০৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
ছোট লিফট নাকি নিরাপদ লিফট? যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্কে প্রতিবন্ধী মানুষের উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ঘিরে ধোঁয়াশা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলায় বাড়ল বৈশ্বিক জ্বালানি উদ্বেগ অপরাধ দমনের ক্যামেরাই হয়ে উঠছে নজরদারির অস্ত্র! ব্যক্তিগত জীবনে পুলিশের অপব্যবহার নিয়ে তীব্র উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা আরও সহজ, দুই লাখ ডলার আয় পর্যন্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি মওকুফ বিরামপুরে ইউএনও কার্যালয়ে পুলিশ সদস্যকে লাথি, বিএনপি নেতার ছেলেসহ ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা চা খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে বগুড়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নতুন কমিটি, আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: মাঠে হেলমেট ও পাইপ হাতে যুবদল নেতা নয়ন, উত্তপ্ত রাজধানীর শিক্ষাঙ্গন সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব: ‘জাতির পিতা’ স্বীকৃতি বাদ, ফিরতে পারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার

সোনালী ব্যাংকের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ শাখায় ঋণসীমা পুরোপুরি প্রত্যাহার, বড় ঋণ বিতরণে খুলল নতুন সুযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট শাখায় দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা ঋণ বিতরণের সর্বোচ্চ সীমা পুরোপুরি তুলে দিয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো এখন যথাযথ যাচাই-বাছাই ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনার আওতায় ঢাকার লোকাল অফিস, ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখা, শিল্প ভবন করপোরেট শাখা, শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ করপোরেট শাখা এবং চট্টগ্রামের লালদীঘি করপোরেট শাখা থেকে ঋণ বিতরণে আর কোনো নির্ধারিত সীমা থাকবে না। সোনালী ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে।

ঋণসীমা প্রত্যাহারের আগে এসব শাখায় শাখাভেদে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণের সীমা কার্যকর ছিল।

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং বড় করপোরেট গ্রাহকদের অর্থায়নের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ঋণসীমা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছিল।

ব্যাংকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাদের অধিকাংশ বড় ও সুনামধন্য গ্রাহকের হিসাব এই পাঁচটি শাখায় পরিচালিত হয়। কিন্তু বিদ্যমান ঋণসীমার কারণে এসব গ্রাহকের অর্থায়নের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। বিষয়টি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

সব শাখায় সমানভাবে ঋণ অনুমোদনের সুযোগ

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সোনালী ব্যাংকের সব শাখাই এখন প্রচলিত ঝুঁকি মূল্যায়ন নীতিমালা অনুসরণ করে যোগ্য গ্রাহকদের ঋণ আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ও অনুমোদনের সুযোগ পাবে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, নতুন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করতে হবে এবং বিতর্কিত বা উচ্চ ঝুঁকির ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সোনালী ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পূর্বের ঋণসীমার কারণে অনেক যোগ্য গ্রাহককে অর্থায়ন দেওয়া সম্ভব হতো না। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় এখন নিয়মিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত গ্রাহকদের ঋণ দেওয়া সহজ হবে।

সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে সীমাবদ্ধতা

এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় ঋণ বিতরণের সীমাবদ্ধতা কয়েক বছর আগে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে আরোপ করা হয়েছিল। পরে বহুল আলোচিত হল-মার্ক ঋণ কেলেঙ্কারির পর নজরদারি ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়।

এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক লোকাল অফিস শাখার ঋণসীমা ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকায় উন্নীত করে। পরে জুলাই মাসে সোনালী ব্যাংক সব ধরনের সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহারের আবেদন করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচটি শাখার বাকি সব ঋণসীমাও তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

সোনালী ব্যাংকের পাঁচ শাখার ঋণসীমা তুলে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় করপোরেট গ্রাহকদের অর্থায়নের পথ উন্মুক্ত করেছে, তবে যথাযথ যাচাই ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা বহাল রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট লিফট নাকি নিরাপদ লিফট? যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্কে প্রতিবন্ধী মানুষের উদ্বেগ

সোনালী ব্যাংকের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ শাখায় ঋণসীমা পুরোপুরি প্রত্যাহার, বড় ঋণ বিতরণে খুলল নতুন সুযোগ

০৭:১০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট শাখায় দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা ঋণ বিতরণের সর্বোচ্চ সীমা পুরোপুরি তুলে দিয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো এখন যথাযথ যাচাই-বাছাই ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনার আওতায় ঢাকার লোকাল অফিস, ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখা, শিল্প ভবন করপোরেট শাখা, শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ করপোরেট শাখা এবং চট্টগ্রামের লালদীঘি করপোরেট শাখা থেকে ঋণ বিতরণে আর কোনো নির্ধারিত সীমা থাকবে না। সোনালী ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে।

ঋণসীমা প্রত্যাহারের আগে এসব শাখায় শাখাভেদে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণের সীমা কার্যকর ছিল।

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং বড় করপোরেট গ্রাহকদের অর্থায়নের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ঋণসীমা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছিল।

ব্যাংকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাদের অধিকাংশ বড় ও সুনামধন্য গ্রাহকের হিসাব এই পাঁচটি শাখায় পরিচালিত হয়। কিন্তু বিদ্যমান ঋণসীমার কারণে এসব গ্রাহকের অর্থায়নের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। বিষয়টি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

সব শাখায় সমানভাবে ঋণ অনুমোদনের সুযোগ

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সোনালী ব্যাংকের সব শাখাই এখন প্রচলিত ঝুঁকি মূল্যায়ন নীতিমালা অনুসরণ করে যোগ্য গ্রাহকদের ঋণ আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ও অনুমোদনের সুযোগ পাবে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, নতুন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করতে হবে এবং বিতর্কিত বা উচ্চ ঝুঁকির ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সোনালী ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পূর্বের ঋণসীমার কারণে অনেক যোগ্য গ্রাহককে অর্থায়ন দেওয়া সম্ভব হতো না। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় এখন নিয়মিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত গ্রাহকদের ঋণ দেওয়া সহজ হবে।

সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে সীমাবদ্ধতা

এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় ঋণ বিতরণের সীমাবদ্ধতা কয়েক বছর আগে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে আরোপ করা হয়েছিল। পরে বহুল আলোচিত হল-মার্ক ঋণ কেলেঙ্কারির পর নজরদারি ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়।

এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক লোকাল অফিস শাখার ঋণসীমা ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকায় উন্নীত করে। পরে জুলাই মাসে সোনালী ব্যাংক সব ধরনের সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহারের আবেদন করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচটি শাখার বাকি সব ঋণসীমাও তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

সোনালী ব্যাংকের পাঁচ শাখার ঋণসীমা তুলে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় করপোরেট গ্রাহকদের অর্থায়নের পথ উন্মুক্ত করেছে, তবে যথাযথ যাচাই ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা বহাল রাখা হয়েছে।