ফিফার ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপের আয়ের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন সংস্থাটির নির্বাহী ও গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার। সাবেক আর্সেনাল কোচের ভাষায়, পরিকল্পনাটি বাতিল করা ছিল “একেবারেই প্রয়োজনীয়”।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফাসহ বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র আপত্তি ওঠার পর শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করা হয়।
বিতর্কের পটভূমি
পরিকল্পনাটি নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র হয় যখন উয়েফার আইনজীবীরা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের সতর্কতা দেন। ওই চিঠিতে আর্সেন ওয়েঙ্গারসহ ফিফার ১৮ জন নির্বাহীর যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য ও নথি সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়।
তবে ওয়েঙ্গার স্পষ্ট করে বলেছেন, এই কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকেই প্রথমবার এ প্রকল্পের বিষয়ে জানতে পারেন।
ওয়েঙ্গারের অবস্থান
২০১৯ সালে ফিফায় যোগ দেওয়া ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি বলেন, তিনি শুরু থেকেই এই প্রকল্পের অংশ ছিলেন না।
তার ভাষায়, “আমি এই কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না এবং গণমাধ্যমের খবর থেকেই প্রথম এ প্রকল্প সম্পর্কে জানতে পারি।”
নিজের বিবৃতিতে তিনি ইনফান্তিনোর নাম উল্লেখ না করলেও বলেন, একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও সততার ভিত্তিতে পরিচালিত ফিফাতেই তিনি বিশ্বাস করেন।

ওয়েঙ্গার বলেন, “প্রকল্পটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ছিল একেবারেই প্রয়োজনীয় এবং এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকার সুযোগ নেই। কারণ আমি এমন একটি স্বাধীন ফিফায় বিশ্বাস করি, যা অঙ্গীকার, স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের সেবা করবে।”
তীব্র বিরোধিতার মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন
বিশ্ব ফুটবলের বিভিন্ন পক্ষের কঠোর বিরোধিতার মুখে ইনফান্তিনো শনিবার ভোরে ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রত্যাহার করেন।
এর আগে উয়েফা সতর্ক করে দিয়েছিল, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলো ফিফার ম্যাচ ও বিভিন্ন আয়োজন বয়কট করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। সেই অবস্থান বিতর্ককে আরও তীব্র করে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত ফিফা পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।
এই ঘটনায় ফিফার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক নীতিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওয়েঙ্গারের মন্তব্যও সেই বিতর্কের মধ্যে সংস্থার স্বাধীনতা ও জবাবদিহির গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















