বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নানা রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে ধাক্কা খেলেও এই রূপান্তর থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার এখন শুধু সরকারি ভর্তুকি বা নীতির ওপর নির্ভরশীল নয়; প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি, বাজারের চাহিদা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের ফলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের গতি কিছুটা কমতে পারে এবং বিদ্যুতের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও আগামী এক দশকে পরিকল্পিত নতুন পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে কার্বন নিঃসরণও উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে।
অনুমোদন প্রক্রিয়াই বড় বাধা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের সবচেয়ে বড় সমস্যা অর্থায়ন নয়, বরং দীর্ঘ ও জটিল অনুমোদন প্রক্রিয়া। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা সঞ্চালন লাইন নির্মাণে বছরের পর বছর বিলম্ব হওয়ায় অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নই সম্ভব হয় না। দ্রুত ও স্বচ্ছ অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করা গেলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বিস্তার আরও অনেক দ্রুত হতে পারে।
ভর্তুকির চেয়ে বাজারের শক্তি বেশি কার্যকর
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রযুক্তি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী। ফলে এগুলোর বিস্তারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর-ছাড় বা ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা আগের মতো নেই। বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা এবং ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নয়নই নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চ্যালেঞ্জ
পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়লেও বিদ্যুৎ সরবরাহের নিরবচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অন্যতম প্রধান উৎস। তাই জীবাশ্ম জ্বালানি একেবারে বাদ দেওয়ার পরিবর্তে এর দূষণ কমানোর বাস্তবসম্মত নীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতের ভরসা নতুন প্রযুক্তি
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে ভূতাপীয় শক্তি, উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি, কার্বন ধারণ ও সংরক্ষণ এবং ফিউশন শক্তির মতো নির্ভরযোগ্য পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তিই জ্বালানি ব্যবস্থার রূপ বদলে দিতে পারে। এসব প্রযুক্তিতে এখন থেকেই বিনিয়োগ বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে পরিচ্ছন্ন, স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
পরিবর্তনের গতি কমতে পারে, দিক নয়
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পরিচ্ছন্ন জ্বালানির অগ্রগতির গতি কমাতে পারে, কিন্তু সেই যাত্রার দিক পরিবর্তন করতে পারে না। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, শিল্পখাতের বিনিয়োগ এবং ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদাই আগামী দিনের জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও পরিচ্ছন্ন ও টেকসই করে তুলবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















