আগামী ১২ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা—পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলোকে পুরোপুরি আড়াল করলে তৈরি হবে এই বিরল দৃশ্য। গ্রহণের পূর্ণতার পথ অতিক্রম করবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর, স্পেন এবং পর্তুগালের একটি ছোট অংশ দিয়ে। উত্তর গোলার্ধের আরও বিস্তৃত এলাকায় দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ।
কয়েক মিনিটের জন্য বদলে যাবে দিনের আকাশ
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ সূর্যের উজ্জ্বল চাকতিকে পুরোপুরি ঢেকে দেবে। তখন দিনের আলো হঠাৎ অনেকটা কমে যাবে এবং সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল, অর্থাৎ করোনা, অন্ধকার আকাশে দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে।
তবে এই সম্পূর্ণ অন্ধকারের সময়টি খুব বেশি দীর্ঘ হবে না। গ্রহণের পূর্ণতার পথে থাকা অধিকাংশ জায়গায় সূর্য পুরোপুরি ঢাকা থাকবে দুই মিনিটেরও কম সময়। গ্রহণের কেন্দ্রীয় পথের কিছু এলাকায় সময়টি আড়াই মিনিটের কাছাকাছি পৌঁছালেও এর বেশি হবে না।

কোথায় দেখা যাবে সবচেয়ে চমৎকার দৃশ্য
গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডে বিকেল থেকে সন্ধ্যার দিকে পূর্ণ গ্রহণ দেখা যাবে। স্পেন ও পর্তুগালের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ আগে পূর্ণ গ্রহণ ঘটবে। উত্তর রাশিয়ার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে আবার দিনের মাঝামাঝি সময়ে দেখা যাবে পূর্ণ গ্রহণ।
স্পেনের লেওনে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৮ মিনিটের দিকে পূর্ণ গ্রহণ শুরু হয়ে প্রায় দুই মিনিট স্থায়ী হবে। আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিকে বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে শুরু হবে পূর্ণতার পর্ব।
পূর্ণ গ্রহণের সরাসরি পথের বাইরে থাকা অনেক এলাকাতেও আকাশের বড় অংশে সূর্য ঢাকা পড়বে। যেমন মাদ্রিদে সূর্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ঢাকা পড়তে পারে। লন্ডনে প্রায় ৯১ শতাংশ এবং প্যারিসে প্রায় ৯২ শতাংশ সূর্য চাঁদের আড়ালে চলে যাবে।
উত্তর আমেরিকাতেও দেখা যাবে আংশিক গ্রহণ
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের মূল পথ ইউরোপ ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের ওপর দিয়ে গেলেও উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে। আলাস্কা থেকে কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় সূর্যের একটি অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাবে।

আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে সূর্যের প্রায় ২৮ শতাংশ, মেইনের ব্যাংগরে ২৪ শতাংশ এবং বোস্টনে প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত সূর্য ঢাকা পড়তে পারে। কানাডার মন্ট্রিয়লে এই হার প্রায় ১৮ শতাংশ।
খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না
সূর্যগ্রহণ দেখার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চোখের নিরাপত্তা। আংশিক গ্রহণের সময় সূর্যের দিকে সরাসরি তাকানো চোখের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। সাধারণ রোদচশমা এ ক্ষেত্রে নিরাপদ নয়।
গ্রহণের আংশিক পর্যায় দেখার জন্য অনুমোদিত সূর্য পর্যবেক্ষণ চশমা বা যথাযথ সৌর ফিল্টার ব্যবহার করা প্রয়োজন। সরাসরি না তাকিয়ে ছিদ্রপথে সূর্যের প্রতিবিম্ব দেখার মতো পরোক্ষ পদ্ধতিও ব্যবহার করা যায়।
শুধু পূর্ণ গ্রহণের অতি সংক্ষিপ্ত সময়ে, যখন চাঁদ সূর্যের উজ্জ্বল অংশ সম্পূর্ণ ঢেকে দেয়, তখন বিশেষ সুরক্ষা ছাড়া সরাসরি গ্রহণ দেখা নিরাপদ হতে পারে। কিন্তু পূর্ণতার আগে ও পরে চোখের সুরক্ষা অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।

বিজ্ঞানীদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রহণ
এই গ্রহণ শুধু আকাশপ্রেমীদের জন্য নয়, বিজ্ঞানীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের করোনা পর্যবেক্ষণের বিরল সুযোগ তৈরি হয়। এই কারণেই বিজ্ঞানীরা সূর্যের কার্যকলাপ এবং গ্রহণের কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সাময়িক পরিবর্তন নিয়ে গবেষণার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর দিয়ে ছুটে যাওয়ার এই কয়েক মিনিট তাই একদিকে যেমন অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য তৈরি করবে, অন্যদিকে সূর্য ও পৃথিবীর পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝার জন্যও হয়ে উঠবে মূল্যবান সময়।
আগামী ১২ আগস্টের সূর্যগ্রহণ হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মহাজাগতিক ঘটনা। পূর্ণ গ্রহণের সরাসরি পথের বাইরে থেকেও বিশ্বের বহু অঞ্চলের মানুষ আংশিক গ্রহণের সাক্ষী হতে পারবেন। তবে বিস্ময়কর এই দৃশ্য উপভোগের পাশাপাশি চোখের সুরক্ষার বিষয়টি কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















