০৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিচ্ছে চীন, নৌশক্তির পেছনে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণের বিশাল শক্তি হরমুজ ও লোহিত সাগরের ঝুঁকি বাড়তেই বিশ্বজুড়ে তেল পাইপলাইনে বিনিয়োগের হিড়িক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধাক্কা সামলে টিকে আছে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাত চীন-আমেরিকার নৌযুদ্ধের নেপথ্যে আসল শক্তি জাহাজ নির্মাণ: কেন ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে ওয়াশিংটন? হলিউডে এআইয়ের নতুন যুগ: সিনেমা বানানো থেকে তারকাদের পরিচয়—সবকিছুতেই বদলের হাওয়া দুনিয়া যখন শক্তিশালীদের দখলে, জাতিসংঘের নেতৃত্বে দরকার বাস্তববাদী কূটনীতিক সুদানে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে দেশ, ধ্বংসস্তূপে পরিণত খার্তুম—শেষ কোথায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের? চীনের পূর্ব উপকূলে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন, বন্যা-ভূমিধসের বড় শঙ্কা রাশিয়ার অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, ধসে পড়ছে ওয়াইল্ডবেরিজের ব্যবসা মিলেইয়ের নতুন বাজি: আর্জেন্টিনার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বদলে ভবিষ্যৎ সরকারকে বেঁধে রাখতে চান তিনি

ভালো স্বাস্থ্য, বেশি শক্তি ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে খাবার তালিকা থেকে যে একটি জিনিস কমানোর পরামর্শ

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কী রাখছি, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কোন খাবার বা পানীয় কতটা কমাচ্ছি, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদদের মতে, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তন করলে হজমশক্তি, শরীরের শক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আর সেই পরিবর্তনটি হলো—চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিমাণ কমানো।

অনেকেই তৃষ্ণা মেটাতে কোমল পানীয়, মিষ্টি জুস, মিষ্টি চা-কফি কিংবা বিভিন্ন ধরনের বোতলজাত পানীয় পান করেন। এসব পানীয় দেখতে বা স্বাদে আকর্ষণীয় হলেও নিয়মিত বেশি পরিমাণে পান করলে শরীরে অতিরিক্ত চিনি ঢোকে। পুষ্টিবিদদের মতে, এসব পানীয়ের পরিবর্তে সাধারণ পানি বা চিনি ছাড়া সোডা পানি বেছে নেওয়া তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে।

কেন চিনিযুক্ত পানীয় নিয়ে উদ্বেগ

চিনিযুক্ত পানীয় থেকে খুব সহজেই শরীরে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরি প্রবেশ করে। অথচ তরল খাবার পেট ভরার অনুভূতি তুলনামূলকভাবে কম দিতে পারে। ফলে একজন মানুষ নিজের অজান্তেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করতে পারেন।

দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত বেশি পরিমাণে মিষ্টি পানীয় পান করা হলে খাদ্যাভ্যাসের সামগ্রিক ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব

আমাদের পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য সামগ্রিক সুস্থতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। অন্ত্রে থাকা বিভিন্ন অণুজীব বা জীবাণুর ভারসাম্য শরীরের হজমপ্রক্রিয়া ও বিপাকের সঙ্গে সম্পর্কিত।

চিনিযুক্ত পানীয়ের বদলে পানি পান করলে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ কমানো সম্ভব হয়। এর ফলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা সহজ হতে পারে। তবে শুধু একটি পানীয় বাদ দিলেই অন্ত্রের সব সমস্যা দূর হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি, ফল, ডাল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।

শরীরে শক্তি ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে

চিনিযুক্ত পানীয় অনেক সময় দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। এরপর তা কমে গেলে কিছু মানুষের ক্লান্তি বা শক্তি কমে যাওয়ার অনুভূতি হতে পারে।

অন্যদিকে, পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানির ঘাটতি হলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা কিংবা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত পানি পান করা দৈনন্দিন শক্তি ও কর্মক্ষমতা ধরে রাখার একটি সহজ উপায়।

Breast Cancer Diet: Foods to Eat or Avoid and Healthy Tips

ক্যানসারের ঝুঁকির প্রসঙ্গ

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ, স্থূলতা এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের সমস্যার সঙ্গে কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা রয়েছে। তাই চিনিযুক্ত পানীয় কমানো সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ হতে পারে।

তবে এটিকে ক্যানসার প্রতিরোধের একক উপায় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

অভ্যাস বদলাবেন যেভাবে

হঠাৎ সব চিনিযুক্ত পানীয় বাদ দেওয়া অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে অভ্যাস পরিবর্তন করা যেতে পারে। প্রতিদিনের একটি মিষ্টি পানীয়ের বদলে প্রথমে এক গ্লাস সাধারণ পানি নেওয়া যেতে পারে। পরে চিনি ছাড়া চা বা কফি এবং চিনি ছাড়া সোডা পানীয়ের মতো বিকল্প বেছে নেওয়া সম্ভব।

পানি স্বাদহীন মনে হলে তাতে লেবু, শসা বা পুদিনা যোগ করেও পান করা যায়। এতে অতিরিক্ত চিনি ছাড়াই পানীয়টিকে আরও আকর্ষণীয় করা সম্ভব।

সবশেষে মূল বিষয় হলো—স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য কোনো একটি খাবার বা পানীয়কে একমাত্র দায়ী না করে পুরো খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া। তবে প্রতিদিনের চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিমাণ কমিয়ে তার জায়গায় পানি বেছে নেওয়া এমন একটি ছোট পরিবর্তন, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

ভালো স্বাস্থ্য অনেক বড় কোনো পরিবর্তন দিয়ে শুরু করতে হয় না; প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্ত থেকেই তার শুরু।

চিনিযুক্ত পানীয় কমিয়ে পানি বেছে নেওয়ার অভ্যাস তাই হতে পারে সেই সহজ পরিবর্তনগুলোর একটি।

ভালো থাকতে আজ থেকেই পানীয়ের গ্লাসে একটু কম চিনি, আর একটু বেশি পানি রাখুন।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিচ্ছে চীন, নৌশক্তির পেছনে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণের বিশাল শক্তি

ভালো স্বাস্থ্য, বেশি শক্তি ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে খাবার তালিকা থেকে যে একটি জিনিস কমানোর পরামর্শ

০৪:৩২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কী রাখছি, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কোন খাবার বা পানীয় কতটা কমাচ্ছি, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদদের মতে, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তন করলে হজমশক্তি, শরীরের শক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আর সেই পরিবর্তনটি হলো—চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিমাণ কমানো।

অনেকেই তৃষ্ণা মেটাতে কোমল পানীয়, মিষ্টি জুস, মিষ্টি চা-কফি কিংবা বিভিন্ন ধরনের বোতলজাত পানীয় পান করেন। এসব পানীয় দেখতে বা স্বাদে আকর্ষণীয় হলেও নিয়মিত বেশি পরিমাণে পান করলে শরীরে অতিরিক্ত চিনি ঢোকে। পুষ্টিবিদদের মতে, এসব পানীয়ের পরিবর্তে সাধারণ পানি বা চিনি ছাড়া সোডা পানি বেছে নেওয়া তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে।

কেন চিনিযুক্ত পানীয় নিয়ে উদ্বেগ

চিনিযুক্ত পানীয় থেকে খুব সহজেই শরীরে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরি প্রবেশ করে। অথচ তরল খাবার পেট ভরার অনুভূতি তুলনামূলকভাবে কম দিতে পারে। ফলে একজন মানুষ নিজের অজান্তেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করতে পারেন।

দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত বেশি পরিমাণে মিষ্টি পানীয় পান করা হলে খাদ্যাভ্যাসের সামগ্রিক ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব

আমাদের পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য সামগ্রিক সুস্থতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। অন্ত্রে থাকা বিভিন্ন অণুজীব বা জীবাণুর ভারসাম্য শরীরের হজমপ্রক্রিয়া ও বিপাকের সঙ্গে সম্পর্কিত।

চিনিযুক্ত পানীয়ের বদলে পানি পান করলে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ কমানো সম্ভব হয়। এর ফলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা সহজ হতে পারে। তবে শুধু একটি পানীয় বাদ দিলেই অন্ত্রের সব সমস্যা দূর হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি, ফল, ডাল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।

শরীরে শক্তি ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে

চিনিযুক্ত পানীয় অনেক সময় দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। এরপর তা কমে গেলে কিছু মানুষের ক্লান্তি বা শক্তি কমে যাওয়ার অনুভূতি হতে পারে।

অন্যদিকে, পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানির ঘাটতি হলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা কিংবা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত পানি পান করা দৈনন্দিন শক্তি ও কর্মক্ষমতা ধরে রাখার একটি সহজ উপায়।

Breast Cancer Diet: Foods to Eat or Avoid and Healthy Tips

ক্যানসারের ঝুঁকির প্রসঙ্গ

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ, স্থূলতা এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের সমস্যার সঙ্গে কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা রয়েছে। তাই চিনিযুক্ত পানীয় কমানো সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ হতে পারে।

তবে এটিকে ক্যানসার প্রতিরোধের একক উপায় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

অভ্যাস বদলাবেন যেভাবে

হঠাৎ সব চিনিযুক্ত পানীয় বাদ দেওয়া অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে অভ্যাস পরিবর্তন করা যেতে পারে। প্রতিদিনের একটি মিষ্টি পানীয়ের বদলে প্রথমে এক গ্লাস সাধারণ পানি নেওয়া যেতে পারে। পরে চিনি ছাড়া চা বা কফি এবং চিনি ছাড়া সোডা পানীয়ের মতো বিকল্প বেছে নেওয়া সম্ভব।

পানি স্বাদহীন মনে হলে তাতে লেবু, শসা বা পুদিনা যোগ করেও পান করা যায়। এতে অতিরিক্ত চিনি ছাড়াই পানীয়টিকে আরও আকর্ষণীয় করা সম্ভব।

সবশেষে মূল বিষয় হলো—স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য কোনো একটি খাবার বা পানীয়কে একমাত্র দায়ী না করে পুরো খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া। তবে প্রতিদিনের চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিমাণ কমিয়ে তার জায়গায় পানি বেছে নেওয়া এমন একটি ছোট পরিবর্তন, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

ভালো স্বাস্থ্য অনেক বড় কোনো পরিবর্তন দিয়ে শুরু করতে হয় না; প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্ত থেকেই তার শুরু।

চিনিযুক্ত পানীয় কমিয়ে পানি বেছে নেওয়ার অভ্যাস তাই হতে পারে সেই সহজ পরিবর্তনগুলোর একটি।

ভালো থাকতে আজ থেকেই পানীয়ের গ্লাসে একটু কম চিনি, আর একটু বেশি পানি রাখুন।