স্কটল্যান্ডের সমুদ্রতীরবর্তী শান্ত শহর নর্থ বারউইকে নতুন পার্কিং ব্যবস্থা ঘিরে শুরু হয়েছে অদ্ভুত এক সংঘাত। শহরের বিভিন্ন স্থানে বসানো নতুন পার্কিং মিটার একের পর এক ভাঙচুরের শিকার হচ্ছে। রাতের আঁধারে কেউ সুপার গ্লু ও প্রসারণশীল ফোম ব্যবহার করে মিটারগুলো অচল করে দিচ্ছে। বহু মিটার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই রহস্যময় ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে গেলেও শহরের অনেক বাসিন্দার মধ্যে ওই ব্যক্তির প্রতি প্রকাশ্য বা নীরব সমর্থনের ইঙ্গিত মিলছে। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই নতুন পার্কিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বাড়ছে
স্থানীয় দোকান মালিকদের দাবি, নতুন পার্কিং নিয়ম এতটাই জটিল যে অনেক ক্রেতা কোথায় কতক্ষণ গাড়ি রাখা যাবে তা বুঝতে পারেন না। ভুল জায়গায় গাড়ি রাখলে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে অনেকে শহরে আসাই কমিয়ে দিয়েছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতারা আগের মতো সময় নিয়ে দোকান ঘুরে দেখছেন না। এর প্রভাব ইতোমধ্যে বিক্রিতে পড়েছে। একটি পোশাকের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে।
নিজ উদ্যোগে পথ দেখাচ্ছেন দোকান মালিক
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় এক দোকান মালিক নিজেই সহজ ভাষায় কোথায় গাড়ি রাখা যাবে এবং কতক্ষণ রাখা নিরাপদ—এমন নির্দেশনাসহ সাইনবোর্ড তৈরি করে দোকানের সামনে টাঙিয়েছেন। অনেক ক্রেতা এখন তাঁর দোকানে গিয়ে পার্কিং নিয়ম সম্পর্কে পরামর্শ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেও পরিষ্কার ব্যাখ্যা না পাওয়ায় তিনি নিজেই মানুষের সুবিধার জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
প্রতিবাদে শিল্পকর্মও
শুধু ভাঙচুরই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত একটি পার্কিং মিটারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একটি শিল্পকর্মও। স্থানীয় এক শিল্পী সেটিকে কাঠের ফ্রেমে সাজিয়ে গণতন্ত্র ও জনঅসন্তোষের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। সেখানে লেখা হয়েছে, এটি স্থানীয় গণতন্ত্র ও জনসাধারণের প্রতিরোধের প্রতীক।
এই ঘটনাকে ঘিরে সংবাদমাধ্যমেরও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পত্রিকা নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করছে এবং বিষয়টি স্কটল্যান্ডের রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ অনড়
স্থানীয় কাউন্সিলের দাবি, নতুন পার্কিং ব্যবস্থা চালুর আগে জনপরামর্শ নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, পার্কিংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়লে গাড়ির স্থান দ্রুত খালি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবেন। একই সঙ্গে পার্কিং ফি থেকে আইন প্রয়োগকারী কর্মী নিয়োগের ব্যয়ও মেটানো হবে।
তবে এসব ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেক বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, বাস্তবে এই ব্যবস্থা শহরের প্রাণচাঞ্চল্য কমিয়ে দিচ্ছে এবং ছোট ব্যবসাগুলোকে চাপে ফেলছে।
রহস্য এখনো অমীমাংসিত
সব বিতর্কের মধ্যেই রহস্যময় সেই ব্যক্তি এখনো সক্রিয় বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন করে আরও পার্কিং মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে গেলেও শহরের অনেকেই বিষয়টিকে শুধু ভাঙচুর হিসেবে নয়, বরং স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















