ভারতের তরুণ টেবিল টেনিস খেলোয়াড় অঙ্কুর ভট্টাচার্য নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেছেন কমনওয়েলথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে পুরুষ এককের শিরোপা জিতে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি এমন এক অর্জনের স্বাক্ষর রাখলেন, যা এসেছে এশিয়ান গেমসের ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়ার হতাশার ঠিক পরেই। এই জয়কে তিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
হতাশাকে শক্তিতে বদলে দেওয়ার গল্প
ফাইনালে পায়াস জৈনকে হারানোর পর অঙ্কুরের আবেগ ছিল স্পষ্ট। র্যাকেট ফেলে দর্শকদের উদ্দেশে উচ্ছ্বাস প্রকাশ, গ্যালারির দিকে ভালোবাসার চুম্বন ছুড়ে দেওয়া এবং পরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে ক্রীড়াসুলভ আলিঙ্গন—সব মিলিয়ে এটি ছিল শুধু একটি শিরোপা জয়ের উদযাপন নয়, বরং নিজের সামর্থ্যের জোরালো ঘোষণা।
কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি ভারতের কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপ দল এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ এশিয়ান গেমসের দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের পর অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছিল, তিনি আদৌ দেশের সেরাদের একজন কি না। অঙ্কুর সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন কোর্টেই।
‘জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা’
অঙ্কুর জানিয়েছেন, এই প্রতিযোগিতা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসর। তাঁর ভাষায়, তিনি নিজেকে এবং অন্য সবাইকে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে ভারতীয় দল ও এশিয়ান গেমসের দলে থাকার যোগ্যতা তাঁর রয়েছে।
তিনি বলেন, সব প্রতিযোগিতাকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে খেলেন। তবে এই টুর্নামেন্টে নিজেকে প্রমাণ করার বাড়তি তাগিদ ছিল। কারণ অনেকেই মনে করেছিলেন, স্বাগতিক দেশের অতিরিক্ত কোটার সুযোগেই তিনি অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
সমালোচনাই হয়ে উঠল অনুপ্রেরণা
অঙ্কুর স্বীকার করেছেন, সমালোচনা তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে। তিনি বলেন, মানুষ যখন তাঁর সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে, তখন সেটিই তাঁকে ভালো খেলতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।
তাঁর বিশ্বাস, ধারাবাহিকভাবে নিজের সেরা খেলাটি খেলতে পারলে বিশ্বের যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর সামর্থ্য তাঁর রয়েছে।
সামনে ইউরোপের বড় চ্যালেঞ্জ
সবচেয়ে বড় শিরোপা জয়ের আনন্দ উপভোগ করার খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না অঙ্কুর। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি সুইডেনে অনুষ্ঠিতব্য ইউরোপ স্ম্যাশ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে রওনা হবেন। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে নিজেকে আরও একবার প্রমাণ করার সুযোগ দেখছেন তিনি।
অঙ্কুরের লক্ষ্য, সেখানে গিয়েও পদক জিতে নিজের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
এশিয়ান গেমস দলে সুযোগ না পাওয়ার হতাশা থেকে কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই যাত্রা ভারতীয় টেবিল টেনিসে নতুন এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকল। তরুণ এই খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স এখন ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোর দিকেও বাড়িয়ে দিয়েছে প্রত্যাশার মাত্রা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















