মানবজাতির তৈরি আরেকটি বস্তু এবার চাঁদের বুকে আঘাত হানতে যাচ্ছে। ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি ফ্যালকন-৯ রকেটের একটি পরিত্যক্ত অংশ আগামী বুধবার চাঁদের পৃষ্ঠে অনিচ্ছাকৃতভাবে আছড়ে পড়বে।
চার টনের রকেট অংশের ভয়ংকর আঘাত
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, রকেটের উপরের অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদের মাটিতে আঘাত করবে। এই গতি একটি রাইফেলের গুলির গতির চেয়েও দ্বিগুণের বেশি। প্রচণ্ড গতির কারণে আঘাতের মুহূর্তে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হবে এবং ক্ষণিকের জন্য আলোর ঝলক দেখা যেতে পারে।
আঘাতের পর চাঁদের ধুলো ও পাথরের কণা কয়েক মিনিট ধরে ওপরে উঠে আবার নিচে নেমে আসতে পারে। তবে পৃথিবী থেকে এই দৃশ্য দেখা যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
দূরবীনে দেখা যেতে পারে বিস্ময়কর মুহূর্ত

জ্যোতির্বিজ্ঞানী বিল গ্রে, যিনি প্রথম এই সম্ভাব্য সংঘর্ষের বিষয়টি শনাক্ত করেন, জানিয়েছেন—রকেটটি এমন একটি স্থানে আঘাত করবে যেখানে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণের কিছুটা সুযোগ রয়েছে।
তার মতে, দূরবীনের মাধ্যমে হয়তো এই সংঘর্ষের ঝলক দেখা যেতে পারে। তবে বিষয়টি অনেকটাই অনিশ্চিত। কারণ আলোর ঝলক খুব বেশি উজ্জ্বল নাও হতে পারে এবং চাঁদের উজ্জ্বল পৃষ্ঠের কারণে ধুলোর মেঘ স্পষ্টভাবে দেখা কঠিন হতে পারে।
চাঁদের বুকে মানুষের তৈরি বস্তুর নতুন দাগ
পৃথিবীর নিকটতম মহাজাগতিক প্রতিবেশী চাঁদে মানুষের তৈরি বস্তুর উপস্থিতি নতুন নয়। বিভিন্ন দেশের মহাকাশ অভিযান শেষে অনেক যন্ত্রাংশ ও ধ্বংসাবশেষ সেখানে পড়ে আছে। তবে এবারের ঘটনা আবারও মহাকাশ আবর্জনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

ভবিষ্যতে চাঁদে স্পেসএক্সের বড় পরিকল্পনা
স্পেসএক্স ভবিষ্যতে বিশাল আকারের স্টারশিপ মহাকাশযানের মাধ্যমে নাসার নভোচারী ও সরঞ্জাম চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে এখন পর্যন্ত স্পেসএক্সের তৈরি কোনো মহাকাশযান চাঁদে পৌঁছাতে পারেনি বা চাঁদের কক্ষপথেও প্রবেশ করেনি।
এই অনিচ্ছাকৃত সংঘর্ষ তাই শুধু একটি মহাজাগতিক ঘটনা নয়, বরং ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানে মহাকাশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















