ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে দারুণ ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। আবদুল্লাহ শফিকের অপরাজিত সেঞ্চুরি এবং বাবর আজমের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১৬৮ রানের জুটিতে সফরকারীরা দিন শেষ করেছে শক্ত অবস্থানে।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২৬৬ রান। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ৩৪৪ রানের চেয়ে তারা এখনও ৭৮ রানে পিছিয়ে থাকলেও হাতে রয়েছে আট উইকেট, যা ম্যাচে তাদের এগিয়ে রাখছে।
প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াকু সংগ্রহ
সোমবার ২৩৯/৫ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরে তারা ৩৪৪ রানে অলআউট হয়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন জাস্টিন গ্রিভস। অধিনায়ক রস্টন চেজও গুরুত্বপূর্ণ ৭০ রানের ইনিংস খেলেন, যা দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ গড়তে সহায়তা করে।
পাকিস্তানের হয়ে অফস্পিনার সাজিদ খান ৪ উইকেট নিয়ে ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। এছাড়া বাঁহাতি স্পিনার আলি উসমান, মোহাম্মদ আলি ও উবায়েদ শাহ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
শফিক-বাবরের দুর্দান্ত জুটি
প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট অনেক বেশি সহায়ক হয়ে ওঠে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করে পাকিস্তান।
আজান আওয়াইস অভিষেক সিরিজেই নিজের প্রথম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন। ৫৫ রানের ইনিংসে তিনি মারেন নয়টি চার। ইমাম-উল-হকের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৪ রান এবং পরে আবদুল্লাহ শফিকের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৬৪ রান যোগ করেন।
আওয়াইসকে জোমেল ওয়ারিকান এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন। মাঠের আম্পায়ার প্রথমে আবেদন নাকচ করলেও রস্টন চেজের রিভিউয়ের পর টেলিভিশন আম্পায়ার সিদ্ধান্ত বদলে দেন।
এরপর ক্রিজে এসে বাবর আজম শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করেন। শফিককে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ১৩৯ বলে ১০০ রানের জুটি গড়েন তারা। দিন শেষে এই জুটি অপরাজিত ১৬৮ রানে পৌঁছে যায়।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর শফিকের সেঞ্চুরি
আবদুল্লাহ শফিক ১৭৩ বলে নিজের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। চারটি চার ও দুটি ছক্কায় তিনি প্রথমে ফিফটি স্পর্শ করেন, পরে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তিন অঙ্কে পৌঁছান। এটি প্রায় দুই বছর পর তার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। সর্বশেষ তিনি ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শতক করেছিলেন।
এই সিরিজের প্রথম টেস্টে না খেলা শফিক দলে ফিরে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করলেন। অন্যদিকে বাবর আজমও অপরাজিত ৮৬ রান করে ৩৩তম টেস্ট অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার।
সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য
দুই ম্যাচের সিরিজে প্রথম টেস্টে ৯০ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ২৮২ রান করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১২০ রানে গুটিয়ে যায় তারা। তাই এবার বড় সংগ্রহ গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই সফরকারীদের প্রধান লক্ষ্য।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে শফিক ও বাবরের জুটি পাকিস্তানকে সেই লক্ষ্য পূরণের পথে শক্ত ভিত এনে দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















