প্রতিদিন এক গ্লাস ১০০ শতাংশ ফলের জুস বা স্মুদি খাওয়ার সঙ্গে বিষণ্নতার মাত্রা কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে নতুন এক গবেষণায়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত খুব কম পরিমাণ ফল ও সবজি খান, তাদের মানসিক সুস্থতায় এমন খাদ্যাভ্যাস কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের পরিচালিত চার সপ্তাহের একটি দৈবচয়নভিত্তিক পরীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় অংশ নেন এমন ৪২ জন প্রাপ্তবয়স্ক, যারা সাধারণত দিনে দুই বা তার কম পরিমাণ ফল ও সবজি খেতেন। গবেষকদের লক্ষ্য ছিল অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে সহায়তা করে দিনে পাঁচ পরিমাণ ফল ও সবজি খাওয়ার সুপারিশের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া।
জুস বা স্মুদিতে বিষণ্নতার স্কোর কম
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়। প্রথম দলকে তাদের স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে বলা হয়। দ্বিতীয় দলকে আর্থিক ও শিক্ষামূলক সহায়তার মাধ্যমে প্রতিদিন পাঁচ পরিমাণ ফল ও সবজি খেতে উৎসাহিত করা হয়। তৃতীয় দলও একই সহায়তা পায়, তবে তাদের প্রতিদিন এক গ্লাস ফলের জুস বা স্মুদি পান করতে বলা হয়।

চার সপ্তাহ পর দেখা যায়, খাদ্যাভ্যাসে সহায়তা পাওয়া দুই দলই ফল ও সবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে। তবে প্রতিদিন জুস বা স্মুদি পান করা দলের বিষণ্নতার স্কোর নিয়ন্ত্রণ দলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।
২৭ পয়েন্টের স্কেলে জুস বা স্মুদি গ্রহণকারী দলের বিষণ্নতার স্কোর নিয়ন্ত্রণ দলের চেয়ে ২ দশমিক ৫২ পয়েন্ট কম পাওয়া যায়। গবেষকরা পার্থক্যটিকে তুলনামূলকভাবে সামান্য হলেও পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সমন্বয় করা গড় স্কোর ছিল জুস বা স্মুদি গ্রহণকারী দলের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৯৩ এবং নিয়ন্ত্রণ দলের ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ৪৫।
আঁশ গ্রহণও বেড়েছে
গবেষণার খাদ্যতালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে সহায়তা পাওয়া দুই দলই প্রতিদিন আনুমানিক ৮ থেকে ১০ গ্রাম বেশি খাদ্যআঁশ গ্রহণ করেছে। গবেষকদের ধারণা, জুস বা স্মুদি পানকারী অংশগ্রহণকারীরা শুধু জুসের ওপর নির্ভর করেননি; তারা খাদ্যতালিকায় অন্যান্য আঁশসমৃদ্ধ ফল ও সবজিও যুক্ত করেছিলেন।

নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটিতে গবেষণাটি পরিচালনার সময় প্রধান গবেষকদের একজন ড. কোর্টনি নিল বলেন, অনেক মানুষের জন্য প্রতিদিন সুপারিশ করা পাঁচ পরিমাণ ফল ও সবজি খাওয়া কঠিন। আর্থিক ও শিক্ষামূলক সহায়তা পেলে কম ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস থাকা মানুষও খাদ্যতালিকায় অর্থবহ পরিবর্তন আনতে পারেন।
তিনি বলেন, সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে প্রতিদিন অল্প পরিমাণ ১০০ শতাংশ ফলের জুস বা একটি স্মুদি খাদ্যতালিকায় যোগ করা পাঁচ পরিমাণ ফল ও সবজি খাওয়ার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করতে পারে এবং সম্ভাব্যভাবে মানসিক সুস্থতাকেও সমর্থন করতে পারে।
আরও গবেষণার প্রয়োজন
গবেষণায় চার সপ্তাহের মধ্যে জুস বা স্মুদি গ্রহণকারীদের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের সূচকে কোনো ক্ষতিকর পরিবর্তন পাওয়া যায়নি। ফলের জুসে চিনির পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও পরীক্ষায় এমন নেতিবাচক পরিবর্তনের প্রমাণ মেলেনি।
নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির পুষ্টি ও বার্ধক্যবিষয়ক প্রভাষক এবং গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ড. অলিভার শ্যানন বলেন, তাজা ফল ও সবজির দাম অনেকের জন্য খাদ্যতালিকায় এগুলো বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে। প্রতিদিন এক গ্লাস ফলের জুস বা স্মুদি সেই বাধা কিছুটা কমাতে পারে।

তবে জুস বা স্মুদি গ্রহণকারী দলের কম বিষণ্নতার স্কোরকে উৎসাহব্যঞ্জক বললেও গবেষকরা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে মানসিক সুস্থতার ঘাটতিতে থাকা মানুষের মধ্যে এ ধরনের খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব আরও বিস্তৃতভাবে পরীক্ষা করা দরকার। আগের কিছু গবেষণায় সাইট্রাসজাতীয় ফলের জুস মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ এবং জ্ঞানীয় কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
গবেষণাটি ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত হয়েছে। এর অর্থায়ন করেছে ফ্রুট জুস সায়েন্স সেন্টার।
প্রতিদিন ফলের জুস খাওয়ার সঙ্গে বিষণ্নতার মাত্রা কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে; তবে গবেষণাটি ছোট পরিসরে ও মাত্র চার সপ্তাহের হওয়ায় ফলাফলকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















