একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সাফল্য কেবল কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো ফল করল, কতজন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো কিংবা কতজন কর্মসংস্থানে প্রবেশ করল—এসব সূচক দিয়ে মাপা যায় না। শিক্ষা শেষ পর্যন্ত কেমন মানুষ তৈরি করছে, সেটিই তার সবচেয়ে গভীর পরীক্ষা। জ্ঞান যদি দায়িত্ববোধ তৈরি না করে, মেধা যদি সহমর্মিতার সঙ্গে যুক্ত না হয় এবং সাফল্য যদি সামাজিক কর্তব্যবোধকে দুর্বল করে, তাহলে সেই শিক্ষাব্যবস্থার অর্জন নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ থাকে।
এই জায়গাতেই মূল্যবোধের শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবা জরুরি। শ্রীলঙ্কার শিক্ষা নীতিতে কয়েক দশক ধরেই নৈতিকতা, মানবিকতা, সামাজিক দায়িত্ব, আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জাতীয় সংহতির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু নীতিপত্রে কোনো বিষয়কে স্বীকার করা আর বাস্তবে শিক্ষার্থীর চরিত্র ও আচরণে তার প্রতিফলন ঘটানো এক নয়। বর্তমান বিতর্কের মূল প্রশ্ন তাই মূল্যবোধের প্রয়োজন আছে কি না—এটি নয়। বরং প্রশ্ন হলো, মূল্যবোধ শেখানোর পদ্ধতিটি কার্যকর, সুসংগঠিত এবং বাস্তবসম্মত কি না।
নীতির সঙ্গে বাস্তবতার দূরত্ব
১৯৯২ সালের জাতীয় শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনে মূল্যবোধকে শিক্ষার একটি কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তখন মূল্যবোধ শেখানোর জন্য আলাদা একটি বিষয় চালুর বদলে বিদ্যমান পাঠ্যক্রম, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন পরিবেশের মধ্যে তা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়। ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, নাগরিক শিক্ষা, সামাজিক শিক্ষা, পরিবেশ ও ধর্মীয় শিক্ষার মতো বিভিন্ন বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ গড়ে তোলার ধারণাটি ছিল এর ভিত্তি।
কাগজে পরিকল্পনাটি আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবায়নের প্রশ্নটি ছিল অনেক বেশি জটিল। মূল্যবোধ কোন শ্রেণিতে, কোন বয়সে, কোন বিষয়ের মাধ্যমে এবং কী ধরনের শিক্ষণপদ্ধতিতে শেখানো হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট কাঠামো না থাকলে একটি ভালো নীতিও সহজেই সাধারণ ঘোষণায় পরিণত হতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ের একটি গবেষণাতেও এমন দুর্বলতার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। মূল্যবোধ শিক্ষার জন্য সুস্পষ্ট ও ধারাবাহিক পাঠ্যক্রম কাঠামোর অভাব ছিল বড় সমস্যা। শিক্ষকদের একটি অংশের কাছে মূল্যবোধ শেখানোর উপযুক্ত পদ্ধতি ও কৌশলও যথেষ্ট পরিষ্কার ছিল না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল মূল্যবোধ শেখার ফলাফল মূল্যায়নের অনুপস্থিতি। শিক্ষাব্যবস্থা যখন মূলত জ্ঞান অর্জন ও পরীক্ষার ফলের ওপর গুরুত্ব দেয়, তখন শিক্ষার্থীর আচরণ, মনোভাব, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সংবেদনশীলতার বিকাশ সহজেই পিছিয়ে পড়ে।
অর্থাৎ সমস্যা মূল্যবোধের ধারণায় নয়; সমস্যা ছিল সেটিকে শিক্ষার একটি বাস্তব ও পরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় রূপ দেওয়ার ব্যর্থতায়।
২০২৬ সালে নতুন করে ‘ধর্ম ও মূল্যবোধ শিক্ষা’ নামে বাধ্যতামূলক বিষয় চালুর উদ্যোগ সেই পুরোনো দুর্বলতাকে নতুনভাবে সামনে এনেছে। প্রথম থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এই বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে মূল্যবোধের শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত বার্তা বহন করে। কিন্তু এখানেই আরও মৌলিক একটি প্রশ্ন উঠছে—ধর্মীয় শিক্ষা এবং মূল্যবোধের শিক্ষা কি একই বিষয়?
ধর্ম শিক্ষা ও মূল্যবোধ শিক্ষা এক নয়
ধর্ম মানুষের নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, সংযম ও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধার মতো বহু মূল্যবোধের উৎস হতে পারে। কিন্তু আধুনিক সমাজে নাগরিক হিসেবে একজন শিক্ষার্থীর যে বিস্তৃত দক্ষতা ও মানসিক গুণাবলি প্রয়োজন, সেগুলোর সবকিছুকে ধর্মীয় শিক্ষার পরিসরের মধ্যে আনা সম্ভব নয়।
একজন শিক্ষার্থীকে শুধু ভালো-মন্দের ধারণা জানলেই হবে না। তাকে ভিন্নমত শুনতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে, অন্যের অধিকার বুঝতে হবে, বহুত্ববাদী সমাজে সহাবস্থান করতে হবে, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে এবং নিজের সিদ্ধান্তের সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। এসব দক্ষতা অনুশীলনের জন্য এমন একটি শিক্ষাক্ষেত্র দরকার, যেখানে বিভিন্ন বিশ্বাস ও পরিচয়ের শিক্ষার্থীরা একটি অভিন্ন মানবিক ভিত্তির ওপর একসঙ্গে শিখতে পারে।
এই কারণে ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধ শিক্ষাকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, পরিপূরক হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত। ধর্ম মানুষের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে; অন্যদিকে মূল্যবোধ শিক্ষা বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে একটি সাধারণ নাগরিক ও মানবিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
একটি বহু-ধর্মীয় ও বহু-জাতিগোষ্ঠীর সমাজে এই পার্থক্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যে শিক্ষা শিশুদের নিজের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পাশাপাশি অন্যের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির প্রতিও সম্মান দেখাতে শেখাবে, সেটিই সামাজিক সংহতির জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে।

মূল্যবোধ শুধু বই পড়ে শেখা যায় না
তবে একটি আলাদা বিষয় চালু করলেই সমস্যার সমাধান হবে—এমন ধারণাও বাস্তবসম্মত নয়। মূল্যবোধ কোনো পরীক্ষার সংজ্ঞা মুখস্থ করার বিষয় নয়। একজন শিক্ষার্থী সততা সম্পর্কে অনেক কিছু লিখতে পারে, কিন্তু বিদ্যালয়ের বাস্তব পরিবেশ যদি তাকে অসততার সুযোগ দেয় এবং সেটি সহ্য করে, তাহলে সেই পাঠের প্রভাব কতটা গভীর হবে?
মূল্যবোধের শিক্ষা তাই শ্রেণিকক্ষের পাঠের সঙ্গে বিদ্যালয়ের সংস্কৃতিকেও যুক্ত করতে হবে। বিদ্যালয়ের নিয়ম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক, সহপাঠীদের সঙ্গে আচরণ, অনুষ্ঠান, সামাজিক কর্মকাণ্ড, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ—সবকিছুই মূল্যবোধ শেখার বাস্তব ক্ষেত্র হতে পারে।
একজন শিক্ষার্থী যখন কোনো সামাজিক উদ্যোগে অংশ নেয়, স্থানীয় পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে, ভিন্ন পটভূমির সহপাঠীর সঙ্গে সহযোগিতা করে কিংবা কোনো সমস্যার নৈতিক দিক নিয়ে আলোচনা করে, তখন সে বইয়ের বাইরের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মূল্যবোধ শিখছে। এই অভিজ্ঞতাগুলোকে যদি পাঠ্যক্রমের অংশ করা যায়, তাহলে শিক্ষা অনেক বেশি জীবন্ত হয়ে উঠবে।
এখানে শিক্ষক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি
কোনো মূল্যবোধ শিক্ষা কার্যক্রমের সাফল্য শেষ পর্যন্ত শিক্ষকের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। শিক্ষক নিজেই যদি কেবল পাঠ্যবই শেষ করা ও পরীক্ষার প্রস্তুতিকে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য মনে করেন, তাহলে নতুন বিষয়ও আরেকটি পরীক্ষাভিত্তিক পাঠে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
তাই মূল্যবোধ শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণকে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত করতে হবে। ভবিষ্যৎ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে মূল্যবোধ শেখানোর পদ্ধতি, আলোচনাভিত্তিক শিক্ষা, বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, সামাজিক ও পরিবেশভিত্তিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীর মনোভাব ও আচরণ মূল্যায়নের কৌশল অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
শিক্ষকদের শুধু কী পড়াতে হবে তা জানালে হবে না; কীভাবে শিক্ষার্থীদের ভাবতে, প্রশ্ন করতে, নিজের আচরণ বিশ্লেষণ করতে এবং অন্যের অবস্থান বুঝতে সাহায্য করতে হবে—সেটিও জানতে হবে।
মূল্যায়ন ছাড়া নীতি অসম্পূর্ণ
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো মূল্যায়ন। মূল্যবোধকে যদি শিক্ষার আনুষ্ঠানিক অংশ করা হয়, তাহলে এর লক্ষ্য ও প্রত্যাশিত ফলাফলও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এর অর্থ এই নয় যে সহমর্মিতার জন্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় নম্বর দেওয়া হবে কিংবা নৈতিকতার জন্য নির্দিষ্ট উত্তর মুখস্থ করানো হবে।
বরং বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী শিক্ষার্থীর আচরণগত ও সামাজিক বিকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি তৈরি করা যেতে পারে। অংশগ্রহণ, দলগত কাজ, দায়িত্ব গ্রহণ, সমস্যা সমাধান, সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ততা এবং ভিন্নমতের প্রতি সম্মান—এসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর অগ্রগতি কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, তার একটি শিক্ষাবান্ধব কাঠামো প্রয়োজন।
এ ধরনের মূল্যায়ন শাস্তিমূলক হওয়া উচিত নয়। এর উদ্দেশ্য হবে শিক্ষার্থীকে উন্নত হতে সাহায্য করা এবং শিক্ষককে বুঝতে সহায়তা করা যে কোন ক্ষেত্রে আরও কাজ প্রয়োজন।
জাতীয় সংহতির জন্যও মূল্যবোধ শিক্ষা জরুরি
মূল্যবোধের প্রশ্নটি কেবল ব্যক্তিগত চরিত্র গঠনের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের সামাজিক ভবিষ্যতের সঙ্গেও যুক্ত। বিভাজন, সন্দেহ, বৈষম্য ও পারস্পরিক অবিশ্বাসে আক্রান্ত সমাজে কেবল আইন করে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনা কঠিন। মানুষের আচরণ ও সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তনও প্রয়োজন।
একটি শিশু যদি ছোটবেলা থেকেই শেখে যে তার নিজের সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু অন্যের সংস্কৃতিও সম্মানের যোগ্য; নিজের অধিকার যেমন আছে, তেমনি অন্যের অধিকারও আছে; দেশপ্রেম মানে অন্যকে বাদ দেওয়া নয়, বরং সবাইকে নিয়ে একটি অভিন্ন সমাজ গড়ে তোলা—তাহলে ভবিষ্যতের নাগরিক সংস্কৃতি ভিন্ন হতে পারে।
এ কারণেই মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় ঐক্যের একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এটি কোনো তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রকল্প নয় এবং এর ফলও এক বা দুই বছরে মাপা সম্ভব নয়। কিন্তু একটি সমাজের সহনশীলতা, পারস্পরিক আস্থা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব গড়ে তুলতে এর গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।
![]()
সংস্কারের সুযোগ নষ্ট করা যাবে না
শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া। আগে মূল্যবোধের কথা নীতিতে ছিল, কিন্তু তার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো, শিক্ষক দক্ষতা, বিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রম ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না। নতুন উদ্যোগ যদি শুধু একটি নতুন বিষয়ের নাম যোগ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে পুরোনো সমস্যাই নতুন মোড়কে ফিরে আসবে।
প্রয়োজন একটি সুস্পষ্ট জাতীয় মূল্যবোধ শিক্ষা কাঠামো—যেখানে শ্রেণিভিত্তিক লক্ষ্য থাকবে, বিষয়বস্তু ধারাবাহিকভাবে সাজানো থাকবে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান থাকবে এবং বিদ্যালয়ের বাস্তব জীবনকে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, গবেষণা, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই নীতি তৈরির কাজে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়। দীর্ঘদিন শিক্ষা গবেষণা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পাঠ্যক্রম উন্নয়নে কাজ করা অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদদের জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। একটি কার্যকর নীতি তৈরি হওয়ার পরও সেটিকে স্থির ও অপরিবর্তনীয় ধরে নেওয়া যাবে না। বাস্তব প্রয়োগের ফল, গবেষণা ও নতুন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিয়মিত সংশোধন করতে হবে।
শেষ পর্যন্ত শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু এমন মানুষ তৈরি করা নয়, যে পরীক্ষায় সঠিক উত্তর দিতে পারে। উদ্দেশ্য এমন নাগরিক তৈরি করা, যে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার নৈতিক শক্তিও রাখে। জ্ঞান মানুষকে সক্ষম করে, কিন্তু মূল্যবোধ সেই সক্ষমতার দিক নির্ধারণ করে।
একটি সমাজ যদি মেধাবী কিন্তু দায়িত্বহীন, দক্ষ কিন্তু অসহিষ্ণু, সফল কিন্তু সহমর্মিতাহীন প্রজন্ম তৈরি করে, তবে তার শিক্ষাব্যবস্থা নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ব্যর্থ হয়েছে। তাই মূল্যবোধ শিক্ষা কোনো অতিরিক্ত বিষয় নয়; এটি শিক্ষার মানবিক ভিত্তি। প্রশ্ন শুধু এটি থাকবে কি না—প্রশ্ন হলো, আমরা কি এবার সত্যিই এটিকে এমনভাবে শেখাতে পারব, যাতে তা বইয়ের পাতায় নয়, মানুষের জীবনে প্রতিফলিত হয়?
মূল লেখক: ড. এন. জি. কুলারাত্না ও ড. গডউইন কোডিতুওয়াক্কু
ড. এন. জি. কুলারাত্না ও ড. গডউইন কোডিতুওয়াক্কু 


















