যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী সামরিক হেলিকপ্টার মেরিন ওয়ান ও একটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানের মধ্যে নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্ব বজায় ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে হোয়াইট হাউস এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, পুরো ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই ঝুঁকির মুখে ছিলেন না।
কী ঘটেছিল
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের আকাশে মেরিন ওয়ান ও একটি যাত্রীবাহী বিমানের মধ্যে দূরত্ব নিয়ে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আকাশপথ নিয়ন্ত্রণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগে অস্পষ্টতা তৈরি হওয়ার পর দুই উড়োজাহাজের মধ্যে নিরাপদ বিচ্ছিন্নতার নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি বাণিজ্যিক বিমানের সঙ্গে মেরিন ওয়ানের মধ্যকার সম্ভাব্য নিরাপত্তা দূরত্ব লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের বক্তব্য
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেসাই বলেন, মেরিন ওয়ান বিশ্বের অন্যতম দক্ষ সামরিক বৈমানিকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুরো ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরাপত্তা কোনো মুহূর্তেই হুমকির মুখে পড়েনি।
একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসনও। সংস্থাটি জানায়, সংশ্লিষ্ট সময়ে আকাশপথ নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা বাণিজ্যিক বিমানের পাইলট এবং মেরিন ওয়ানের পাইলট—উভয়ের সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষা করেছিলেন। তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার সময় কী হচ্ছিল
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে একটি আমেরিকান এয়ারলাইনসের আঞ্চলিক যাত্রীবাহী বিমান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। একই সময়ে মেরিন ওয়ান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটির দিকে যাচ্ছিল। সেখানে পৌঁছে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া সফরের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমানে আরোহন করেন।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুই উড়োজাহাজের মধ্যে দূরত্ব নির্ধারিত মানের চেয়ে কমে গিয়েছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়।
নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দরের কাছে একটি যাত্রীবাহী বিমান ও মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ৬৭ জন নিহত হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কঠোর করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি এবং এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেই সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















