ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ যেন আবারও নতুন এক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত মোড় নিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার গভীরে ড্রোন হামলা চালিয়ে দেশটির জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি করেছে, অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়িয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়াকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ইউক্রেন কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে রুশ জাহাজেও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক সাফল্যের পাল্টা জবাব হিসেবে রাশিয়া এখন এমন একটি জায়গায় আঘাত হানছে, যার প্রভাব যুদ্ধের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে—ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ও শস্য রপ্তানি ব্যবস্থা।
সাম্প্রতিক সময়ে ওদেসা ও ইউক্রেনের অন্যান্য উপকূলীয় শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এতটাই তীব্র হয়েছে যে দেশটির বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এতে শুধু ইউক্রেনের রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং যুদ্ধের অর্থায়ন, কৃষকের উৎপাদন পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক খাদ্যবাজার—সবকিছুর ওপরই চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্দরে হামলা মানেই শুধু অবকাঠামো ধ্বংস নয়
ইউক্রেনের অর্থনীতিতে কৃষিপণ্যের গুরুত্ব অসাধারণ। দেশটির মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশই কৃষিপণ্য। ফলে বন্দর দিয়ে শস্য, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বিদেশে পাঠানোর পথ বাধাগ্রস্ত হলে তার অভিঘাত সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিতে পড়ে।
রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার সময়টিও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেনের কৃষকরা যখন নতুন ফসল তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই বন্দরগুলোর ওপর হামলা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ একদিকে মাঠে উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি, অন্যদিকে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে পাঠানোর পথ অনিশ্চিত—এই দ্বৈত সংকট ইউক্রেনের কৃষি অর্থনীতিকে আরও কঠিন অবস্থায় ফেলতে পারে।
কোনো দেশ যত বেশি কৃষিপণ্য উৎপাদন করুক, তা যদি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে না পারে, তবে উৎপাদন নিজেই অর্থনৈতিক বোঝায় পরিণত হতে পারে। গুদাম, পরিবহন ও সংরক্ষণব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়বে, কৃষকের আয় কমতে পারে এবং পরবর্তী মৌসুমে উৎপাদনের সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
জাহাজ আছে, বন্দরও আছে—তবু বাণিজ্য থমকে যায়
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কম করে দেখানোর চেষ্টা রয়েছে। জুলাইয়ে দেশটির কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দুই সপ্তাহ ধরে ওদেসা ও অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায় রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চললেও বন্দরগুলো খোলা এবং কার্যক্রম চালু রয়েছে।
কিন্তু বাস্তবতার আরেকটি দিক হলো নিরাপত্তা ও বীমা।
প্রায় ৯০ শতাংশ জাহাজমালিক ইউক্রেনের বন্দরে জাহাজ পাঠানো স্থগিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ হামলার ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধঝুঁকির বীমার খরচও ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। কোনো বন্দর কাগজে-কলমে খোলা থাকলেই সেখানে বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকে না। জাহাজমালিকের কাছে প্রশ্ন থাকে—একটি জাহাজ নিরাপদে বন্দরে ঢুকবে কি না, পণ্য নিয়ে বের হতে পারবে কি না এবং মাঝপথে হামলার শিকার হলে ক্ষতির দায় কে নেবে?
এই অনিশ্চয়তাই ইউক্রেনের সমুদ্রপথের বাণিজ্যের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হরমুজের মতোই তৈরি হচ্ছে ঝুঁকির অর্থনীতি
কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই সরাসরি অবকাঠামো ধ্বংসের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ঝুঁকি।
ঝুঁকি বাড়লে বীমার মূল্য বাড়ে। বীমা বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়ে। ব্যয় বাড়লে জাহাজমালিকরা বিকল্প পথ খোঁজেন কিংবা পুরো যাত্রা বাতিল করেন। শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামও বাড়তে পারে।
অর্থাৎ একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাব শুধু যে বন্দরের একটি স্থাপনা বা একটি জাহাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তা নয়। সেই হামলা আন্তর্জাতিক পরিবহনব্যবস্থা, বীমা বাজার, পণ্যের মূল্য এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তার খাদ্যব্যয়ের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউক্রেনের সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা আকাশ প্রতিরক্ষা
ইউক্রেনের বন্দরগুলো রক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা সীমিত সংখ্যক প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে এগুলো ইউক্রেনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে।
কিন্তু এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শহর ও সামরিক সরবরাহপথ থেকে সরিয়ে বন্দরের নিরাপত্তায় বেশি ব্যবহার করা হলে নতুন ঝুঁকি তৈরি হবে। এক জায়গা রক্ষা করতে গিয়ে অন্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অরক্ষিত হয়ে পড়তে পারে।
রাশিয়াও এই দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত। তাই বন্দরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে গেলে ইউক্রেনের সীমিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়বে।
এখানেই রাশিয়ার কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়। লক্ষ্য শুধু বন্দর ধ্বংস করা নয়; বরং এমন একটি নিরাপত্তাহীন পরিবেশ তৈরি করা, যাতে জাহাজমালিক ও বীমা প্রতিষ্ঠান নিজেরাই ইউক্রেনের সমুদ্রপথ থেকে সরে দাঁড়ায়।
শস্য রপ্তানি বন্ধ হলে চাপ পড়বে বৈদেশিক মুদ্রায়
ইউক্রেনের জন্য শস্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি শুধু বাণিজ্যের বিষয় নয়। এটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস।
রপ্তানি কমে গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমবে। যুদ্ধ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ কঠিন হবে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় মেটানো এবং অর্থনীতির অন্যান্য খাত সচল রাখাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
রাশিয়ার কৌশলগত হিসাব এখানেই। বন্দর ও রপ্তানি ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ইউক্রেনের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করা গেলে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাও দুর্বল হতে পারে।
অর্থাৎ কৃষ্ণসাগরের বন্দর এখন কেবল বাণিজ্যিক স্থাপনা নয়; এটি যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ফ্রন্ট।
ইউক্রেনের শস্যের ওপর নির্ভরশীল বহু দেশ
ইউক্রেনের বন্দর সংকটের প্রভাব শুধু কিয়েভের অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। দেশটি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য রপ্তানিকারকদের একটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিসরের গম আমদানির প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে ইউক্রেন থেকে। ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রেও ইউক্রেনের অংশ প্রায় ১৮ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ইউক্রেন সবচেয়ে বড় ভুট্টা সরবরাহকারী। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সূর্যমুখী তেল আমদানির প্রায় ৯২ শতাংশের সঙ্গে ইউক্রেনের সরবরাহ যুক্ত।
এ ছাড়া পশুখাদ্যের শস্য এবং বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ তেলের আন্তর্জাতিক বাজারেও ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফলে ইউক্রেনের বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে তার প্রভাব আমদানিনির্ভর দেশগুলোর খাদ্যবাজারে পড়তে পারে। বিশেষ করে আফ্রিকা ও এশিয়ার যেসব দেশ ইউক্রেনীয় শস্যের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে।
খাদ্যের দামকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা?
রাশিয়ার কৌশলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্যের দাম বাড়িয়ে ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক সমর্থনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
বর্তমানে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনীয় শস্য সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে খাদ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হিসাব হতে পারে, খাদ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকলে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনকারী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বাড়বে। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকার যদি খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনঅসন্তোষের মুখে পড়ে, তাহলে তারা কিয়েভকে রাশিয়ার ভেতরে হামলা কমানোর জন্য চাপ দিতে পারে।
তবে এই কৌশল সফল হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ইউরোপে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী। উল্টো মূল্যবৃদ্ধির জন্য ইউরোপীয় জনগণ ও সরকার রাশিয়াকেই দায়ী করতে পারে। ফলে খাদ্য সরবরাহে সংকট তৈরি করলেই ইউক্রেনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

পুরোনো শস্যচুক্তি কি আবার ফিরবে?
কৃষ্ণসাগরের বাণিজ্য স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ২০২২ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তি একসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ওই সমঝোতার মাধ্যমে ইউক্রেনীয় বন্দর থেকে নিরাপদে শস্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন সহজ হবে বলে মনে হচ্ছে না।
যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, পারস্পরিক আস্থার জায়গা তত সংকুচিত হচ্ছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষই সামরিকভাবে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। ফলে আগের মতো একটি নিরাপদ সমুদ্রপথের ব্যবস্থা তৈরি করতে হলে শুধু কূটনৈতিক সমঝোতা নয়, কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চয়তাও প্রয়োজন হবে।
বিকল্প পথ আছে, কিন্তু খরচও আছে
সমুদ্রপথে শস্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে ইউক্রেনের হাতে কিছু বিকল্প রয়েছে। দানিউব নদী ব্যবহার করে রোমানিয়ার বন্দর হয়ে শস্য পাঠানো যেতে পারে। রেলপথও ব্যবহার করা সম্ভব। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইউক্রেন এই ধরনের বিকল্প পরিবহনপথ ব্যবহার করেছিল।
কিন্তু বিকল্প পথ মানেই সমাধান নয়।
সমুদ্রপথের তুলনায় স্থল ও নদীপথে বিপুল পরিমাণ শস্য পরিবহন বেশি ব্যয়বহুল ও জটিল। পণ্যকে একাধিকবার স্থানান্তর করতে হয়, অবকাঠামোর ওপর চাপ পড়ে এবং পরিবহনের সময়ও বেড়ে যায়।
এর ফলে ইউক্রেনের কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমতে পারে। একই সঙ্গে আমদানিকারকদের জন্য পণ্যের দামও বাড়তে পারে।
যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট এখন অর্থনীতি
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে বিশ্ববাসীর নজর ছিল মূলত যুদ্ধক্ষেত্র, শহর দখল এবং সামরিক হামলার দিকে। এখন যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থা।
ইউক্রেন রাশিয়ার গভীরে হামলা চালিয়ে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এর পাল্টা হিসেবে রাশিয়া ইউক্রেনের এমন জায়গাগুলোতে আঘাত করছে, যেখানে সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ একসঙ্গে জড়িয়ে আছে।
বন্দর সেই জায়গাগুলোর একটি।
একটি বন্দর অচল হলে শুধু জাহাজ থামে না। থামে রপ্তানি, কমে বৈদেশিক মুদ্রা, বাড়ে বীমা খরচ, কৃষিপণ্যের মূল্য বাড়ে, কৃষকের ওপর চাপ পড়ে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়।
এই কারণেই কৃষ্ণসাগরের বর্তমান সংকটকে কেবল ইউক্রেনের বন্দর নিরাপত্তার সমস্যা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যাবে না।
সামনে আরও দীর্ঘ হতে পারে অর্থনৈতিক লড়াই
ইউক্রেনের বন্দর ও শস্য রপ্তানির ওপর রুশ হামলা কতদিন স্থায়ী হবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। অতীতে ২০২৫ সালের শেষ ভাগ এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকেও রাশিয়া ইউক্রেনের বন্দরগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছিল। তখন দীর্ঘ সময় ধরে বন্দর কার্যক্রম বন্ধ থাকেনি।
কিন্তু এবারের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত ও তীব্র। বিশেষ করে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক সময়ে যে সাফল্য দেখিয়েছে, তার প্রতিক্রিয়ায় পুতিন যুদ্ধক্ষেত্রে আবার গতি ফেরানোর চেষ্টা করছেন—এমন বিশ্লেষণ উঠে এসেছে।
এখন পর্যন্ত দুই পক্ষই আক্রমণাত্মক সামরিক কৌশল ধরে রেখেছে। ফলে দ্রুত সমাধানের পরিবর্তে নতুন নতুন চাপ তৈরির সম্ভাবনাই বেশি।
শেষ পর্যন্ত রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েই যুদ্ধক্ষেত্রের অচলাবস্থা ভাঙার নতুন পথ খুঁজবে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতার মূল্য দিতে হবে শুধু দুই দেশকে নয়। কৃষ্ণসাগরের বন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিঘাত পৌঁছাতে পারে আফ্রিকার কোনো গম আমদানিকারক দেশে, এশিয়ার কোনো খাদ্যবাজারে কিংবা ইউরোপের কোনো পরিবারের রান্নাঘর পর্যন্ত।
যুদ্ধ তাই আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে—একটি দেশের বন্দর কখনো শুধু সেই দেশের বন্দর নয়। বিশ্ব খাদ্যব্যবস্থা, বৈদেশিক মুদ্রা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ভূরাজনীতির সুতোয় বাঁধা একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলোতে রুশ হামলা দীর্ঘস্থায়ী হলে সেই সুতোয় টান পড়বে আরও অনেক দূরে।
আর সেই টানের সবচেয়ে দৃশ্যমান চিহ্ন হতে পারে—কমে যাওয়া শস্যের সরবরাহ, বেড়ে যাওয়া পরিবহন ব্যয় এবং বিশ্বজুড়ে আরও ব্যয়বহুল খাদ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















