০৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হিটলারের ভি-২ রকেট চুরি: মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পোলিশ প্রতিরোধযোদ্ধাদের অবিশ্বাস্য অভিযান যুদ্ধ, তেল আর জলবায়ু: মানুষের সংকটই কি জ্বালানি কোম্পানির সোনালি সময়? ৯০ কোটি ডলারের রোবট বাজি: ডিপসিক থেকে টেনসেন্ট—চীনের সব বড় শক্তি কেন ইউনিট্রির পাশে? জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপেও থামছে না ইয়েনের পতন, আস্থার সংকটেই কি আসল সমস্যা? থাইল্যান্ড সীমান্ত বন্ধ, জাপানি কোম্পানির ভরসা এখন কম্বোডিয়ার গভীর সমুদ্রবন্দর প্রধানমন্ত্রী: একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় চীনে গ্রীষ্মের ছুটিতে কোচিংয়ের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শিক্ষক ‘এক দফা’ কোনো নেতার ঘোষণা নয়, এটি জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন: নুরুল হক নুর ১/১১-তে তারেক রহমানকে ‘আয়নাঘরে’ আটকে নির্যাতন: চিফ প্রসিকিউটর

১/১১-তে তারেক রহমানকে ‘আয়নাঘরে’ আটকে নির্যাতন: চিফ প্রসিকিউটর

 

ওয়ান-ইলেভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) গোপন বন্দিশালা ‘জেআইসি সেলে’ আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআই সদর দপ্তরের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেআইসি সেল নিয়ে চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য

আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আগের সরকার দেশে একটি অমানবিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন করতে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত বিভিন্ন গোপন বন্দিশালা ব্যবহার করা হতো। এসব স্থানে অনেক মানুষকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

তারেক রহমানকেও আয়নাঘরে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, ‘এক/এগারর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ডিজিএফআইয়ের আয়নাঘরে বন্দি রাখা হয়েছিল।’ এ বিষয়ে তদন্তে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, গোপন বন্দিশালা পরিচালনা এবং সেখানে নির্যাতনের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তে নতুন করে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আইনের মুখোমুখি করা হবে।

আলামত নষ্টের অভিযোগ

জেআইসি সেল পরিদর্শনের পর চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর ওই স্থানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলামত নষ্ট করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন স্থানে দেয়াল তুলে বন্দিশালার কিছু অংশ আড়াল করা হয়েছে এবং বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ ধ্বংস করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শনের আইনি বৈধতা রয়েছে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় ঘটনাস্থলের বর্তমান পরিস্থিতি দেখা এবং সেখানে থাকা আলামত সম্পর্কে ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেও এ ধরনের পরিদর্শন সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমানকেও আয়নাঘরে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সরেজমিন পরিদর্শন

শনিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতিরা ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআই সদর দপ্তরের জেআইসি সেলের গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেন। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজার নেতৃত্বে গঠিত পরিদর্শন দলে চিফ প্রসিকিউটর এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও ছিলেন।

এর আগে উত্তরায় র‍্যাব পরিচালিত একটি কথিত বন্দিশালা বা ‘গুমঘর’ও পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, র‍্যাব ও ডিজিএফআই পরিচালিত কথিত বন্দিশালায় মানুষকে গুম করে আটকে রাখার অভিযোগে দুটি মামলা বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকেরা।

১/১১-এর সময় তারেক রহমানকে ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালায় আটকে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। জেআইসি সেল পরিদর্শন করে আলামত নষ্টের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি

১/১১-তে তারেক রহমানকে ‘আয়নাঘরে’ আটকে নির্যাতন: চিফ প্রসিকিউটর

০৪:০৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

 

ওয়ান-ইলেভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) গোপন বন্দিশালা ‘জেআইসি সেলে’ আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআই সদর দপ্তরের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেআইসি সেল নিয়ে চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য

আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আগের সরকার দেশে একটি অমানবিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন করতে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত বিভিন্ন গোপন বন্দিশালা ব্যবহার করা হতো। এসব স্থানে অনেক মানুষকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

তারেক রহমানকেও আয়নাঘরে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, ‘এক/এগারর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ডিজিএফআইয়ের আয়নাঘরে বন্দি রাখা হয়েছিল।’ এ বিষয়ে তদন্তে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, গোপন বন্দিশালা পরিচালনা এবং সেখানে নির্যাতনের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তে নতুন করে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আইনের মুখোমুখি করা হবে।

আলামত নষ্টের অভিযোগ

জেআইসি সেল পরিদর্শনের পর চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর ওই স্থানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলামত নষ্ট করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন স্থানে দেয়াল তুলে বন্দিশালার কিছু অংশ আড়াল করা হয়েছে এবং বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ ধ্বংস করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শনের আইনি বৈধতা রয়েছে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় ঘটনাস্থলের বর্তমান পরিস্থিতি দেখা এবং সেখানে থাকা আলামত সম্পর্কে ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেও এ ধরনের পরিদর্শন সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমানকেও আয়নাঘরে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সরেজমিন পরিদর্শন

শনিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতিরা ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআই সদর দপ্তরের জেআইসি সেলের গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেন। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজার নেতৃত্বে গঠিত পরিদর্শন দলে চিফ প্রসিকিউটর এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও ছিলেন।

এর আগে উত্তরায় র‍্যাব পরিচালিত একটি কথিত বন্দিশালা বা ‘গুমঘর’ও পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, র‍্যাব ও ডিজিএফআই পরিচালিত কথিত বন্দিশালায় মানুষকে গুম করে আটকে রাখার অভিযোগে দুটি মামলা বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকেরা।

১/১১-এর সময় তারেক রহমানকে ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালায় আটকে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। জেআইসি সেল পরিদর্শন করে আলামত নষ্টের অভিযোগও তোলা হয়েছে।