ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী শুক্রবার দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, হামলায় অস্ত্রের গুদাম, সামরিক যান ও বিভিন্ন সরঞ্জাম লক্ষ্য করা হয়েছে।
মারিবে সামরিক ঘাঁটিতে হামলা
হুথিরা জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশের সাহন আল-জিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। ঘাঁটিটি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ব্যবহার করে এবং সৌদি আরব এই বাহিনীকে সমর্থন দেয়।
তবে হামলায় সামরিক স্থাপনায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা ইয়েমেন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। সৌদি কর্তৃপক্ষও হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার মারিবের বেসামরিক এলাকা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে হুথিদের হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।

যুদ্ধবিরতি ভাঙার আশঙ্কা
ইয়েমেনে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন একটি জোট তাদের উৎখাত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের জন্য সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালে সরকার ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই পক্ষের পাশাপাশি হুথি ও সৌদি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ আবার বেড়েছে।
হুথিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সামরিক শক্তি বাড়ানোর জবাবেই তারা সাহন আল-জিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটি এই সামরিক প্রস্তুতিকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এর মাত্র এক দিন আগে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তেলসমৃদ্ধ দুটি প্রদেশে হুথিরা কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও ইউনিটে হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ১৭ জন সামরিক সদস্য নিহত হন। একই সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবে গোলাবর্ষণের অভিযোগ তুলে জানায়, এতে ১১ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন।
লড়াই ছড়াচ্ছে লোহিত সাগরেও
ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার সঙ্গে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত মাসে হুথিরা সৌদি তেল পরিবহনের ওপর অবরোধ ঘোষণা করে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। এরপর থেকে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলার দাবি করে আসছে।
হুথিরা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ইয়ানবু পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ও পরিবহনপথও লক্ষ্য করার দাবি করেছে। এরই মধ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট কয়েক বছর পর প্রথমবারের মতো হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে ইয়েমেনে সংঘাত আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটির আগের গৃহযুদ্ধে সরাসরি সহিংসতার পাশাপাশি ক্ষুধা ও রোগে কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরব ইয়েমেনে ব্যাপক বোমাবর্ষণ অনেকটাই কমিয়ে এনেছিল। সাম্প্রতিক সংঘর্ষ সেই পরিস্থিতি আবার বদলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















