জুলাই আন্দোলনের ঐতিহাসিক এক দফা দাবি ঘোষণার আগে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের।
সোমবার নিজের ফেসবুকে প্রকাশিত ‘ঐতিহাসিক এক দফার অজানা ইতিহাস’ শিরোনামের একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। সেখানে তিনি এক দফা দাবি ঘোষণার আগে বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন ও অংশীজনের সঙ্গে হওয়া আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার বর্ণনা তুলে ধরেন।
বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা
আবদুল কাদেরের দাবি, এক দফা দাবির ঘোষণা দেওয়ার আগে তিনি বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেন। এ সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরের সঙ্গেও তার আলোচনা হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক দফা দাবির বিষয়টি জানার পর নাসির উদ্দিন নাসির তাকে জানান যে তিনি বিষয়টি ‘চেয়ারম্যান স্যারের’ সঙ্গে আলোচনা করবেন। পরে রাতে নাসির তাকে জানান, পরিস্থিতি এক দফা ঘোষণা করার জন্য উপযুক্ত হয়েছে এবং ‘চেয়ারম্যান স্যারও’ এতে সম্মতি দিয়েছেন। এরপর সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যেতে বলা হয়।

সংগঠনগুলোর ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার দাবি
ফেসবুক পোস্টে আবদুল কাদের আরও দাবি করেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ সংগঠনের ভেতরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এবং ইতিবাচক মতামত জানান। এরপর এক দফা দাবির ঘোষণাপত্র প্রস্তুত ও চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, সে সময় দেশের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। চলমান সহিংসতা এবং আরও প্রাণহানির আশঙ্কার কারণে দ্রুত এক দফা দাবি ঘোষণা করা জরুরি বলে তিনি মনে করেছিলেন।
মতপার্থক্য ছিল, তবু দ্রুত সিদ্ধান্ত
আবদুল কাদেরের ভাষ্য অনুযায়ী, এক দফা দাবি ঘোষণার আগে আন্দোলনের সমন্বয়কদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত ও আলোচনা ছিল। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও দাবি করেন, এক দফা দাবির বিষয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হলেও কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের চাপ বা নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
দাবির স্বাধীন যাচাই হয়নি
আবদুল কাদেরের উত্থাপিত এসব বক্তব্য তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে করা দাবি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















