০৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ঘিরে ধোঁয়াশা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলায় বাড়ল বৈশ্বিক জ্বালানি উদ্বেগ অপরাধ দমনের ক্যামেরাই হয়ে উঠছে নজরদারির অস্ত্র! ব্যক্তিগত জীবনে পুলিশের অপব্যবহার নিয়ে তীব্র উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা আরও সহজ, দুই লাখ ডলার আয় পর্যন্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি মওকুফ বিরামপুরে ইউএনও কার্যালয়ে পুলিশ সদস্যকে লাথি, বিএনপি নেতার ছেলেসহ ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা চা খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে বগুড়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নতুন কমিটি, আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: মাঠে হেলমেট ও পাইপ হাতে যুবদল নেতা নয়ন, উত্তপ্ত রাজধানীর শিক্ষাঙ্গন সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব: ‘জাতির পিতা’ স্বীকৃতি বাদ, ফিরতে পারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা: আন্তঃপ্রতিষ্ঠান আমদানি-রপ্তানিতে ঘোষণা প্রক্রিয়া সহজ হলো

এশিয়ান গেমস দলে বাদ পড়েও ইতিহাস গড়লেন অঙ্কুর, কমনওয়েলথ টেবিল টেনিসে এককের শিরোপা

ভারতের তরুণ টেবিল টেনিস খেলোয়াড় অঙ্কুর ভট্টাচার্য নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেছেন কমনওয়েলথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে পুরুষ এককের শিরোপা জিতে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি এমন এক অর্জনের স্বাক্ষর রাখলেন, যা এসেছে এশিয়ান গেমসের ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়ার হতাশার ঠিক পরেই। এই জয়কে তিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

হতাশাকে শক্তিতে বদলে দেওয়ার গল্প

ফাইনালে পায়াস জৈনকে হারানোর পর অঙ্কুরের আবেগ ছিল স্পষ্ট। র্যাকেট ফেলে দর্শকদের উদ্দেশে উচ্ছ্বাস প্রকাশ, গ্যালারির দিকে ভালোবাসার চুম্বন ছুড়ে দেওয়া এবং পরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে ক্রীড়াসুলভ আলিঙ্গন—সব মিলিয়ে এটি ছিল শুধু একটি শিরোপা জয়ের উদযাপন নয়, বরং নিজের সামর্থ্যের জোরালো ঘোষণা।

কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি ভারতের কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপ দল এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ এশিয়ান গেমসের দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের পর অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছিল, তিনি আদৌ দেশের সেরাদের একজন কি না। অঙ্কুর সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন কোর্টেই।

‘জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা’

অঙ্কুর জানিয়েছেন, এই প্রতিযোগিতা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসর। তাঁর ভাষায়, তিনি নিজেকে এবং অন্য সবাইকে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে ভারতীয় দল ও এশিয়ান গেমসের দলে থাকার যোগ্যতা তাঁর রয়েছে।

তিনি বলেন, সব প্রতিযোগিতাকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে খেলেন। তবে এই টুর্নামেন্টে নিজেকে প্রমাণ করার বাড়তি তাগিদ ছিল। কারণ অনেকেই মনে করেছিলেন, স্বাগতিক দেশের অতিরিক্ত কোটার সুযোগেই তিনি অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

After missing Asian Games spot, Ankur Bhattacharjee vindicates himself with Commonwealth C'ships title - Sportstar

সমালোচনাই হয়ে উঠল অনুপ্রেরণা

অঙ্কুর স্বীকার করেছেন, সমালোচনা তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে। তিনি বলেন, মানুষ যখন তাঁর সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে, তখন সেটিই তাঁকে ভালো খেলতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।

তাঁর বিশ্বাস, ধারাবাহিকভাবে নিজের সেরা খেলাটি খেলতে পারলে বিশ্বের যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর সামর্থ্য তাঁর রয়েছে।

সামনে ইউরোপের বড় চ্যালেঞ্জ

সবচেয়ে বড় শিরোপা জয়ের আনন্দ উপভোগ করার খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না অঙ্কুর। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি সুইডেনে অনুষ্ঠিতব্য ইউরোপ স্ম্যাশ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে রওনা হবেন। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে নিজেকে আরও একবার প্রমাণ করার সুযোগ দেখছেন তিনি।

অঙ্কুরের লক্ষ্য, সেখানে গিয়েও পদক জিতে নিজের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

এশিয়ান গেমস দলে সুযোগ না পাওয়ার হতাশা থেকে কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই যাত্রা ভারতীয় টেবিল টেনিসে নতুন এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকল। তরুণ এই খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স এখন ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোর দিকেও বাড়িয়ে দিয়েছে প্রত্যাশার মাত্রা।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ঘিরে ধোঁয়াশা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলায় বাড়ল বৈশ্বিক জ্বালানি উদ্বেগ

এশিয়ান গেমস দলে বাদ পড়েও ইতিহাস গড়লেন অঙ্কুর, কমনওয়েলথ টেবিল টেনিসে এককের শিরোপা

০৬:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের তরুণ টেবিল টেনিস খেলোয়াড় অঙ্কুর ভট্টাচার্য নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেছেন কমনওয়েলথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে পুরুষ এককের শিরোপা জিতে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি এমন এক অর্জনের স্বাক্ষর রাখলেন, যা এসেছে এশিয়ান গেমসের ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়ার হতাশার ঠিক পরেই। এই জয়কে তিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

হতাশাকে শক্তিতে বদলে দেওয়ার গল্প

ফাইনালে পায়াস জৈনকে হারানোর পর অঙ্কুরের আবেগ ছিল স্পষ্ট। র্যাকেট ফেলে দর্শকদের উদ্দেশে উচ্ছ্বাস প্রকাশ, গ্যালারির দিকে ভালোবাসার চুম্বন ছুড়ে দেওয়া এবং পরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে ক্রীড়াসুলভ আলিঙ্গন—সব মিলিয়ে এটি ছিল শুধু একটি শিরোপা জয়ের উদযাপন নয়, বরং নিজের সামর্থ্যের জোরালো ঘোষণা।

কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি ভারতের কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপ দল এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ এশিয়ান গেমসের দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের পর অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছিল, তিনি আদৌ দেশের সেরাদের একজন কি না। অঙ্কুর সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন কোর্টেই।

‘জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা’

অঙ্কুর জানিয়েছেন, এই প্রতিযোগিতা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসর। তাঁর ভাষায়, তিনি নিজেকে এবং অন্য সবাইকে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে ভারতীয় দল ও এশিয়ান গেমসের দলে থাকার যোগ্যতা তাঁর রয়েছে।

তিনি বলেন, সব প্রতিযোগিতাকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে খেলেন। তবে এই টুর্নামেন্টে নিজেকে প্রমাণ করার বাড়তি তাগিদ ছিল। কারণ অনেকেই মনে করেছিলেন, স্বাগতিক দেশের অতিরিক্ত কোটার সুযোগেই তিনি অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

After missing Asian Games spot, Ankur Bhattacharjee vindicates himself with Commonwealth C'ships title - Sportstar

সমালোচনাই হয়ে উঠল অনুপ্রেরণা

অঙ্কুর স্বীকার করেছেন, সমালোচনা তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে। তিনি বলেন, মানুষ যখন তাঁর সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে, তখন সেটিই তাঁকে ভালো খেলতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।

তাঁর বিশ্বাস, ধারাবাহিকভাবে নিজের সেরা খেলাটি খেলতে পারলে বিশ্বের যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর সামর্থ্য তাঁর রয়েছে।

সামনে ইউরোপের বড় চ্যালেঞ্জ

সবচেয়ে বড় শিরোপা জয়ের আনন্দ উপভোগ করার খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না অঙ্কুর। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি সুইডেনে অনুষ্ঠিতব্য ইউরোপ স্ম্যাশ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে রওনা হবেন। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে নিজেকে আরও একবার প্রমাণ করার সুযোগ দেখছেন তিনি।

অঙ্কুরের লক্ষ্য, সেখানে গিয়েও পদক জিতে নিজের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

এশিয়ান গেমস দলে সুযোগ না পাওয়ার হতাশা থেকে কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই যাত্রা ভারতীয় টেবিল টেনিসে নতুন এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকল। তরুণ এই খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স এখন ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোর দিকেও বাড়িয়ে দিয়েছে প্রত্যাশার মাত্রা।