সিলেট ও বগুড়ায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় শুক্রবার সকালে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। দুটি দুর্ঘটনাই মহাসড়কে ঘটেছে এবং নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
সিলেটে মুখোমুখি বাস সংঘর্ষে ৯ জনের মৃত্যু
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সকাল প্রায় ৭টার দিকে ঢাকাগামী একটি ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই বাসটির সাত যাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজন মারা যান। নিহতদের সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিনা লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৫০), ঢাকার বিক্রমপুর এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের তিন বছর বয়সী মেয়ে জাইফা ইসলাম এবং সিলেট নগরের শোভানীঘাট এলাকার সপ্তম রায় (২২)।
আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাইফা ইসলামকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আরও একজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
দুর্ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বগুড়ায় শ্রমিকদের ওপর বাস উঠে নিহত ৭
অন্যদিকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকাগামী-নওগাঁগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এরপর সড়কের পাশে কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের ওপর উঠে যায় বাসটি।
এ ঘটনায় সাতজন নিহত হন এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন জয়পুরহাটের তাজমুল (৪৫), বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোর ইউনিয়নের বেলাল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আমিরুল এবং নূর আলম।
আহতদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহও ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
যান চলাচলে বিঘ্ন
বগুড়ার দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হলে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার কারণ এবং দায় নির্ধারণে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















