০৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
পারি মনির ধর্ষণচেষ্টা মামলা: ৩০ নভেম্বর ফের জেরার মুখোমুখি অভিনেত্রী কিছুই ঘটবে না—এই বাজি কি ফেডের জন্য বিপজ্জনক? ৪৩ বছর বয়সেও ‘চিরকিশোর’ রাজনীতিক! জ্যাক পোলানস্কিকে ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক হরমুজ ও লোহিত সাগরের ঝুঁকি বাড়তেই বিশ্বজুড়ে তেল পাইপলাইনে বিনিয়োগের হিড়িক চাঁদের মাটিতে রকেট, পৃথিবীতে ধাক্কা—মাস্কের মহাকাশ সাম্রাজ্য নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নতুন শঙ্কা জাপানকে ঘিরে চীনের আগ্রাসী চাপ, আসল লক্ষ্য কি যুক্তরাষ্ট্রের এশীয় আধিপত্য? দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী শিল্পে টিএসএমসির কৌশল, যেভাবে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনে বিশ্বজয় গাজা নিয়ে ট্রাম্পের ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার নয় দ্বৈত কৌশলগত সিদ্ধান্ত: ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সংঘাত নয়, শান্তির পথ বেছে নেওয়ার সময় গ্র্যামির ‘এশিয়ান পপ’ খাঁচায় বিটিএসকে বন্দি করা কি সত্যিই স্বীকৃতি?

চীনের পূর্ব উপকূলে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন, বন্যা-ভূমিধসের বড় শঙ্কা

  • Sarakhon Report
  • ০৬:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • 15

চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন। রোববার সন্ধ্যায় ঝড়টি চীনের উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির প্রভাবে পূর্ব চীনের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হতে শুরু করেছে। বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের আশঙ্কায় লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, ডলফিন চলতি বছরে এখন পর্যন্ত চীনের উপকূলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন হতে পারে। উপকূলে আঘাতের সময় ঝড়টির বাতাসের স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬২ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। শক্তির দিক থেকে এটি দ্বিতীয় শ্রেণির ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য।

ঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশের পর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়লেও বিপদ তখনই শেষ হবে না। বরং দীর্ঘ সময় ধরে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পূর্ব ও মধ্য চীনের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

১০ আগস্ট পর্যন্ত চলতে পারে প্রবল বৃষ্টি

টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে ঝেজিয়াং, সাংহাই, উত্তর ফুজিয়ান, উত্তর-পূর্ব জিয়াংসি, মধ্য ও দক্ষিণ আনহুই এবং জিয়াংসুর বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে ঝেজিয়াংয়ের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এত বিপুল বৃষ্টিপাত অল্প সময়ে হলে নদী ও জলাধারের পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

পাহাড়ি এলাকাগুলো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে গেলে ভূমিধস এবং পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। ছোট নদীগুলোও দ্রুত ফুলে উঠে বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।

এক কোটির কাছাকাছি নয়, তবে ১০ লাখের বেশি মানুষ নিরাপদে

ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পূর্ব চীনের বিভিন্ন এলাকায় এরই মধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকা, দ্বীপ, পাহাড়ি অঞ্চল এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনঝৌ শহরেই ৯ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য এক হাজারের বেশি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

ফুজিয়ান প্রদেশেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ৯৮ হাজার ৯০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় তৃতীয় স্তরের জরুরি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ঝেজিয়াং, সাংহাই ও জিয়াংসুতেও একই মাত্রার জরুরি সতর্কতা জারি রয়েছে।

সাংহাইয়ে হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল

টাইফুনের প্রভাবে চীনের অন্যতম ব্যস্ত শহর সাংহাইয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। শহরটিতে অন্তত ৩০ হাজার ৩০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বাতিল করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ফ্লাইট। ফলে বহু যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন বা তাদের যাত্রার সময় পরিবর্তন করতে হয়েছে।

গুয়াংডং থেকে আসা ৪৪ বছর বয়সী এক পর্যটক জানান, টাইফুনের কারণে তার পরিবারের রোববার সন্ধ্যার নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। পরে তাদের সোমবার রাত ১০টার একটি ফ্লাইটে নতুন করে বুকিং দেওয়া হলেও সেটি শেষ পর্যন্ত উড়তে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।

তবে দক্ষিণ চীনের মানুষের কাছে টাইফুন নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। ওই পর্যটকের ভাষায়, গুয়াংডংয়ের মানুষের কাছে এমন ঝড় অনেকটা দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু এবারের ঝড়ের ব্যাপকতা ও সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের কারণে কর্তৃপক্ষ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

Typhoon Dolphin hits China's east coast, over 1 million evacuated | Reuters

বন্দরে জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

ঝড়ের আগে উপকূলীয় বন্দরগুলোতেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সাংহাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ইয়াংশান বন্দরে জাহাজগুলোকে ঘাট থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।

৫০০টির বেশি ছোট ও মাঝারি আকারের নৌযানকে আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রে থাকা শ্রমিকদের নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকায় নৌযান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

ফুজিয়ান প্রদেশে ৫৫টি উপকূলীয় যাত্রীবাহী ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১১৫টি সামুদ্রিক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ স্থগিত করা হয়েছে এবং ২৯০টি নির্মাণযানকে নিরাপদ পানিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নদীগুলোতে বাড়ছে বন্যার আশঙ্কা

চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চিয়ানতাং, ইয়ং, জিয়াও ও শুইইয়াং নদীতে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। ঝড়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়া এলাকায় ছোট নদীগুলোর পানিও সতর্কতা সীমা অতিক্রম করতে পারে।

কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে ঝেজিয়াংয়ের পাহাড়ি অঞ্চল নিয়ে উদ্বিগ্ন। সেখানে ভূমিধস ও পাহাড়ি ঢলের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। যেসব এলাকায় পাহাড়ি ঢল নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের প্রশাসনের নির্দেশ মেনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জলাধার, পাহাড়ি ঝরনা, নির্মাণ এলাকা, ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চল ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঝড়ের সময় মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জাপানে তাণ্ডব চালিয়ে চীনের দিকে ডলফিন

চীনে আঘাত হানার আগে টাইফুন ডলফিন জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া এলাকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। সেখানে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন এবং ৫০ হাজারের বেশি ভবন বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ওকিনাওয়ায় ঝড়ের তাণ্ডবের পর এবার চীনের দিকে এগিয়ে আসছে ডলফিন। ফলে চীনের পূর্ব উপকূলের পাশাপাশি দেশের ভেতরের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থলভাগে ঢোকার পরও বিপদ কাটবে না

আবহাওয়াবিদদের মতে, ডলফিন উপকূলে আঘাত হানার পর পশ্চিম দিকে এগিয়ে যেতে পারে। পরে মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু ঝড় দুর্বল হয়ে গেলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—এমনটা মনে করছেন না কর্মকর্তারা। কারণ ঝড়ের গতিপথ ধীর হয়ে গেলে ভারী বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। আর দীর্ঘ সময়ের প্রবল বৃষ্টিই বন্যা, নদীর পানি বৃদ্ধি, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বাড়িয়ে দেয়।

এ কারণে চীনের পূর্বাঞ্চলে এখন শুধু ঝড়ের বাতাস নয়, বরং ঝড়ের পরের বৃষ্টিকেই বড় বিপদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, নৌযান ও বিমান চলাচল বন্ধ রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ব্যবস্থা জোরদার করার মধ্য দিয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

টাইফুন ডলফিনের গতিপথ, বাতাসের শক্তি ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর আগামী কয়েক ঘণ্টায় পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হবে। তবে পূর্ব চীনের উপকূলজুড়ে ইতোমধ্যে যে সতর্কতা ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে—ডলফিনকে ঘিরে সম্ভাব্য বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিকে কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পারি মনির ধর্ষণচেষ্টা মামলা: ৩০ নভেম্বর ফের জেরার মুখোমুখি অভিনেত্রী

চীনের পূর্ব উপকূলে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন, বন্যা-ভূমিধসের বড় শঙ্কা

০৬:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন। রোববার সন্ধ্যায় ঝড়টি চীনের উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির প্রভাবে পূর্ব চীনের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হতে শুরু করেছে। বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের আশঙ্কায় লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, ডলফিন চলতি বছরে এখন পর্যন্ত চীনের উপকূলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন হতে পারে। উপকূলে আঘাতের সময় ঝড়টির বাতাসের স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬২ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। শক্তির দিক থেকে এটি দ্বিতীয় শ্রেণির ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য।

ঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশের পর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়লেও বিপদ তখনই শেষ হবে না। বরং দীর্ঘ সময় ধরে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পূর্ব ও মধ্য চীনের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

১০ আগস্ট পর্যন্ত চলতে পারে প্রবল বৃষ্টি

টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে ঝেজিয়াং, সাংহাই, উত্তর ফুজিয়ান, উত্তর-পূর্ব জিয়াংসি, মধ্য ও দক্ষিণ আনহুই এবং জিয়াংসুর বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে ঝেজিয়াংয়ের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এত বিপুল বৃষ্টিপাত অল্প সময়ে হলে নদী ও জলাধারের পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

পাহাড়ি এলাকাগুলো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে গেলে ভূমিধস এবং পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। ছোট নদীগুলোও দ্রুত ফুলে উঠে বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।

এক কোটির কাছাকাছি নয়, তবে ১০ লাখের বেশি মানুষ নিরাপদে

ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পূর্ব চীনের বিভিন্ন এলাকায় এরই মধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকা, দ্বীপ, পাহাড়ি অঞ্চল এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনঝৌ শহরেই ৯ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য এক হাজারের বেশি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

ফুজিয়ান প্রদেশেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ৯৮ হাজার ৯০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় তৃতীয় স্তরের জরুরি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ঝেজিয়াং, সাংহাই ও জিয়াংসুতেও একই মাত্রার জরুরি সতর্কতা জারি রয়েছে।

সাংহাইয়ে হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল

টাইফুনের প্রভাবে চীনের অন্যতম ব্যস্ত শহর সাংহাইয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। শহরটিতে অন্তত ৩০ হাজার ৩০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বাতিল করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ফ্লাইট। ফলে বহু যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন বা তাদের যাত্রার সময় পরিবর্তন করতে হয়েছে।

গুয়াংডং থেকে আসা ৪৪ বছর বয়সী এক পর্যটক জানান, টাইফুনের কারণে তার পরিবারের রোববার সন্ধ্যার নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। পরে তাদের সোমবার রাত ১০টার একটি ফ্লাইটে নতুন করে বুকিং দেওয়া হলেও সেটি শেষ পর্যন্ত উড়তে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।

তবে দক্ষিণ চীনের মানুষের কাছে টাইফুন নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। ওই পর্যটকের ভাষায়, গুয়াংডংয়ের মানুষের কাছে এমন ঝড় অনেকটা দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু এবারের ঝড়ের ব্যাপকতা ও সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের কারণে কর্তৃপক্ষ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

Typhoon Dolphin hits China's east coast, over 1 million evacuated | Reuters

বন্দরে জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

ঝড়ের আগে উপকূলীয় বন্দরগুলোতেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সাংহাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ইয়াংশান বন্দরে জাহাজগুলোকে ঘাট থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।

৫০০টির বেশি ছোট ও মাঝারি আকারের নৌযানকে আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রে থাকা শ্রমিকদের নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকায় নৌযান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

ফুজিয়ান প্রদেশে ৫৫টি উপকূলীয় যাত্রীবাহী ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১১৫টি সামুদ্রিক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ স্থগিত করা হয়েছে এবং ২৯০টি নির্মাণযানকে নিরাপদ পানিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নদীগুলোতে বাড়ছে বন্যার আশঙ্কা

চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চিয়ানতাং, ইয়ং, জিয়াও ও শুইইয়াং নদীতে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। ঝড়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়া এলাকায় ছোট নদীগুলোর পানিও সতর্কতা সীমা অতিক্রম করতে পারে।

কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে ঝেজিয়াংয়ের পাহাড়ি অঞ্চল নিয়ে উদ্বিগ্ন। সেখানে ভূমিধস ও পাহাড়ি ঢলের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। যেসব এলাকায় পাহাড়ি ঢল নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের প্রশাসনের নির্দেশ মেনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জলাধার, পাহাড়ি ঝরনা, নির্মাণ এলাকা, ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চল ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঝড়ের সময় মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জাপানে তাণ্ডব চালিয়ে চীনের দিকে ডলফিন

চীনে আঘাত হানার আগে টাইফুন ডলফিন জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া এলাকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। সেখানে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন এবং ৫০ হাজারের বেশি ভবন বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ওকিনাওয়ায় ঝড়ের তাণ্ডবের পর এবার চীনের দিকে এগিয়ে আসছে ডলফিন। ফলে চীনের পূর্ব উপকূলের পাশাপাশি দেশের ভেতরের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থলভাগে ঢোকার পরও বিপদ কাটবে না

আবহাওয়াবিদদের মতে, ডলফিন উপকূলে আঘাত হানার পর পশ্চিম দিকে এগিয়ে যেতে পারে। পরে মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু ঝড় দুর্বল হয়ে গেলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—এমনটা মনে করছেন না কর্মকর্তারা। কারণ ঝড়ের গতিপথ ধীর হয়ে গেলে ভারী বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। আর দীর্ঘ সময়ের প্রবল বৃষ্টিই বন্যা, নদীর পানি বৃদ্ধি, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বাড়িয়ে দেয়।

এ কারণে চীনের পূর্বাঞ্চলে এখন শুধু ঝড়ের বাতাস নয়, বরং ঝড়ের পরের বৃষ্টিকেই বড় বিপদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, নৌযান ও বিমান চলাচল বন্ধ রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ব্যবস্থা জোরদার করার মধ্য দিয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

টাইফুন ডলফিনের গতিপথ, বাতাসের শক্তি ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর আগামী কয়েক ঘণ্টায় পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হবে। তবে পূর্ব চীনের উপকূলজুড়ে ইতোমধ্যে যে সতর্কতা ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে—ডলফিনকে ঘিরে সম্ভাব্য বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিকে কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।