শরতের ফ্যাশনে এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে এমন এক অনুষঙ্গ, যার প্রয়োজনীয়তা হয়তো খুব বেশি নেই, কিন্তু সাজকে আকর্ষণীয় করে তুলতে এর জুড়ি নেই। সেটি হলো ‘অপ্রয়োজনীয় বেল্ট’। শরৎকালীন রানওয়েতে বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে এই বেল্টের ব্যবহার দেখা গেছে, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম নজরকাড়া প্রবণতা হয়ে উঠছে।
ফ্যাশনে সবকিছুর পেছনে বাস্তব কোনো কারণ থাকা জরুরি নয়—এই প্রবণতাই যেন তার প্রমাণ। পোশাক আটকে রাখা বা কোমর ঠিকভাবে বাঁধার প্রয়োজন না থাকলেও শুধু সাজের অংশ হিসেবে বেল্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। কখনো এটি কোমরের নিচে আলগাভাবে পরানো হয়েছে, কখনো কোমর শক্ত করে বাঁধা হয়েছে, আবার কখনো বোনা পোশাক ও বাইরের পোশাকের ওপর একাধিক স্তরে ব্যবহার করা হয়েছে।
রানওয়ের এই উপস্থাপনাগুলো দেখিয়েছে, বেল্ট এখন শুধু ব্যবহারিক পোশাক-অনুষঙ্গ নয়; বরং এটি নিজেই একটি সাজসজ্জার উপাদান। পোশাকের সঙ্গে বেল্টের অবস্থান, পরার ধরন ও স্তরবিন্যাস বদলে দিয়ে পুরো সাজে আলাদা মাত্রা যোগ করা হচ্ছে।

এই প্রবণতার মধ্যে ২০০০-এর দশকের ফ্যাশনের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। সেই সময় কোমরের ওপর বা নিচে বেল্ট পরা, পোশাকের সঙ্গে বেল্টকে আলাদা সাজের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা এবং কিছুটা খেয়ালি ভঙ্গিতে আনুষঙ্গিক উপকরণ ব্যবহারের চল ছিল। এবারের শরৎ ফ্যাশনে সেই পুরোনো ধারাই নতুন রূপে ফিরে এসেছে।
তবে এবারের বেল্টের ব্যবহার আরও স্বাধীন ও খেলাচ্ছলে। এটি পোশাকের সঙ্গে পুরোপুরি মিশে যাওয়ার জন্য নয়; বরং চোখে পড়ার মতো একটি আলাদা উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সাধারণ পোশাকও শুধু একটি বেল্টের মাধ্যমে হয়ে উঠতে পারে অনেক বেশি আকর্ষণীয়।
সবচেয়ে বড় কথা, এই প্রবণতায় বেল্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো কঠোর নিয়ম নেই। কোমরে আলগা করে পরা হোক, শক্ত করে বাঁধা হোক কিংবা শীতের বোনা পোশাক ও বাইরের পোশাকের ওপর স্তর তৈরি করে ব্যবহার করা হোক—সবই এখন গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ, বেল্টের মূল উদ্দেশ্য প্রয়োজন মেটানো নয়, বরং ব্যক্তিত্ব ও সৃজনশীলতা প্রকাশ করা।
শরতের রানওয়ের এই বার্তা তাই বেশ পরিষ্কার—ফ্যাশনে সবসময় ব্যবহারিকতার প্রয়োজন নেই। কখনো কখনো শুধু সুন্দর দেখানো, একটু খেয়ালি হওয়া এবং নিজের মতো করে সাজাই যথেষ্ট। আর সেই জায়গাতেই ২০০০-এর দশকের স্মৃতি নিয়ে ‘অপ্রয়োজনীয় বেল্ট’ আবারও ফিরে এসেছে নতুন আত্মবিশ্বাসে।
শরৎ ফ্যাশনে বেল্টের নতুন ব্যবহার: প্রয়োজনের জন্য নয়, এবার বেল্ট মূলত সাজের সৌন্দর্য, খেলাচ্ছলতা ও ২০০০-এর দশকের নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনতেই ব্যবহৃত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















