লিওনেল মেসির জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইন্টার মায়ামি। বুধবার রাতে বৃষ্টিবিঘ্নিত লিগস কাপের ম্যাচে আতলেতিকো সান লুইসকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটি। এই ম্যাচে দুটি গোল করে লিগস কাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও নিজের করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় নু স্টেডিয়ামে। বজ্রপাতের আশঙ্কায় দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় ৩০ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল। বিরতির পর খেলা শুরু হলে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে ইন্টার মায়ামি।
মেসির দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
ক্লাব বিশ্বকাপের পর এটি ছিল মেসির দ্বিতীয় ম্যাচ। এর আগে কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে গোল করতে পারেননি তিনি। তবে সান লুইসের বিপক্ষে শুরু থেকেই মাঠে নেমে দ্রুতই নিজের ছন্দে ফিরে আসেন।

ম্যাচের মাত্র চার মিনিটে ডেভিড রদ্রিগেসের হেডে এগিয়ে যায় সান লুইস। তবে ১১তম মিনিটেই সমতা ফেরান মেসি। নোয়া অ্যালেনের দীর্ঘ পাস প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক আন্দ্রেস সানচেজকে ফাঁকি দিয়ে মেসির কাছে পৌঁছালে তিনি সুযোগটি কাজে লাগান।
প্রথমার্ধের শেষদিকে আবারও গোল করেন মেসি। কাছ থেকে নেওয়া তার নিখুঁত শটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি। যোগ করা সময়ে মিকায়েলের হেডে করা গোলেও সহায়তা করেন তিনি।
রেকর্ড গড়লেন মেসি
এই দুই গোলের মাধ্যমে লিগস কাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ ম্যাচে ১৪। এতে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির ডেনিস বুয়াঙ্গাকে ছাড়িয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে উঠেছেন।
মেসির পাশাপাশি ইন্টার মায়ামির হয়ে আরও গোল করেন তেলাস্কো সেগোভিয়া ও ডিফেন্ডার মিকায়েল। তিনটি অ্যাসিস্ট করে জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন নোয়া অ্যালেন। এই জয়ের ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা আট ম্যাচ অপরাজিত থাকল ইন্টার মায়ামি।
সান লুইসের লড়াই
সান লুইসের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন রাফা লোরেন্তে। তবে মেসির নেতৃত্বে আক্রমণাত্মক ইন্টার মায়ামির সামনে শেষ পর্যন্ত তারা টিকতে পারেনি।
সুয়ারেজের অনুপস্থিতি
ইন্টার মায়ামিকে ২০২৩ সালে লিগস কাপের শিরোপা জেতানোর নায়ক ছিলেন মেসি। গত বছরও দলটি ফাইনালে উঠেছিল, তবে সিয়াটলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়। সেই ম্যাচের শেষদিকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় লুইস সুয়ারেজকে ছয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।
সেই নিষেধাজ্ঞার কারণেই বুধবারের ম্যাচে খেলতে পারেননি উরুগুয়ান এই ফরোয়ার্ড। ফলে চলতি বছরের লিগস কাপেও তাকে দেখা যাবে না। অথচ এর আগে নিজের সর্বশেষ চার ম্যাচে সাতটি গোল করেছিলেন তিনি।




















