০৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
বিজয় সরকারের প্রথম বাজেটে জনকল্যাণ ও আর্থিক শৃঙ্খলার সমন্বয়ের চেষ্টা জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য তেল কোম্পানি নয়, নীতিনির্ধারণের মূল্যই দিচ্ছে বিশ্ব সংসদ অচলাবস্থা কাটাতে রাহুলের সঙ্গে বৈঠক, বিরোধীদের শর্তে চাপে সরকার তসলিমা নাসরিনের কলকাতা প্রত্যাবর্তন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ইমেশা দুলানি সপ্তাহের সেরা ক্রিকেটার: অপরাজিত শতকে পাকিস্তানকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কার দাপুটে জয় যৌন সহিংসতা, উপনিবেশবাদ ও ফিলিস্তিন: রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এক অন্ধকার ইতিহাস পশ্চিম আফ্রিকার কাদামাটি কচ্ছপ: কাদার আড়ালে টিকে থাকার এক বিস্ময় উচ্চশিক্ষায় নতুন সমীকরণ, বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া চীনের পাল্টা পদক্ষেপে স্পষ্ট বাণিজ্যযুদ্ধের নতুন কৌশল চীন-রাশিয়ার যৌথ নৌ টহল ঘিরে জাপানের উদ্বেগ, কী বার্তা দিচ্ছে দুই দেশ?

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় সংকট, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ নেমেছে এক-তৃতীয়াংশে

রাশিয়ার ধারাবাহিক ও তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে চাপে পড়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে ইউক্রেন যে পরিমাণ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে, তা ২০২৫ সালের তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। এই ঘাটতির কারণে রাজধানী কিয়েভসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে রক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ

জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের সরবরাহ কমে যাওয়া কেবল সাময়িক সমস্যা নয়। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধজুড়েই এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এই সংকটের অন্যতম কারণ হলেও শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনকে আরও ছাড় দিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যেও সরবরাহে বিলম্ব ঘটানো হতে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কিয়েভে বাড়ছে রুশ হামলার তীব্রতা

জুলাই মাসে গড়ে প্রতি তিন দিন অন্তর কিয়েভে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলায় ছোড়া ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি জিরকন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটিও প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। এটি ইউক্রেনের বর্তমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

শীতের আগে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে রাশিয়া

জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, আসন্ন শীতকে সামনে রেখে রাশিয়া তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তার আশঙ্কা, শীতকালে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যাপক হামলা শুরু হতে পারে।

Zelenskyy calls for more air defences as Russian attack on Kyiv kills at  least 17 | Ukraine | The Guardian

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ

ইউক্রেনের দাবি, দীর্ঘ বিরতির পর রাশিয়া আবারও উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে। ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে ছয়টি উৎক্ষেপণযন্ত্র এবং প্রায় ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে মস্কো বা পিয়ংইয়ং কোনো মন্তব্য করেনি।

ক্ষয়যুদ্ধের নতুন পর্যায়

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নবিষয়ক প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তনভের মতে, রাশিয়া প্রতি মাসে প্রায় ১০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা অর্জন করেছে। এসব হামলার লক্ষ্য হচ্ছে ইউক্রেনের সরবরাহ কেন্দ্র, শিল্পকারখানা, খাদ্যগুদাম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তার ভাষায়, যুদ্ধ এখন নতুন এক ক্ষয়যুদ্ধের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলের খোঁজে কিয়েভ

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত সীমিত হয়ে পড়ায় ইউক্রেন এখন বিকল্প কৌশলের ওপর জোর দিচ্ছে। দেশটি রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যদিও বর্তমান সামরিক সক্ষমতায় তা পুরোপুরি সম্ভব নয়। পাশাপাশি ইউক্রেন ইউরোপজুড়ে সমন্বিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিজ দেশে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে লাইসেন্সও চেয়েছে।

রাশিয়ার হামলার তীব্রতা বাড়তে থাকা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শীতের আগে আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করা দেশটির জন্য এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিজয় সরকারের প্রথম বাজেটে জনকল্যাণ ও আর্থিক শৃঙ্খলার সমন্বয়ের চেষ্টা

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় সংকট, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ নেমেছে এক-তৃতীয়াংশে

০৫:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

রাশিয়ার ধারাবাহিক ও তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে চাপে পড়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে ইউক্রেন যে পরিমাণ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে, তা ২০২৫ সালের তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। এই ঘাটতির কারণে রাজধানী কিয়েভসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে রক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ

জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের সরবরাহ কমে যাওয়া কেবল সাময়িক সমস্যা নয়। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধজুড়েই এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এই সংকটের অন্যতম কারণ হলেও শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনকে আরও ছাড় দিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যেও সরবরাহে বিলম্ব ঘটানো হতে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কিয়েভে বাড়ছে রুশ হামলার তীব্রতা

জুলাই মাসে গড়ে প্রতি তিন দিন অন্তর কিয়েভে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলায় ছোড়া ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি জিরকন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটিও প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। এটি ইউক্রেনের বর্তমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

শীতের আগে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে রাশিয়া

জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, আসন্ন শীতকে সামনে রেখে রাশিয়া তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তার আশঙ্কা, শীতকালে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যাপক হামলা শুরু হতে পারে।

Zelenskyy calls for more air defences as Russian attack on Kyiv kills at  least 17 | Ukraine | The Guardian

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ

ইউক্রেনের দাবি, দীর্ঘ বিরতির পর রাশিয়া আবারও উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে। ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে ছয়টি উৎক্ষেপণযন্ত্র এবং প্রায় ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে মস্কো বা পিয়ংইয়ং কোনো মন্তব্য করেনি।

ক্ষয়যুদ্ধের নতুন পর্যায়

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নবিষয়ক প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তনভের মতে, রাশিয়া প্রতি মাসে প্রায় ১০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা অর্জন করেছে। এসব হামলার লক্ষ্য হচ্ছে ইউক্রেনের সরবরাহ কেন্দ্র, শিল্পকারখানা, খাদ্যগুদাম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তার ভাষায়, যুদ্ধ এখন নতুন এক ক্ষয়যুদ্ধের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলের খোঁজে কিয়েভ

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত সীমিত হয়ে পড়ায় ইউক্রেন এখন বিকল্প কৌশলের ওপর জোর দিচ্ছে। দেশটি রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যদিও বর্তমান সামরিক সক্ষমতায় তা পুরোপুরি সম্ভব নয়। পাশাপাশি ইউক্রেন ইউরোপজুড়ে সমন্বিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিজ দেশে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে লাইসেন্সও চেয়েছে।

রাশিয়ার হামলার তীব্রতা বাড়তে থাকা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শীতের আগে আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করা দেশটির জন্য এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।