বিশ্বের এক নম্বর নারী টেনিস খেলোয়াড় আরিনা সাবালেঙ্কা নতুন উদ্দীপনা নিয়ে ইউএস ওপেনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। চলতি বছরের প্রথম তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যামে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় কিছুটা হতাশা থাকলেও, হার্ড কোর্টে ফিরে নিজের সেরা খেলায় ফেরার ব্যাপারে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী। তাঁর বিশ্বাস, মৌলিক কৌশলে ফিরে যাওয়াই আবারও সাফল্যের পথ খুলে দিতে পারে।
কঠিন সময় পেরিয়ে নতুন শুরুর প্রত্যাশা
সাবালেঙ্কার বছরটি শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে হার দিয়ে। এরপর জুনে ফরাসি ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিতে হয় তাঁকে। সর্বশেষ উইম্বলডনেও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেননি। তবে এসব ব্যর্থতাকে বড় সংকট হিসেবে দেখছেন না এই বেলারুশের তারকা।
কানাডিয়ান ওপেন শুরুর আগে তিনি বলেন, মাটি ও ঘাসের কোর্টে নতুন কিছু কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করেছিলেন। প্রত্যাশামতো ফল না এলেও সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন আবার নিজের পরিচিত খেলায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আবারও ভরসা বেসলাইন খেলায়
সাবালেঙ্কার মতে, তাঁর শক্তির বড় জায়গা বেসলাইন থেকে আক্রমণাত্মক খেলা। তাই নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে তিনি আবারও সেই কৌশলকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর আশা, হার্ড কোর্টে এই পরিবর্তন ইতিবাচক ফল এনে দেবে এবং ইউএস ওপেনে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারবেন।
ব্যস্ত সূচি খেলোয়াড়দের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
গ্র্যান্ড স্ল্যামের ধারাবাহিক সূচি নিয়ে সাবালেঙ্কা বলেন, ঘাসের কোর্ট মৌসুমে যারা অনেক দূর পর্যন্ত খেলেন, তাদের জন্য পরে দ্রুত ছন্দে ফেরা সহজ হয় না। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার কারণে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়, যা পরবর্তী টুর্নামেন্টে প্রভাব ফেলে।
তবে হাস্যরসের সঙ্গেই তিনি বলেন, এবার উইম্বলডনে বেশি দূর যেতে না পারায় তিনি কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছেন। সেই বিশ্রাম তাঁকে নতুন শক্তি নিয়ে কোর্টে ফিরতে সাহায্য করেছে।

জোকোভিচের সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জ
ইউএস ওপেন শুরুর আগে অনুষ্ঠিত মিশ্র দ্বৈত প্রতিযোগিতায় সার্বিয়ার কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচের সঙ্গে জুটি বাঁধবেন সাবালেঙ্কা। এই জুটিকে ঘিরে তিনি দারুণ উচ্ছ্বসিত।
তাঁর ভাষায়, জোকোভিচের সঙ্গে খেলা সব সময়ই বিশেষ অভিজ্ঞতা। শুধু অংশগ্রহণ নয়, তাঁদের লক্ষ্য শিরোপা জয়। তাই প্রতিযোগিতাটি যেমন উপভোগ্য হবে, তেমনি হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
নতুন নীতিকেও সমর্থন
নারী পেশাদার টেনিসে অংশগ্রহণের জন্য নতুন যোগ্যতা নীতির অংশ হিসেবে একবারের জিনগত পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা আনার সিদ্ধান্তকেও সমর্থন করেছেন সাবালেঙ্কা। তাঁর মতে, নারী টেনিসে প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা বজায় রাখতে এমন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।
ইউএস ওপেনের আগে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া, বিশ্রামের সুযোগ এবং হার্ড কোর্টে নিজের পরিচিত খেলায় ফেরার পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে সাবালেঙ্কা এবার নতুন প্রত্যাশা নিয়ে মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যামের দিকে তাকিয়ে আছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















