স্যামসাং তাদের স্মার্ট টিভির অ্যাপ প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। কারণ, কিছু অ্যাপে এমন একটি নিরাপত্তা ঝুঁকি ধরা পড়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অজান্তেই তাদের বাড়ির ইন্টারনেট সংযোগ অন্যদের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান Mnemonic-এর অনুসন্ধানে জানা যায়, স্যামসাং স্মার্ট টিভির কিছু অ্যাপ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের ওয়েব ট্রাফিক পাঠাতে পারে। এতে বাইরে থেকে পাঠানো অনলাইন অনুরোধগুলো এমনভাবে দেখা যায়, যেন সেগুলো ব্যবহারকারীর নিজের ইন্টারনেট সংযোগ থেকেই এসেছে।
একটি জনপ্রিয় গেমেও ছিল ঝুঁকি
গবেষণায় উঠে এসেছে, স্যামসাংয়ের অ্যাপ স্টোরে সম্পাদকের পছন্দ বিভাগে প্রদর্শিত একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্যাক-ম্যান গেমেও এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছিল। গবেষকদের মতে, প্রয়োজন হলে এই অ্যাপ একটি স্মার্ট টিভিকে তথাকথিত “রেসিডেনশিয়াল প্রক্সি” হিসেবে ব্যবহার করতে সক্ষম।

এর অর্থ, ব্যবহারকারীর বাড়ির ইন্টারনেট সংযোগ অন্য কারও অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে, যদিও ব্যবহারকারী নিজে বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
স্যামসাংয়ের নতুন সিদ্ধান্ত
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্যামসাং জানিয়েছে, যেসব অ্যাপ ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগ অন্যের কাছে উন্মুক্ত করে দেয়, সেগুলো তাদের প্ল্যাটফর্মে আর অনুমোদন পাবে না।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ডেভেলপারদের জন্য নতুন নীতিমালা চালু করছে, যেখানে এই ধরনের “রেসিডেনশিয়াল প্রক্সি” প্রযুক্তি ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ প্রকাশের সুযোগ কমে যাবে।

শুধু স্যামসাং নয়
এই সমস্যা শুধু স্যামসাংয়ের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। সম্প্রতি এলজিও জানিয়েছে, যেসব অ্যাপ স্মার্ট টিভিকে রেসিডেনশিয়াল প্রক্সিতে পরিণত করতে পারে, সেগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রযুক্তি শুধু স্মার্ট টিভিতেই নয়, কিছু বিনামূল্যের ভিপিএন সেবাতেও দেখা গেছে। তাই অজানা উৎসের অ্যাপ ইনস্টল করার আগে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকা উচিত এবং বিশ্বস্ত ডেভেলপারের অ্যাপ ব্যবহার করাই নিরাপদ।
স্যামসাংয়ের এই পদক্ষেপ স্মার্ট টিভি ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও ইন্টারনেট নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















