবে ঠিকানা

প্রথমবার আমালফি উপকূলে গেলে পজিতানোর আকর্ষণ এড়ানো কঠিন। এর রঙিন বাড়ি, সমুদ্রের দৃশ্য ও ঐতিহ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। তবে যারা আরও শান্ত, প্রকৃত ও স্থানীয় অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের জন্য মিনোরি হতে পারে আদর্শ জায়গা।

এখানে ভ্রমণকারীরা স্থানীয় মানুষের জীবন কাছ থেকে দেখতে পারেন, ভিড় ছাড়াই প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন এবং ইতালির উপকূলীয় সংস্কৃতির আসল স্বাদ নিতে পারেন।

অনেকের কাছে পজিতানো হতে পারে স্বপ্নের শহর, কিন্তু মিনোরি সেই স্বপ্নকে আরও শান্ত ও আপন করে তোলার মতো এক ছোট্ট রত্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

লোবিতো করিডর থেকে নতুন বিশ্বব্যবস্থা: খনিজের সঙ্গে এখন ডেটারও লড়াই

পজিতানোর চেয়েও মুগ্ধকর ইতালির ছোট্ট শহর মিনোরি, যেখানে মিলবে আসল আমালফি উপকূলের স্বাদ

০৯:১৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ইতালির আমালফি উপকূল মানেই চোখে ভাসে পাহাড়ের গায়ে সাজানো রঙিন বাড়ি, নীল সমুদ্র, সরু পথ আর বিলাসী পর্যটনকেন্দ্র পজিতানো। তবে জনপ্রিয়তার আড়ালে থাকা ছোট্ট শহর মিনোরি এখন অনেক ভ্রমণপ্রেমীর কাছে হয়ে উঠছে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য।

ভ্রমণকারীদের অনেকেই মনে করছেন, পজিতানোর সৌন্দর্য যেমন অসাধারণ, তেমনি মিনোরি দেয় আরও শান্ত, স্বাভাবিক ও স্থানীয় জীবনের কাছাকাছি থাকার অভিজ্ঞতা।

লেবুর পথ ধরে মিনোরির আবিষ্কার

আমালফি উপকূল ভ্রমণে অনেকেই বেছে নেন “লেবুর পথ” নামে পরিচিত একটি মনোরম পাহাড়ি পথ। এই পথটি মাইওরি ও মিনোরি শহরকে যুক্ত করেছে। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে তৈরি এই পথ ধরে হাঁটলে দেখা যায় বিস্তৃত সমুদ্র, লেবুর বাগান এবং উপকূলের অপূর্ব দৃশ্য।

এক ভ্রমণকারী ও তার পরিবার এই পথ ধরে হাঁটতে গিয়ে প্রথমে পৌঁছান মিনোরির একটি পারিবারিক লেবুর খামারে। সেখানে ছিল পুরোনো ধাঁচের লোহার ফটক, গাছের নিচে সাজানো আরামদায়ক বসার জায়গা এবং স্থানীয় লেবু দিয়ে তৈরি নানা খাবার।

লেবুর শরবত, লেবুর আইসক্রিম, লিমনচেলো পানীয়সহ বিভিন্ন স্থানীয় স্বাদ উপভোগ করার পাশাপাশি তারা ঘুরে দেখেন লেবুর বাগান। চারপাশের শান্ত পরিবেশ ও আতিথেয়তা তাদের কাছে সিনেমার দৃশ্যের মতো মনে হয়।

পর্যটকের ভিড় থেকে দূরে স্থানীয় জীবনের ছোঁয়া

মিনোরির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর স্বাভাবিক পরিবেশ। পজিতানোর মতো এখানে পর্যটকের ভিড় বা ব্যস্ততা তুলনামূলক কম। ফলে ভ্রমণকারীরা ধীরে ধীরে শহরটি উপভোগ করার সুযোগ পান।

লেবুর বাগান থেকে হাঁটা চালিয়ে তারা পৌঁছান আরেকটি পারিবারিক খাবারের জায়গায়। সেখানে ছিল তাজা টমেটো, ফুলের নকশার কাপড়ে সাজানো টেবিল, রোদ পোহানো স্থানীয় বিড়াল আর পাহাড়ের ওপর থেকে দেখা অপূর্ব দৃশ্য।

সেখানে পরিবেশন করা হয় স্থানীয় মাংস, চিজ, জলপাই, মধু, মৌসুমি জ্যাম এবং বিশেষ ধরনের পাস্তা। লেবুর মাখনযুক্ত সস দিয়ে তৈরি হাতে বানানো পাস্তা ছিল পুরো ভ্রমণের অন্যতম সেরা খাবারের অভিজ্ঞতা।

The Amalfi towns that are better than Positano | The Australian

ইতিহাস, স্থাপত্য আর সমুদ্রের শহর

মিনোরির ছোট্ট শহরজুড়ে রয়েছে অনেক আকর্ষণীয় স্থান। সরু গলি, প্রাচীন রোমান নিদর্শন, স্থানীয় মাটির তৈরি সামগ্রীর দোকান এবং সমুদ্রের পাশের ছোট ছোট খাবারের দোকান শহরটিকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে।

শহরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্থাপনা হলো সান্তা ত্রোফিমেনা গির্জা। হলুদ রঙের এই গির্জাটি শহরের প্রধান চত্বরের পাশে দাঁড়িয়ে আছে এবং পর্যটকদের নজর কাড়ে।

এ ছাড়া মিনোরির সমুদ্রতীরবর্তী মিষ্টির দোকানগুলোতে পাওয়া যায় বিখ্যাত লেবুর মিষ্টি, যা স্থানীয় স্বাদের অন্যতম পরিচয়।

পরের বার পজিতানো নয়, মিনোরিই হবে ঠিকানা

প্রথমবার আমালফি উপকূলে গেলে পজিতানোর আকর্ষণ এড়ানো কঠিন। এর রঙিন বাড়ি, সমুদ্রের দৃশ্য ও ঐতিহ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। তবে যারা আরও শান্ত, প্রকৃত ও স্থানীয় অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের জন্য মিনোরি হতে পারে আদর্শ জায়গা।

এখানে ভ্রমণকারীরা স্থানীয় মানুষের জীবন কাছ থেকে দেখতে পারেন, ভিড় ছাড়াই প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন এবং ইতালির উপকূলীয় সংস্কৃতির আসল স্বাদ নিতে পারেন।

অনেকের কাছে পজিতানো হতে পারে স্বপ্নের শহর, কিন্তু মিনোরি সেই স্বপ্নকে আরও শান্ত ও আপন করে তোলার মতো এক ছোট্ট রত্ন।