০১:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
হরমুজ প্রণালীকে হাতিয়ার করে জুনের চুক্তিতে ফিরতে চাইছে ইরান বাফুফের বিদেশি কোচের বিস্ফোরক অভিযোগ: ‘ভয়ে আছি, স্ত্রী-সন্তানকে টাকা পাঠাতে পারছি না’ এসএসসি-সমমানে পরীক্ষার্থী কমেছে, ফেল বেড়েছে প্রায় ৯০ হাজার আসামে ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা ১০০, পানিবন্দি প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার সিলেটে ১৪ মাস পর আবারও করোনা শনাক্ত, হাসপাতালে ৫৫ বছরের রোগী সৌদি আরবে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৬ বাংলাদেশি এসএসসি-সমমানের ফলে বড় পতন, পাসের হার নেমে ৬২.২৫ শতাংশ কল্যাণ সংস্কারে শুধু তথ্য নয়, দরকার সঠিক রাজনৈতিক সময় হরমুজ প্রণালীকে ‘অস্ত্র’ বানিয়ে দীর্ঘদিন চাপ ধরে রাখতে পারবে ইরান ১৩ বছরের কিশোরকে চাপা দিয়ে হত্যার পরও দুই বছরেই মুক্তি, ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার

হরমুজ প্রণালীকে ‘অস্ত্র’ বানিয়ে দীর্ঘদিন চাপ ধরে রাখতে পারবে ইরান

পাঁচ মাসের যুদ্ধ ইরানকে বুঝিয়ে দিয়েছে, পরমাণু অস্ত্র ছাড়াও তার হাতে এমন একটি শক্তিশালী কৌশলগত অস্ত্র রয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। সেই অস্ত্র হলো হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণে রেখে ইরান তার প্রতিপক্ষের ওপর দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

বছরের পর বছর ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ দেখিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সামরিক সক্ষমতার কারণে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করাই ইরানের জন্য বড় কৌশলগত সুবিধা হয়ে উঠেছে।

ইরানের বিরোধীরা অবশ্য মনে করছে, হরমুজকে বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকবে না। উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে বিকল্প পথে তেল ও অন্যান্য পণ্য পাঠানোর ব্যবস্থা বাড়াতে শুরু করেছে। তবে বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমলেও ইরানের প্রভাব একেবারে শেষ হয়ে যাবে না।

তেল পরিবহনে বিকল্প পথ তৈরি হচ্ছে

যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেত। এর একটি অংশ এখন বিকল্প পথে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত। যুদ্ধের আগে পাইপলাইনটি প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। এখন সেটি পূর্ণ ৭০ লাখ ব্যারেল সক্ষমতায় চলছে।

How long can Iran weaponise Hormuz?

সংযুক্ত আরব আমিরাতও তার হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইনের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করছে। পাইপলাইনটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা যায়। এর বাইরে ইরাকের একটি পুরোনো পাইপলাইনও আবার ব্যবহার শুরু হয়েছে।

তবে এসব বিকল্প ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরও প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের জন্য হরমুজের বিকল্প থাকবে না।

২০৩০ সালের মধ্যে আরও পাইপলাইন

যুদ্ধের পর উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন পাইপলাইন তৈরির পরিকল্পনা জোরদার করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে অগ্রসর প্রকল্পটি বিদ্যমান পাইপলাইনের সমান্তরালে নির্মিত হবে এবং ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ প্রতিদিন আরও ১৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ইরাকও তার বিদ্যমান পাইপলাইনের সক্ষমতা এক বছরের মধ্যে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের তেলক্ষেত্রকে জর্ডান, সিরিয়া ও তুরস্কের বিদ্যমান পরিবহনপথের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য নতুন পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে আরও প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল প্রতিদিন হরমুজ এড়িয়ে পরিবহন করা সম্ভব হতে পারে।

তবে এই বিকল্প ব্যবস্থাগুলো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ইরাকের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা, সীমান্ত বিরোধ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা প্রকল্পগুলোকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। আবার লোহিত সাগর দিয়ে তেল পরিবহন করলেও ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের হামলার ঝুঁকি থেকে যাবে।

পরিশোধিত জ্বালানিতে বিপদ আরও বেশি

বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিক্রি হচ্ছে ৭২ ডলারে | STAR NEWS

অপরিশোধিত তেলের তুলনায় পেট্রল, ডিজেল ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি হরমুজের বাইরে সরিয়ে নেওয়া আরও কঠিন।

গত বছর উপসাগরীয় দেশগুলো প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল সমপরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি হরমুজ দিয়ে পরিবহন করেছে। এসব জ্বালানি সরানোর মতো পর্যাপ্ত স্থলভিত্তিক পাইপলাইন এখনো নেই।

সৌদি আরব একটি নতুন পাইপলাইন ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করছে। তবে প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে ইরাক যুদ্ধের আগের তুলনায় অনেক বেশি জ্বালানি ট্রাকে করে সিরিয়ায় পাঠাচ্ছে। কিন্তু এই ব্যবস্থা ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।

তরলীকৃত গ্যাসে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি

হরমুজের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল জ্বালানি খাতগুলোর একটি হলো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস। এই গ্যাসের বড় অংশই কাতার থেকে রপ্তানি হয়।

বর্তমানে হরমুজ এড়িয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের কোনো বড় পাইপলাইন নির্মাণাধীন নেই। কাতার চাইলে ওমানের দিকে গ্যাস পাইপলাইন তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই পাইপলাইনের সক্ষমতা এত বেশি হতে হবে যে তা রাশিয়ার সাবেক নর্ড স্ট্রিম ব্যবস্থার মোট সক্ষমতার কাছাকাছি হবে।

আরও বড় সমস্যা হলো, কাতারের বর্তমান গ্যাস তরলীকরণ অবকাঠামোকে হরমুজের বাইরে আরব সাগরের উপকূলে নতুন করে তৈরি করতে হলে বিপুল অর্থ ও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে।

Strait of Hormuz Crisis: Why Southeast Asia Faces Growing Energy Risks

বিশ্বের বাজার ধীরে ধীরে বিকল্প খুঁজে নেবে

তারপরও বিশ্ববাজারের জন্য কিছুটা আশার জায়গা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে বেশি দামের কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ আমেরিকার অন্যান্য দেশ থেকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন বাড়তে পারে। কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিদিন আরও ২০ থেকে ৩০ লাখ ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

চীনের শোধনাগারগুলোতেও এখনো কিছু অতিরিক্ত সক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক সরবরাহ দ্রুত বাড়ছে।

এর ফলে দশক শেষ হওয়ার আগেই বৈশ্বিক জ্বালানি দামের ওপর ইরানের প্রভাব কিছুটা কমে যেতে পারে।

কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের প্রভাব এত দ্রুত কমবে না।

শুধু রপ্তানি নয়, আমদানিতেও হরমুজ গুরুত্বপূর্ণ

উপসাগরীয় দেশগুলো শুধু জ্বালানি রপ্তানির জন্য নয়, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও হরমুজের ওপর নির্ভরশীল।

উপসাগরীয় আরব দেশগুলো তাদের প্রয়োজনীয় শস্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ বাইরের দেশ থেকে আমদানি করে। কিন্তু পুরো অঞ্চলের চাহিদা সামাল দেওয়ার মতো বড় পণ্য ওঠানামার অবকাঠামো কেবল সৌদি আরবের রয়েছে।

স্থলপথে বিপুল পরিমাণ শস্য বা খনিজ পরিবহন করাও সহজ নয়। একটি বড় জাহাজে প্রায় ৬০ হাজার টন শস্য বহন করা যায়, যা পরিবহনে প্রায় দুই হাজার ট্রাকের প্রয়োজন হতে পারে।

এই কারণে আঞ্চলিক রেলপথ নির্মাণের প্রয়োজন বাড়ছে। কিন্তু এমন রেল অবকাঠামো তৈরিতেও বিপুল অর্থ ও সময় লাগবে। লোহিত সাগর থেকে কাতার পর্যন্ত একটি নতুন রেলপথের ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।

খাদ্য মজুত থাকলেও সব পণ্যের বিকল্প নেই

MEED | DP World sees Red Sea port volumes rising as Hormuz shuts

উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে সাধারণত চার থেকে ছয় মাসের খাদ্যশস্য মজুত থাকে। কিন্তু পচনশীল খাদ্য, ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিরাপত্তা মজুত নেই।

অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় কনটেইনার বন্দর জেবেল আলি হরমুজের ভেতরে অবস্থিত। বন্দরের বার্ষিক সক্ষমতা প্রায় দুই কোটি কনটেইনারের সমান। হরমুজের বাইরে সবচেয়ে বড় কনটেইনার বন্দর জেদ্দা। কিন্তু যুদ্ধের আগেই সেটি প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছিল।

ফলে হরমুজ দীর্ঘদিন অচল থাকলে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য শুধু জ্বালানি নয়, খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য সরবরাহেও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।

ইরান কি হরমুজ থেকে বিপুল অর্থ আয় করতে পারবে?

হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণকে ইরান শুধু রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে নয়, অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করতে চাইছে।

ইরানের এক সংসদ সদস্য জুন মাসে দাবি করেছিলেন, প্রতিটি জাহাজ হরমুজ দিয়ে যাওয়ার জন্য দেশটি ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত আদায় করছে। যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ জাহাজ চলাচল ধরে নিলে বছরে এই আয় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।

তবে এই হিসাব বাস্তবসম্মত নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।

যুদ্ধের সময় জোর করে আরোপ করা উচ্চ ফি স্বাভাবিক বাণিজ্য ব্যবস্থা ফিরে এলে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। ইরানে আলোচিত একটি প্রস্তাবে পণ্যের পরিমাণ, মূল্য ও জাহাজের ধরন অনুযায়ী ফি নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিকল্প পথে যাওয়ার খরচের চেয়ে ফি কম রাখার একটি সীমাও প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরেকটি প্রস্তাবে ইরানের জলসীমায় প্রতি টনে প্রায় তিন ইউরো এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই ইউরো ফি নেওয়ার কথা রয়েছে।

এই হিসাবে ভবিষ্যতে ইরানের বার্ষিক আয় দুই থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আয় কমলেও কৌশলগত ক্ষমতা থাকবে

His $7 Billion Tanker Bet Raised Eyebrows. He Couldn't Have Timed It  Better. - WSJ

বিকল্প পাইপলাইন ও পরিবহনপথ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ থেকে ইরানের আয় কমতে পারে। তবে সব পণ্যের ক্ষেত্রে এই পতন একই গতিতে হবে না।

অপরিশোধিত তেল বহনকারী জাহাজগুলো তুলনামূলক দ্রুত বিকল্প পথ পেতে পারে। কিন্তু পরিশোধিত জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী জাহাজকে আরও দীর্ঘ সময় হরমুজের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।

জাহাজ চলাচলের ফি যদি নির্দিষ্ট, পূর্বানুমানযোগ্য এবং যুদ্ধঝুঁকির অতিরিক্ত বিমা খরচের চেয়ে কম থাকে, তাহলে অনেক পরিবহনকারী সেই অর্থ দিতে রাজি হতে পারে।

কিন্তু এখানেই ইরানের জন্য বড় দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। ফি আদায় নিশ্চিত করতে হলে তাদের এমন জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হতে পারে, যারা অর্থ না দিয়ে হরমুজ অতিক্রম করবে। আবার এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা করাও কঠিন হয়ে উঠবে।

ইরানের লক্ষ্য শুধু অর্থ নয়

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ থেকে সর্বোচ্চ অর্থ আদায় করাই ইরানের প্রধান লক্ষ্য নাও হতে পারে। বরং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি বাজারে নিজের অংশগ্রহণ ধরে রাখা এবং হরমুজের প্রবেশদ্বারের নিয়ন্ত্রক হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করাই ইরানের বড় উদ্দেশ্য হতে পারে।

এর জন্য ইরান একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইতে পারে। সেটি হতে পারে ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কাঠামো, সামুদ্রিক পরিষেবা ব্যবস্থা কিংবা জাহাজ চলাচলের অনুমতিভিত্তিক কোনো পদ্ধতি।

অর্থাৎ যুদ্ধ শেষ হলেও হরমুজ নিয়ে ইরানের প্রভাব শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিকল্প পথ যতই তৈরি হোক, ভৌগোলিক বাস্তবতা ইরানকে এমন একটি সুবিধা দিয়ে গেছে, যা সহজে মুছে ফেলা যাবে না।

বিশ্বের তেল ও গ্যাসের ওপর হরমুজের নির্ভরতা হয়তো ধীরে ধীরে কমবে। কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার ওপর ইরানের এই নতুন প্রভাব দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালীকে হাতিয়ার করে জুনের চুক্তিতে ফিরতে চাইছে ইরান

হরমুজ প্রণালীকে ‘অস্ত্র’ বানিয়ে দীর্ঘদিন চাপ ধরে রাখতে পারবে ইরান

১১:৫২:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

পাঁচ মাসের যুদ্ধ ইরানকে বুঝিয়ে দিয়েছে, পরমাণু অস্ত্র ছাড়াও তার হাতে এমন একটি শক্তিশালী কৌশলগত অস্ত্র রয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। সেই অস্ত্র হলো হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণে রেখে ইরান তার প্রতিপক্ষের ওপর দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

বছরের পর বছর ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ দেখিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সামরিক সক্ষমতার কারণে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করাই ইরানের জন্য বড় কৌশলগত সুবিধা হয়ে উঠেছে।

ইরানের বিরোধীরা অবশ্য মনে করছে, হরমুজকে বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকবে না। উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে বিকল্প পথে তেল ও অন্যান্য পণ্য পাঠানোর ব্যবস্থা বাড়াতে শুরু করেছে। তবে বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমলেও ইরানের প্রভাব একেবারে শেষ হয়ে যাবে না।

তেল পরিবহনে বিকল্প পথ তৈরি হচ্ছে

যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেত। এর একটি অংশ এখন বিকল্প পথে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত। যুদ্ধের আগে পাইপলাইনটি প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। এখন সেটি পূর্ণ ৭০ লাখ ব্যারেল সক্ষমতায় চলছে।

How long can Iran weaponise Hormuz?

সংযুক্ত আরব আমিরাতও তার হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইনের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করছে। পাইপলাইনটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা যায়। এর বাইরে ইরাকের একটি পুরোনো পাইপলাইনও আবার ব্যবহার শুরু হয়েছে।

তবে এসব বিকল্প ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরও প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের জন্য হরমুজের বিকল্প থাকবে না।

২০৩০ সালের মধ্যে আরও পাইপলাইন

যুদ্ধের পর উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন পাইপলাইন তৈরির পরিকল্পনা জোরদার করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে অগ্রসর প্রকল্পটি বিদ্যমান পাইপলাইনের সমান্তরালে নির্মিত হবে এবং ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ প্রতিদিন আরও ১৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ইরাকও তার বিদ্যমান পাইপলাইনের সক্ষমতা এক বছরের মধ্যে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের তেলক্ষেত্রকে জর্ডান, সিরিয়া ও তুরস্কের বিদ্যমান পরিবহনপথের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য নতুন পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে আরও প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল প্রতিদিন হরমুজ এড়িয়ে পরিবহন করা সম্ভব হতে পারে।

তবে এই বিকল্প ব্যবস্থাগুলো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ইরাকের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা, সীমান্ত বিরোধ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা প্রকল্পগুলোকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। আবার লোহিত সাগর দিয়ে তেল পরিবহন করলেও ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের হামলার ঝুঁকি থেকে যাবে।

পরিশোধিত জ্বালানিতে বিপদ আরও বেশি

বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিক্রি হচ্ছে ৭২ ডলারে | STAR NEWS

অপরিশোধিত তেলের তুলনায় পেট্রল, ডিজেল ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি হরমুজের বাইরে সরিয়ে নেওয়া আরও কঠিন।

গত বছর উপসাগরীয় দেশগুলো প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল সমপরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি হরমুজ দিয়ে পরিবহন করেছে। এসব জ্বালানি সরানোর মতো পর্যাপ্ত স্থলভিত্তিক পাইপলাইন এখনো নেই।

সৌদি আরব একটি নতুন পাইপলাইন ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করছে। তবে প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে ইরাক যুদ্ধের আগের তুলনায় অনেক বেশি জ্বালানি ট্রাকে করে সিরিয়ায় পাঠাচ্ছে। কিন্তু এই ব্যবস্থা ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।

তরলীকৃত গ্যাসে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি

হরমুজের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল জ্বালানি খাতগুলোর একটি হলো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস। এই গ্যাসের বড় অংশই কাতার থেকে রপ্তানি হয়।

বর্তমানে হরমুজ এড়িয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের কোনো বড় পাইপলাইন নির্মাণাধীন নেই। কাতার চাইলে ওমানের দিকে গ্যাস পাইপলাইন তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই পাইপলাইনের সক্ষমতা এত বেশি হতে হবে যে তা রাশিয়ার সাবেক নর্ড স্ট্রিম ব্যবস্থার মোট সক্ষমতার কাছাকাছি হবে।

আরও বড় সমস্যা হলো, কাতারের বর্তমান গ্যাস তরলীকরণ অবকাঠামোকে হরমুজের বাইরে আরব সাগরের উপকূলে নতুন করে তৈরি করতে হলে বিপুল অর্থ ও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে।

Strait of Hormuz Crisis: Why Southeast Asia Faces Growing Energy Risks

বিশ্বের বাজার ধীরে ধীরে বিকল্প খুঁজে নেবে

তারপরও বিশ্ববাজারের জন্য কিছুটা আশার জায়গা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে বেশি দামের কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ আমেরিকার অন্যান্য দেশ থেকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন বাড়তে পারে। কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিদিন আরও ২০ থেকে ৩০ লাখ ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

চীনের শোধনাগারগুলোতেও এখনো কিছু অতিরিক্ত সক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক সরবরাহ দ্রুত বাড়ছে।

এর ফলে দশক শেষ হওয়ার আগেই বৈশ্বিক জ্বালানি দামের ওপর ইরানের প্রভাব কিছুটা কমে যেতে পারে।

কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের প্রভাব এত দ্রুত কমবে না।

শুধু রপ্তানি নয়, আমদানিতেও হরমুজ গুরুত্বপূর্ণ

উপসাগরীয় দেশগুলো শুধু জ্বালানি রপ্তানির জন্য নয়, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও হরমুজের ওপর নির্ভরশীল।

উপসাগরীয় আরব দেশগুলো তাদের প্রয়োজনীয় শস্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ বাইরের দেশ থেকে আমদানি করে। কিন্তু পুরো অঞ্চলের চাহিদা সামাল দেওয়ার মতো বড় পণ্য ওঠানামার অবকাঠামো কেবল সৌদি আরবের রয়েছে।

স্থলপথে বিপুল পরিমাণ শস্য বা খনিজ পরিবহন করাও সহজ নয়। একটি বড় জাহাজে প্রায় ৬০ হাজার টন শস্য বহন করা যায়, যা পরিবহনে প্রায় দুই হাজার ট্রাকের প্রয়োজন হতে পারে।

এই কারণে আঞ্চলিক রেলপথ নির্মাণের প্রয়োজন বাড়ছে। কিন্তু এমন রেল অবকাঠামো তৈরিতেও বিপুল অর্থ ও সময় লাগবে। লোহিত সাগর থেকে কাতার পর্যন্ত একটি নতুন রেলপথের ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।

খাদ্য মজুত থাকলেও সব পণ্যের বিকল্প নেই

MEED | DP World sees Red Sea port volumes rising as Hormuz shuts

উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে সাধারণত চার থেকে ছয় মাসের খাদ্যশস্য মজুত থাকে। কিন্তু পচনশীল খাদ্য, ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিরাপত্তা মজুত নেই।

অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় কনটেইনার বন্দর জেবেল আলি হরমুজের ভেতরে অবস্থিত। বন্দরের বার্ষিক সক্ষমতা প্রায় দুই কোটি কনটেইনারের সমান। হরমুজের বাইরে সবচেয়ে বড় কনটেইনার বন্দর জেদ্দা। কিন্তু যুদ্ধের আগেই সেটি প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছিল।

ফলে হরমুজ দীর্ঘদিন অচল থাকলে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য শুধু জ্বালানি নয়, খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য সরবরাহেও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।

ইরান কি হরমুজ থেকে বিপুল অর্থ আয় করতে পারবে?

হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণকে ইরান শুধু রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে নয়, অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করতে চাইছে।

ইরানের এক সংসদ সদস্য জুন মাসে দাবি করেছিলেন, প্রতিটি জাহাজ হরমুজ দিয়ে যাওয়ার জন্য দেশটি ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত আদায় করছে। যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ জাহাজ চলাচল ধরে নিলে বছরে এই আয় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।

তবে এই হিসাব বাস্তবসম্মত নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।

যুদ্ধের সময় জোর করে আরোপ করা উচ্চ ফি স্বাভাবিক বাণিজ্য ব্যবস্থা ফিরে এলে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। ইরানে আলোচিত একটি প্রস্তাবে পণ্যের পরিমাণ, মূল্য ও জাহাজের ধরন অনুযায়ী ফি নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিকল্প পথে যাওয়ার খরচের চেয়ে ফি কম রাখার একটি সীমাও প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরেকটি প্রস্তাবে ইরানের জলসীমায় প্রতি টনে প্রায় তিন ইউরো এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই ইউরো ফি নেওয়ার কথা রয়েছে।

এই হিসাবে ভবিষ্যতে ইরানের বার্ষিক আয় দুই থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আয় কমলেও কৌশলগত ক্ষমতা থাকবে

His $7 Billion Tanker Bet Raised Eyebrows. He Couldn't Have Timed It  Better. - WSJ

বিকল্প পাইপলাইন ও পরিবহনপথ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ থেকে ইরানের আয় কমতে পারে। তবে সব পণ্যের ক্ষেত্রে এই পতন একই গতিতে হবে না।

অপরিশোধিত তেল বহনকারী জাহাজগুলো তুলনামূলক দ্রুত বিকল্প পথ পেতে পারে। কিন্তু পরিশোধিত জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী জাহাজকে আরও দীর্ঘ সময় হরমুজের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।

জাহাজ চলাচলের ফি যদি নির্দিষ্ট, পূর্বানুমানযোগ্য এবং যুদ্ধঝুঁকির অতিরিক্ত বিমা খরচের চেয়ে কম থাকে, তাহলে অনেক পরিবহনকারী সেই অর্থ দিতে রাজি হতে পারে।

কিন্তু এখানেই ইরানের জন্য বড় দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। ফি আদায় নিশ্চিত করতে হলে তাদের এমন জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হতে পারে, যারা অর্থ না দিয়ে হরমুজ অতিক্রম করবে। আবার এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা করাও কঠিন হয়ে উঠবে।

ইরানের লক্ষ্য শুধু অর্থ নয়

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ থেকে সর্বোচ্চ অর্থ আদায় করাই ইরানের প্রধান লক্ষ্য নাও হতে পারে। বরং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি বাজারে নিজের অংশগ্রহণ ধরে রাখা এবং হরমুজের প্রবেশদ্বারের নিয়ন্ত্রক হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করাই ইরানের বড় উদ্দেশ্য হতে পারে।

এর জন্য ইরান একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইতে পারে। সেটি হতে পারে ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কাঠামো, সামুদ্রিক পরিষেবা ব্যবস্থা কিংবা জাহাজ চলাচলের অনুমতিভিত্তিক কোনো পদ্ধতি।

অর্থাৎ যুদ্ধ শেষ হলেও হরমুজ নিয়ে ইরানের প্রভাব শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিকল্প পথ যতই তৈরি হোক, ভৌগোলিক বাস্তবতা ইরানকে এমন একটি সুবিধা দিয়ে গেছে, যা সহজে মুছে ফেলা যাবে না।

বিশ্বের তেল ও গ্যাসের ওপর হরমুজের নির্ভরতা হয়তো ধীরে ধীরে কমবে। কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার ওপর ইরানের এই নতুন প্রভাব দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে।