সুদানে যুদ্ধ চলছে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে। সময়ের সঙ্গে যুদ্ধটি যেন শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সংঘাত থাকেনি; এটি পরিণত হয়েছে আফ্রিকার সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়গুলোর একটিতে। রাজধানী খার্তুম আজ সেই ধ্বংসের সবচেয়ে নির্মম প্রতীক। যে শহর একসময় প্রায় ৭০ লাখ মানুষের ব্যস্ত জীবন, ব্যবসা, স্বপ্ন আর সম্ভাবনায় মুখর ছিল, যুদ্ধের আগুনে সেই শহরের বড় অংশ এখন নীরব ধ্বংসস্তূপ।
সরকারি ভবনের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে পোড়া কঙ্কাল। একসময়কার বিলাসবহুল হোটেল ও আধুনিক বাড়িগুলো এখন ধ্বংসের স্মৃতি। যুদ্ধের আগুনে ঝলসে যাওয়া রাস্তায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নেই। কোথাও কোথাও অস্থায়ী গণকবর থেকে বেরিয়ে এসেছে মানুষের মাথার খুলি। অথচ এই ভয়াবহতার মধ্যেও হত্যাকাণ্ড থামেনি।
সুদানের এই যুদ্ধ এখন একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়ংকর সংঘাতগুলোর একটি। দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ এবং জাতিগত নিধনের মতো সহিংসতায় নিহত মানুষের সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খার্তুম যেন একটি দেশের ক্ষতবিক্ষত হৃদয়
সুদানের রাজধানী খার্তুমের বর্তমান চিত্র শুধু একটি শহরের ধ্বংসের গল্প নয়; এটি একটি রাষ্ট্র কীভাবে দীর্ঘ যুদ্ধের চাপে ভেঙে পড়তে পারে তারও প্রতিচ্ছবি।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে খার্তুম ছিল সুদানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র। মানুষ কাজে যেত, ব্যবসা চলত, হোটেলে অতিথি থাকত, রাস্তায় ছিল যানবাহনের ভিড়। আজ সেই শহরের অনেক জায়গায় শুধু পোড়া ভবন, পরিত্যক্ত রাস্তা আর মৃত্যুর স্মৃতি।
এই যুদ্ধ সুদানকে শুধু মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়নি, বরং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তাকেও নড়বড়ে করে তুলেছে। প্রতিবেশী দেশগুলো সংঘাতের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। দক্ষিণ সুদান ও ইয়েমেনের অস্থিরতা নতুন করে তীব্র হয়েছে। ইথিওপিয়াতেও আবার বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আফ্রিকার আরেক ভয়াবহ যুদ্ধ কঙ্গোর সংঘাতের সঙ্গে সুদানের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করা যায়। কঙ্গোতে ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে সংঘাতে ৫০ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু সুদানের যুদ্ধের গুরুত্ব শুধু নিহত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ভূরাজনীতি।
যুদ্ধের পেছনে শুধু সুদানের শক্তি নয়
সুদানের সংঘাতকে বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে এটি মূলত দুটি শক্তির মধ্যে ক্ষমতার লড়াই। একদিকে রয়েছে দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনী, অন্যদিকে রয়েছে শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী।
সুদানের সশস্ত্র বাহিনী দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং কার্যত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রধান শক্তি। তাদের বিপরীতে রয়েছে দ্রুত সহায়তা বাহিনী—একটি ধনী, সুসজ্জিত এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী আধাসামরিক গোষ্ঠী।
দুই পক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীও যুক্ত হয়েছে। ফলে যুদ্ধটি ক্রমেই জটিল হয়েছে। কিন্তু এর পেছনে আরও বড় একটি বাস্তবতা রয়েছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে।
দ্রুত সহায়তা বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে অস্ত্র, অর্থ ও যোদ্ধা সহায়তা পায় বলে অভিযোগ রয়েছে। আমিরাত অবশ্য এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে। অন্যদিকে সুদানের সেনাবাহিনীকে তুলনামূলকভাবে মিসর, কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্ক সহায়তা করছে।
অর্থাৎ সুদানের মাটিতে যে যুদ্ধ চলছে, তার সুতো অনেক দূরের রাজধানী ও ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর সঙ্গেও যুক্ত।
যত দীর্ঘ হচ্ছে যুদ্ধ, তত কঠিন হচ্ছে শান্তি
যুদ্ধের প্রথম দিকে দুই পক্ষেরই নিজেদের সামরিক শক্তির ওপর প্রবল আস্থা ছিল। দ্রুত সহায়তা বাহিনী বারবার যুদ্ধবিরতির আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও একই সঙ্গে যুদ্ধ থেকে অর্জিত অর্থ ও সম্পদ ব্যবহার করে নিজেদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে।
অন্যদিকে সেনাবাহিনীর নেতারাও মনে করতেন, সামরিকভাবে দ্রুত সহায়তা বাহিনীকে পরাজিত করা সম্ভব। ফলে আলোচনায় বসার প্রয়োজনীয়তা বারবার পিছিয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাধারণ মানুষ।
যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়, তত বেশি অর্থনৈতিক স্বার্থ সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। নানা ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠী শক্তিশালী হয়ে ওঠে। যুদ্ধ তখন শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই থাকে না; এটি হয়ে ওঠে অস্ত্র, সম্পদ, চোরাচালান ও নিয়ন্ত্রণের অর্থনীতি।
এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ শেষ হলেও শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ যুদ্ধ থেকে যারা লাভবান হয়, তারা শান্তির চেয়ে সংঘাতকে বেশি মূল্যবান মনে করতে শুরু করে।
বিশ্বের নজরও অন্যদিকে
সুদানের আরেকটি বড় দুর্ভাগ্য হলো আন্তর্জাতিক মনোযোগের অভাব।
ইউরোপের মনোযোগ ইউক্রেনের যুদ্ধের দিকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানকে ঘিরে ভয়াবহ সংকট ও যুদ্ধের কারণে সুদানের দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিতে পারছেন না।
ফলে সুদানের মানুষের মধ্যে হতাশা আরও গভীর হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তাদের দেশ হয়তো বিশ্বের কাছে এমন এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে, যাকে সবাই ভুলে যেতে প্রস্তুত।
এই আশঙ্কা থেকেই কেউ কেউ সুদানের ভবিষ্যৎকে সোমালিয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সঙ্গে তুলনা করছেন—যেখানে যুদ্ধ থামে না, রাষ্ট্র দুর্বল হতে থাকে এবং একের পর এক সশস্ত্র গোষ্ঠী নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
লোহিত সাগর বদলে দিতে পারে যুদ্ধের হিসাব
তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা পরিস্থিতিতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে।
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারস্য উপসাগরের সংকট ধীরে ধীরে লোহিত সাগরের দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে। ইয়েমেনভিত্তিক ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এই পরিস্থিতি সুদানের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে।
সুদানের দীর্ঘ উপকূল সৌদি আরবের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি যত বাড়বে, সুদানের যুদ্ধ নিয়ে সৌদি আরবের আগ্রহও তত বাড়তে পারে।
এখানেই শান্তির একটি সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সুদানের বিষয়ে একই অবস্থানে নেই। দুই দেশের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও রয়েছে। কিন্তু লোহিত সাগরের নিরাপত্তা যদি তাদের উভয়ের জন্য বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়, তাহলে সুদানের যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্যও বেড়ে যেতে পারে।
যুদ্ধক্ষেত্রেও বদল এসেছে
শুধু কূটনীতিই নয়, যুদ্ধক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন এসেছে।
গত কয়েক সপ্তাহে সুদানের সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সাফল্য পেয়েছে। রাজধানী খার্তুমে ফিরে আসার প্রায় দেড় বছর পর সেনাবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে তারা রাজধানী থেকে এল-ওবেইদের দিকে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। এল-ওবেইদ একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্র, যেটি দীর্ঘদিন ধরে দ্রুত সহায়তা বাহিনী দখলের চেষ্টা করে আসছিল।
এ ছাড়া ইথিওপিয়া সীমান্তের কুরমুক শহরও সেনাবাহিনী পুনর্দখল করেছে।
এই সাফল্য সেনাবাহিনীকে হয়তো আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে। তারা চাইলে এখন যুদ্ধ আরও বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণ পরাজিত করার চেষ্টা করতে পারে।
কিন্তু এখানেই রয়েছে বড় ঝুঁকি।
শক্তির অবস্থান থেকেই আলোচনায় বসার সময়
সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তারা শক্তিশালী অবস্থান থেকে আলোচনা করতে চায়। সাম্প্রতিক সাফল্যের পর সেই অবস্থান কিছুটা তৈরি হয়েছে।
তাই এখনই আলোচনায় বসা তাদের জন্য দুর্বলতার লক্ষণ না হয়ে বরং কৌশলগত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
কারণ সময় যত যাবে, যুদ্ধ তত বেশি খণ্ডিত হবে। দুই পক্ষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বহু সশস্ত্র গোষ্ঠী। তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মূল দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রণ আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
একসময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে যুদ্ধ শুরু করা দুই প্রধান শক্তির চেয়েও যুদ্ধ থেকে লাভবান ছোট ছোট গোষ্ঠীর হাতে বেশি ক্ষমতা চলে যাবে।
তখন শান্তি প্রতিষ্ঠা আরও কঠিন হবে।
বর্ষাকাল এনে দিয়েছে সাময়িক সুযোগ
সুদানের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকৃতিও এক অদ্ভুত সুযোগ তৈরি করেছে।
আগামী কয়েক সপ্তাহ দেশটির বর্ষাকাল যুদ্ধের গতি কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। ভারী বৃষ্টি ও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
এই সাময়িক বিরতিকে কাজে লাগিয়ে মানবিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা-বিষয়ক বিশেষ দূত মাসাদ বুলোস যে মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন, অপেক্ষাকৃত স্থির যুদ্ধরেখার এই সময়ে সেটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আগের তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে।
এ সুযোগ হাতছাড়া হলে আবারও যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠতে পারে আরও ভয়াবহভাবে।
এখন প্রয়োজন বড় শক্তিগুলোর চাপ
সুদানের যুদ্ধ শেষ করতে শুধু খার্তুমের দুই পক্ষকে আলোচনায় বসতে বললেই হবে না। তাদের যারা অর্থ, অস্ত্র ও রাজনৈতিক সমর্থন দিচ্ছে, তাদের ওপরও চাপ তৈরি করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে উপসাগরীয় মিত্রদের বোঝাতে হবে যে সুদানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কোনো টেকসই লাভ নেই।
সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের উচিত সুদানের সেনাবাহিনীকে আলোচনার আগে দ্রুত সহায়তা বাহিনীকে নিরস্ত্র ও ভেঙে দেওয়ার শর্ত থেকে সরে আসতে উৎসাহিত করা।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উচিত দ্রুত সহায়তা বাহিনীর ওপর নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে তাদের সত্যিকার অর্থে যুদ্ধবিরতিতে বসানো।
এর অর্থ হতে পারে একটি কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নেওয়া—সুদানের পুরো দেশ শাসনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসা।
শেষ সুযোগটি কি কাজে লাগবে?
সুদানের মানুষের জন্য যুদ্ধ এখন আর কোনো রাজনৈতিক তত্ত্ব নয়। এটি তাদের ঘর হারানোর বাস্তবতা, ক্ষুধার বাস্তবতা, স্বজন হারানোর বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ হারানোর ভয়।
প্রতিদিন যুদ্ধ চলার অর্থ আরও মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়া। আরও পরিবার ভেঙে যাওয়া। আরও শহর ধ্বংস হওয়া। আরও সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্ম নেওয়া।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, সুদান ধীরে ধীরে এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে যেখানে যুদ্ধের কোনো শেষ নেই, শান্তির কোনো কেন্দ্র নেই এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ক্রমেই ছোট ছোট গোষ্ঠীর হাতে ভাগ হয়ে যায়।
সেই পথ শেষ পর্যন্ত শুধু সুদানকেই ধ্বংস করবে না; পুরো আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
তাই এখনই কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সময়।
যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা হয়তো খুবই ক্ষীণ। কিন্তু সুযোগ একেবারে নেই—এমনও নয়।
খার্তুমের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এখনো যদি শান্তির একটি দরজা খোলা থাকে, সেটি বন্ধ হওয়ার আগেই বিশ্বশক্তিগুলোকে সেখানে পৌঁছাতে হবে।
কারণ সুদানের জন্য এটি হয়তো আরেকটি যুদ্ধবিরতির সুযোগ নয়—এটি হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী বিভক্তি ও ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাওয়া ঠেকানোর শেষ বড় সুযোগ।
সুদানকে ভুলে গেলে যুদ্ধ থামবে না। বরং যুদ্ধ আরও গভীরে শিকড় গাড়বে।
আর তাই এখন প্রশ্ন একটাই—বিশ্ব কি আবারও তাকিয়ে থাকবে, নাকি এবার সত্যিই শান্তির জন্য চাপ দেবে?
সুদানের মানুষ অপেক্ষা করছে সেই উত্তরের জন্য।
সুদান নিয়ে এই ভয়াবহ সংকটের গভীরতা ও শান্তির সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রতিবেদনটি পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করুন।
সুদানের যুদ্ধ, সুদানের শান্তি, আফ্রিকার সংঘাত, খার্তুম, লোহিত সাগর, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ এখন পুরো অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















