০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ওকিনাওয়ায় ভয়ংকর টাইফুন ডলফিন, ২১৬ কিমি বেগে ঝড়—চীনে বন্ধ বন্দর-ফেরি, বাতিল ফ্লাইট নিরাপত্তারক্ষীর সংকট, সমাধানে রোবট কুকুর ও ড্রোনের দিকে ঝুঁকছে প্রতিষ্ঠানগুলো জেপ্টোর আইপিও স্থগিত, ভারতের দ্রুত বাণিজ্যে বাড়ছে সংকটের শঙ্কা থাইল্যান্ডের সুপারমার্কেট ব্যবসা বিক্রি করছে এওন, ক্রেতা সেন্ট্রাল গ্রুপ আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হিটলারের ভি-২ রকেট চুরি: মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পোলিশ প্রতিরোধযোদ্ধাদের অবিশ্বাস্য অভিযান যুদ্ধ, তেল আর জলবায়ু: মানুষের সংকটই কি জ্বালানি কোম্পানির সোনালি সময়? ৯০ কোটি ডলারের রোবট বাজি: ডিপসিক থেকে টেনসেন্ট—চীনের সব বড় শক্তি কেন ইউনিট্রির পাশে? জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপেও থামছে না ইয়েনের পতন, আস্থার সংকটেই কি আসল সমস্যা? থাইল্যান্ড সীমান্ত বন্ধ, জাপানি কোম্পানির ভরসা এখন কম্বোডিয়ার গভীর সমুদ্রবন্দর

৯০ কোটি ডলারের রোবট বাজি: ডিপসিক থেকে টেনসেন্ট—চীনের সব বড় শক্তি কেন ইউনিট্রির পাশে?

ভাবুন, এমন এক রোবট যে মানুষের মতো হাঁটতে পারে, ঘুষি মারতে পারে, জটিল শারীরিক কাজ করতে পারে এবং ভবিষ্যতে মানুষের জন্য বিপজ্জনক কাজও করে দিতে পারে। একসময় এসব ছিল কল্পবিজ্ঞানের বিষয়। এখন সেটিই বাস্তব প্রযুক্তির অন্যতম বড় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র।

চীন এই দৌড়ে কতটা এগিয়ে গেছে, তার বড় একটি প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে ইউনিট্রি রোবোটিকসের শেয়ারবাজারে প্রবেশের উদ্যোগে।

চীনের মানবসদৃশ রোবট নির্মাতা ইউনিট্রি প্রায় ৯০ কোটি ডলারের প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই উদ্যোগে বিনিয়োগ করছে চীনের প্রযুক্তি ও রাষ্ট্রীয় খাতের একাধিক প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান। তাদের মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ডিপসিক, রাষ্ট্রীয় তেল খাতের প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা, চায়না টেলিকম এবং প্রযুক্তি জায়ান্ট টেনসেন্ট।

এত বড় প্রতিষ্ঠানের একসঙ্গে অংশগ্রহণের অর্থ কী? এর উত্তর শুধু একটি কোম্পানির শেয়ারবাজারে প্রবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর মাধ্যমে চীনের প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি বড় ছবি সামনে আসছে।

ইউনিট্রি আসলে কী করছে?

২০১৬ সালে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর হাংজুতে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউনিট্রি। মাত্র এক দশকের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি মানবসদৃশ ও চতুষ্পদ রোবট প্রযুক্তির আলোচিত নাম হয়ে উঠেছে।

বিশ্বের মানুষ ইউনিট্রির রোবটকে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে দেখেছে। কখনো তারা বক্সিং করছে, কখনো মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে জটিল শারীরিক কর্মকাণ্ড করছে, আবার কখনো এমনভাবে হাঁটছে বা নড়াচড়া করছে, যা কয়েক বছর আগেও সাধারণ মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতো।

কোম্পানিটির তৈরি জি১ রোবটের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে একটি পরীক্ষায় দেখা যায়, জাপানের মানবসদৃশ রোবট শিল্পের পক্ষে স্বল্প সময়ে চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমানো কঠিন হতে পারে।

অর্থাৎ, প্রতিযোগিতাটি এখন আর শুধু ভবিষ্যতের কল্পনা নয়। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যেই বাস্তব পণ্য তৈরি করে বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে।

DeepSeek Becomes China's Most Valuable AI Startup After $7.4 Billion  Fundraise - WSJ

ডিপসিক কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ইউনিট্রির শেয়ার ছাড়ে সবচেয়ে আলোচিত বিনিয়োগকারীদের একজন ডিপসিক।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা এই প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রিতে প্রায় ১৪ কোটি ইউয়ান বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অন্যদিকে চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান, চায়না সাউদার্ন পাওয়ার গ্রিড, চায়না টেলিকম এবং টেনসেন্ট—প্রতিটি প্রায় ১৩ কোটি ৬০ লাখ ইউয়ান করে বিনিয়োগ করবে।

অর্থাৎ, বিষয়টি শুধু প্রযুক্তি কোম্পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

তেল, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তি—চীনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাত একই রোবট কোম্পানির ভবিষ্যতের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করছে।

রাষ্ট্রীয় অর্থও আসছে

ইউনিট্রির এই শেয়ার ছাড়ে চীনের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলও বিনিয়োগ করছে।

চীনের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিলে বাজারকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এই তহবিলকে দেশটির সরকারি ‘জাতীয় দল’-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ফলে ইউনিট্রির শেয়ারবাজারে প্রবেশকে শুধু একটি বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না।

এর মধ্যে চীনের কৌশলগত প্রযুক্তি নীতির একটি ইঙ্গিতও রয়েছে।

চীন কি রোবটের যুগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে?

ইউনিট্রির প্রধান নির্বাহী ওয়াং শিংশিং মনে করেন, মানবসদৃশ রোবট শিল্প এখনো শুরুর পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি ও ব্যক্তিগত কম্পিউটারের শুরুর সময়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

একসময় কম্পিউটারও ছিল বিশাল, ব্যয়বহুল এবং সীমিত সক্ষমতার যন্ত্র। পরে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে তা মানুষের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ঢুকে পড়ে।

রোবট শিল্পেও কি একই ঘটনা ঘটতে পারে?

ইউনিট্রির পরিকল্পনা দেখলে সেই সম্ভাবনাই দেখা যায়।

প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ও রোবটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায়। লক্ষ্য হচ্ছে এমন রোবট তৈরি করা, যা শুধু আগে থেকে শেখানো নির্দিষ্ট কাজ করবে না, বরং অপরিচিত পরিবেশেও পরিস্থিতি বুঝে কাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।

DeepSeek, state oil giant back humanoid robot maker Unitree's $900m IPO -  Nikkei Asia

মানুষের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো কি রোবট করবে?

ইউনিট্রির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো উচ্চমাত্রার শারীরিক পরিশ্রম এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য রোবট তৈরি করা।

এর সম্ভাব্য ব্যবহার বিশাল।

কারখানায় ভারী কাজ, নির্মাণক্ষেত্রে বিপজ্জনক কাজ, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান কিংবা মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমন পরিবেশে রোবট ব্যবহার করা সম্ভব হলে শিল্পের চেহারাই বদলে যেতে পারে।

তবে এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, রোবট কি সত্যিই মানুষের মতো পরিস্থিতি বুঝতে পারবে?

একটি নির্দিষ্ট কাজ বারবার করা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু বাস্তব পৃথিবীতে প্রতিদিন পরিস্থিতি বদলায়। মেঝে ভেজা হতে পারে, কোনো বস্তু হঠাৎ পড়ে যেতে পারে, মানুষের আচরণ পরিবর্তিত হতে পারে কিংবা কাজের পরিবেশ সম্পূর্ণ অপরিচিত হতে পারে।

এই কারণেই ইউনিট্রির প্রধান নির্বাহী বলেছেন, পুরো শিল্পকে রোবটের সাধারণীকরণ ক্ষমতা বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা

মানবসদৃশ রোবট এখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার নতুন মঞ্চ হয়ে উঠছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চিপ, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও অন্যান্য প্রযুক্তির পর এবার রোবটও দুই দেশের কৌশলগত প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠছে।

কিছু বিনিয়োগকারী মনে করেন, মানবসদৃশ রোবটের ক্ষেত্রে চীন ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে।

চীনও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে। বেইজিংয়ে চলতি মাসে বিশ্ব রোবট সম্মেলন এবং বিশ্ব মানবসদৃশ রোবট গেমসের মতো বড় আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এসব আয়োজনের মাধ্যমে চীনের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি প্রদর্শন নয়; বিশ্বের সামনে নিজেদের সক্ষমতাও তুলে ধরা।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রও বসে নেই

এই প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল যোগাযোগ কমিশন জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ দেখিয়ে নতুন বিদেশি তৈরি উন্নত রোবট সরঞ্জাম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

ইউনিট্রি তাদের শেয়ার ছাড়ার নথিতে এই সিদ্ধান্তকে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, যেসব রোবট মডেল ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলো সেখানে বিক্রি করা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, রোবট এখন শুধু ব্যবসার বিষয় নয়। এটি ধীরে ধীরে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রযুক্তির বিষয়েও পরিণত হচ্ছে।

বাণিজ্য উত্তেজনাও বাড়ছে

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রযুক্তি ও বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই ইউনিট্রির শেয়ারবাজারে প্রবেশের ঘটনা ঘটছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছে।

এরপর বেইজিং কয়েকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং চীনা ড্রোনের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। পরে যুক্তরাষ্ট্র চীনে ব্যাপকভাবে উৎপাদিত পলিসিলিকনের ওপরও শুল্ক ঘোষণা করে।

ফলে মানবসদৃশ রোবটের মতো নতুন প্রযুক্তি খাতেও দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

DeepSeek, state oil giant back humanoid robot maker Unitree's $900m IPO -  Nikkei Asia

ইউনিট্রির ব্যবসাও দ্রুত বাড়ছে

প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি ইউনিট্রির আর্থিক ফলাফলও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির আয় ১০৫ কোটি থেকে ১১৩ কোটি ইউয়ানের মধ্যে হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এই সময়ে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ২৫ কোটি ৮০ লাখ থেকে ৩০ কোটি ৬০ লাখ ইউয়ানের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থাৎ, ইউনিট্রি শুধু ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলছে না; এর ব্যবসাও ইতোমধ্যে দ্রুত বাড়ছে।

বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে ইউনিট্রি

২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী মানবসদৃশ রোবট স্থাপনের সংখ্যায় ইউনিট্রি দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।

তাদের আগে ছিল সাংহাইভিত্তিক অ্যাজিবট।

এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায় যে চীনের রোবট শিল্পে শুধু একটি বা দুটি কোম্পানি নয়, একাধিক শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

অর্থাৎ, চীনের লক্ষ্য শুধু একটি সফল রোবট কোম্পানি তৈরি করা নয়; বরং পুরো একটি শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এবার শেয়ারবাজারের পরীক্ষা

ইউনিট্রি মোট ৪ কোটি ৪ লাখ নতুন শেয়ার বিক্রি করবে।

প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ দশমিক ৮ ইউয়ান।

এই শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৬১০ কোটি ইউয়ান বা ৯০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।

শেয়ার বিক্রির পর কোম্পানিটির মূল্যায়ন প্রায় ৬১০০ কোটি ইউয়ানে পৌঁছাতে পারে।

অনলাইনে শেয়ার কেনার আবেদন শুরু হবে সোমবার। তবে শেয়ারবাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে লেনদেন শুরু হওয়ার তারিখ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বিনিয়োগকারীরা ইউনিট্রির ওপর কতটা আস্থা দেখাবেন?

কারণ এই শেয়ার বিক্রির সাফল্য শুধু ইউনিট্রির জন্য নয়, চীনের পুরো মানবসদৃশ রোবট শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে উঠতে পারে।

সামনে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বড়

আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়তো এটি নয় যে রোবট মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে কি না।

বরং প্রশ্ন হলো—মানুষের সঙ্গে কাজ করার মতো যথেষ্ট বুদ্ধিমান, দক্ষ এবং নিরাপদ রোবট তৈরি করতে কত সময় লাগবে?

যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত সেন্সর, শক্তিশালী যন্ত্রাংশ এবং স্বয়ংক্রিয় চলাচলের প্রযুক্তি একসঙ্গে দ্রুত উন্নত হয়, তাহলে আগামী দশকে মানবসদৃশ রোবট শিল্পের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

আর সেই ভবিষ্যতের বাজার দখলের জন্য চীন এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইউনিট্রির ৯০ কোটি ডলারের শেয়ার ছাড় তাই শুধু একটি কোম্পানির অর্থ সংগ্রহের গল্প নয়।

এর পেছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট, শিল্প উৎপাদন, রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার একটি বড় সমীকরণ।

আজ যে রোবটকে আমরা প্রদর্শনীতে হাঁটতে, দৌড়াতে কিংবা বক্সিং করতে দেখছি, আগামী দিনে সেই রোবট হয়তো কারখানায় কাজ করবে, বিপজ্জনক স্থানে ঢুকবে কিংবা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে।

আর সেই ভবিষ্যতের দৌড়ে চীন কতটা এগিয়ে যাবে—তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলতে পারে ইউনিট্রির এই শেয়ারবাজার যাত্রা থেকেই।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ওকিনাওয়ায় ভয়ংকর টাইফুন ডলফিন, ২১৬ কিমি বেগে ঝড়—চীনে বন্ধ বন্দর-ফেরি, বাতিল ফ্লাইট

৯০ কোটি ডলারের রোবট বাজি: ডিপসিক থেকে টেনসেন্ট—চীনের সব বড় শক্তি কেন ইউনিট্রির পাশে?

০৪:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

ভাবুন, এমন এক রোবট যে মানুষের মতো হাঁটতে পারে, ঘুষি মারতে পারে, জটিল শারীরিক কাজ করতে পারে এবং ভবিষ্যতে মানুষের জন্য বিপজ্জনক কাজও করে দিতে পারে। একসময় এসব ছিল কল্পবিজ্ঞানের বিষয়। এখন সেটিই বাস্তব প্রযুক্তির অন্যতম বড় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র।

চীন এই দৌড়ে কতটা এগিয়ে গেছে, তার বড় একটি প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে ইউনিট্রি রোবোটিকসের শেয়ারবাজারে প্রবেশের উদ্যোগে।

চীনের মানবসদৃশ রোবট নির্মাতা ইউনিট্রি প্রায় ৯০ কোটি ডলারের প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই উদ্যোগে বিনিয়োগ করছে চীনের প্রযুক্তি ও রাষ্ট্রীয় খাতের একাধিক প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান। তাদের মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ডিপসিক, রাষ্ট্রীয় তেল খাতের প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা, চায়না টেলিকম এবং প্রযুক্তি জায়ান্ট টেনসেন্ট।

এত বড় প্রতিষ্ঠানের একসঙ্গে অংশগ্রহণের অর্থ কী? এর উত্তর শুধু একটি কোম্পানির শেয়ারবাজারে প্রবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর মাধ্যমে চীনের প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি বড় ছবি সামনে আসছে।

ইউনিট্রি আসলে কী করছে?

২০১৬ সালে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর হাংজুতে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউনিট্রি। মাত্র এক দশকের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি মানবসদৃশ ও চতুষ্পদ রোবট প্রযুক্তির আলোচিত নাম হয়ে উঠেছে।

বিশ্বের মানুষ ইউনিট্রির রোবটকে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে দেখেছে। কখনো তারা বক্সিং করছে, কখনো মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে জটিল শারীরিক কর্মকাণ্ড করছে, আবার কখনো এমনভাবে হাঁটছে বা নড়াচড়া করছে, যা কয়েক বছর আগেও সাধারণ মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতো।

কোম্পানিটির তৈরি জি১ রোবটের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে একটি পরীক্ষায় দেখা যায়, জাপানের মানবসদৃশ রোবট শিল্পের পক্ষে স্বল্প সময়ে চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমানো কঠিন হতে পারে।

অর্থাৎ, প্রতিযোগিতাটি এখন আর শুধু ভবিষ্যতের কল্পনা নয়। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যেই বাস্তব পণ্য তৈরি করে বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে।

DeepSeek Becomes China's Most Valuable AI Startup After $7.4 Billion  Fundraise - WSJ

ডিপসিক কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ইউনিট্রির শেয়ার ছাড়ে সবচেয়ে আলোচিত বিনিয়োগকারীদের একজন ডিপসিক।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা এই প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রিতে প্রায় ১৪ কোটি ইউয়ান বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অন্যদিকে চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান, চায়না সাউদার্ন পাওয়ার গ্রিড, চায়না টেলিকম এবং টেনসেন্ট—প্রতিটি প্রায় ১৩ কোটি ৬০ লাখ ইউয়ান করে বিনিয়োগ করবে।

অর্থাৎ, বিষয়টি শুধু প্রযুক্তি কোম্পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

তেল, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তি—চীনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাত একই রোবট কোম্পানির ভবিষ্যতের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করছে।

রাষ্ট্রীয় অর্থও আসছে

ইউনিট্রির এই শেয়ার ছাড়ে চীনের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলও বিনিয়োগ করছে।

চীনের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিলে বাজারকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এই তহবিলকে দেশটির সরকারি ‘জাতীয় দল’-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ফলে ইউনিট্রির শেয়ারবাজারে প্রবেশকে শুধু একটি বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না।

এর মধ্যে চীনের কৌশলগত প্রযুক্তি নীতির একটি ইঙ্গিতও রয়েছে।

চীন কি রোবটের যুগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে?

ইউনিট্রির প্রধান নির্বাহী ওয়াং শিংশিং মনে করেন, মানবসদৃশ রোবট শিল্প এখনো শুরুর পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি ও ব্যক্তিগত কম্পিউটারের শুরুর সময়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

একসময় কম্পিউটারও ছিল বিশাল, ব্যয়বহুল এবং সীমিত সক্ষমতার যন্ত্র। পরে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে তা মানুষের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ঢুকে পড়ে।

রোবট শিল্পেও কি একই ঘটনা ঘটতে পারে?

ইউনিট্রির পরিকল্পনা দেখলে সেই সম্ভাবনাই দেখা যায়।

প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ও রোবটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায়। লক্ষ্য হচ্ছে এমন রোবট তৈরি করা, যা শুধু আগে থেকে শেখানো নির্দিষ্ট কাজ করবে না, বরং অপরিচিত পরিবেশেও পরিস্থিতি বুঝে কাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।

DeepSeek, state oil giant back humanoid robot maker Unitree's $900m IPO -  Nikkei Asia

মানুষের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো কি রোবট করবে?

ইউনিট্রির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো উচ্চমাত্রার শারীরিক পরিশ্রম এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য রোবট তৈরি করা।

এর সম্ভাব্য ব্যবহার বিশাল।

কারখানায় ভারী কাজ, নির্মাণক্ষেত্রে বিপজ্জনক কাজ, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান কিংবা মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমন পরিবেশে রোবট ব্যবহার করা সম্ভব হলে শিল্পের চেহারাই বদলে যেতে পারে।

তবে এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, রোবট কি সত্যিই মানুষের মতো পরিস্থিতি বুঝতে পারবে?

একটি নির্দিষ্ট কাজ বারবার করা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু বাস্তব পৃথিবীতে প্রতিদিন পরিস্থিতি বদলায়। মেঝে ভেজা হতে পারে, কোনো বস্তু হঠাৎ পড়ে যেতে পারে, মানুষের আচরণ পরিবর্তিত হতে পারে কিংবা কাজের পরিবেশ সম্পূর্ণ অপরিচিত হতে পারে।

এই কারণেই ইউনিট্রির প্রধান নির্বাহী বলেছেন, পুরো শিল্পকে রোবটের সাধারণীকরণ ক্ষমতা বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা

মানবসদৃশ রোবট এখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার নতুন মঞ্চ হয়ে উঠছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চিপ, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও অন্যান্য প্রযুক্তির পর এবার রোবটও দুই দেশের কৌশলগত প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠছে।

কিছু বিনিয়োগকারী মনে করেন, মানবসদৃশ রোবটের ক্ষেত্রে চীন ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে।

চীনও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে। বেইজিংয়ে চলতি মাসে বিশ্ব রোবট সম্মেলন এবং বিশ্ব মানবসদৃশ রোবট গেমসের মতো বড় আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এসব আয়োজনের মাধ্যমে চীনের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি প্রদর্শন নয়; বিশ্বের সামনে নিজেদের সক্ষমতাও তুলে ধরা।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রও বসে নেই

এই প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল যোগাযোগ কমিশন জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ দেখিয়ে নতুন বিদেশি তৈরি উন্নত রোবট সরঞ্জাম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

ইউনিট্রি তাদের শেয়ার ছাড়ার নথিতে এই সিদ্ধান্তকে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, যেসব রোবট মডেল ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলো সেখানে বিক্রি করা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, রোবট এখন শুধু ব্যবসার বিষয় নয়। এটি ধীরে ধীরে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রযুক্তির বিষয়েও পরিণত হচ্ছে।

বাণিজ্য উত্তেজনাও বাড়ছে

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রযুক্তি ও বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই ইউনিট্রির শেয়ারবাজারে প্রবেশের ঘটনা ঘটছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছে।

এরপর বেইজিং কয়েকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং চীনা ড্রোনের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। পরে যুক্তরাষ্ট্র চীনে ব্যাপকভাবে উৎপাদিত পলিসিলিকনের ওপরও শুল্ক ঘোষণা করে।

ফলে মানবসদৃশ রোবটের মতো নতুন প্রযুক্তি খাতেও দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

DeepSeek, state oil giant back humanoid robot maker Unitree's $900m IPO -  Nikkei Asia

ইউনিট্রির ব্যবসাও দ্রুত বাড়ছে

প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি ইউনিট্রির আর্থিক ফলাফলও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির আয় ১০৫ কোটি থেকে ১১৩ কোটি ইউয়ানের মধ্যে হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এই সময়ে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ২৫ কোটি ৮০ লাখ থেকে ৩০ কোটি ৬০ লাখ ইউয়ানের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থাৎ, ইউনিট্রি শুধু ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলছে না; এর ব্যবসাও ইতোমধ্যে দ্রুত বাড়ছে।

বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে ইউনিট্রি

২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী মানবসদৃশ রোবট স্থাপনের সংখ্যায় ইউনিট্রি দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।

তাদের আগে ছিল সাংহাইভিত্তিক অ্যাজিবট।

এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায় যে চীনের রোবট শিল্পে শুধু একটি বা দুটি কোম্পানি নয়, একাধিক শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

অর্থাৎ, চীনের লক্ষ্য শুধু একটি সফল রোবট কোম্পানি তৈরি করা নয়; বরং পুরো একটি শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এবার শেয়ারবাজারের পরীক্ষা

ইউনিট্রি মোট ৪ কোটি ৪ লাখ নতুন শেয়ার বিক্রি করবে।

প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ দশমিক ৮ ইউয়ান।

এই শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৬১০ কোটি ইউয়ান বা ৯০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।

শেয়ার বিক্রির পর কোম্পানিটির মূল্যায়ন প্রায় ৬১০০ কোটি ইউয়ানে পৌঁছাতে পারে।

অনলাইনে শেয়ার কেনার আবেদন শুরু হবে সোমবার। তবে শেয়ারবাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে লেনদেন শুরু হওয়ার তারিখ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বিনিয়োগকারীরা ইউনিট্রির ওপর কতটা আস্থা দেখাবেন?

কারণ এই শেয়ার বিক্রির সাফল্য শুধু ইউনিট্রির জন্য নয়, চীনের পুরো মানবসদৃশ রোবট শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে উঠতে পারে।

সামনে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বড়

আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়তো এটি নয় যে রোবট মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে কি না।

বরং প্রশ্ন হলো—মানুষের সঙ্গে কাজ করার মতো যথেষ্ট বুদ্ধিমান, দক্ষ এবং নিরাপদ রোবট তৈরি করতে কত সময় লাগবে?

যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত সেন্সর, শক্তিশালী যন্ত্রাংশ এবং স্বয়ংক্রিয় চলাচলের প্রযুক্তি একসঙ্গে দ্রুত উন্নত হয়, তাহলে আগামী দশকে মানবসদৃশ রোবট শিল্পের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

আর সেই ভবিষ্যতের বাজার দখলের জন্য চীন এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইউনিট্রির ৯০ কোটি ডলারের শেয়ার ছাড় তাই শুধু একটি কোম্পানির অর্থ সংগ্রহের গল্প নয়।

এর পেছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট, শিল্প উৎপাদন, রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার একটি বড় সমীকরণ।

আজ যে রোবটকে আমরা প্রদর্শনীতে হাঁটতে, দৌড়াতে কিংবা বক্সিং করতে দেখছি, আগামী দিনে সেই রোবট হয়তো কারখানায় কাজ করবে, বিপজ্জনক স্থানে ঢুকবে কিংবা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে।

আর সেই ভবিষ্যতের দৌড়ে চীন কতটা এগিয়ে যাবে—তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলতে পারে ইউনিট্রির এই শেয়ারবাজার যাত্রা থেকেই।