যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক পদক্ষেপের জবাবে চীন যে নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তা বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন এখন শুধু শুল্ক আরোপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রযুক্তি, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং নির্দিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক কৌশল আরও শক্তিশালী করছে। এর ফলে বাণিজ্যিক বিরোধে চীনের হাতে থাকা বিকল্প ব্যবস্থার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ওয়েন্ডি কাটলারের মতে, চীনের সর্বশেষ পদক্ষেপগুলো স্পষ্টভাবে দেখায় যে দেশটি প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এখন অনেক বেশি প্রস্তুত এবং বহুমাত্রিক কৌশল ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, চীনের একাধিক পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে তাদের পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা ও ব্যবহারের ক্ষেত্র আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। সে সময় বেইজিংয়ের প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সক্ষমতা ও আগ্রহ তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল, কিন্তু এখন চীন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও কৌশলগতভাবে সংগঠিত অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা আগামী দিনে আরও জটিল হতে পারে। উভয় দেশই এখন অর্থনৈতিক ও শিল্পনীতি ব্যবহার করে একে অপরের ওপর চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নিচ্ছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















