দৌড়ের জগতে কিশোর ও তরুণ অ্যাথলেটরা যখন একের পর এক অবিশ্বাস্য সময়ে দৌড় শেষ করছেন, তখন একজন সাধারণভাবে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সক্ষমতা আসলে কোথায়—এই প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিয়মিত শখের দৌড়বিদদের অনেকেই প্রচলিত ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ইভেন্টে নিজেদের সময় নথিভুক্ত করেন না। ফলে তাদের পারফরম্যান্স তুলনা করার জন্য অন্য কিছু মানদণ্ডের দিকে তাকাতে হয়।
এর একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় বয়সভেদে বিভিন্ন শারীরিক সক্ষমতার মানদণ্ড থাকে এবং এর মধ্যে দুই মাইল দৌড়ও থাকতে পারে। একজন সাধারণ ফিট প্রাপ্তবয়স্কের দৌড়ের গতি বোঝার ক্ষেত্রে এই সময়সীমাগুলো একটি কার্যকর তুলনার সুযোগ তৈরি করে।
তরুণ পুরুষদের জন্য কঠিন সময়সীমা
২৫ বছরের কম বয়সী একজন পুরুষকে দুই মাইল দৌড়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেতে হলে ১৩ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের মধ্যে দৌড় শেষ করতে হয়। অর্থাৎ প্রতি মাইলে গড়ে প্রায় ৬ মিনিট ৪২ দশমিক ৫ সেকেন্ড গতিতে ছুটতে হয়।
এই গতি ধরে দুই মাইল সম্পন্ন করা মোটেই হালকা ব্যাপার নয়। নিয়মিত ব্যায়াম করেন এমন একজন তরুণের জন্যও এমন সময় ধরে রাখতে গতি, সহনশীলতা এবং দৌড়ের অভ্যাস—তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ।
:max_bytes(150000):strip_icc()/set-pedometer-better-accuracy-3432895-2362-304ec3df65474858819cee5c33aa7980.jpg)
একই বয়সে নারীদের মানদণ্ড
২৫ বছরের কম বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে দুই মাইল দৌড়ে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার সময়সীমা ১৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। অর্থাৎ প্রতি মাইলে গড় গতি প্রায় ৭ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড।
এখানেও বোঝা যায়, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা আর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক গতিতে দৌড়াতে পারা এক বিষয় নয়। সর্বোচ্চ নম্বরের এই মানদণ্ড একজন নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেওয়া ব্যক্তির সক্ষমতার কাছাকাছি।
বয়স বাড়লে কী পরিবর্তন হয়?
বয়সের সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতার স্বাভাবিক পরিবর্তন বিবেচনা করে পরীক্ষার মানদণ্ডও কিছুটা শিথিল হয়। ৪৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী পুরুষদের দুই মাইল দৌড়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেতে সময়সীমা ১৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। প্রতি মাইলে এর গড় গতি দাঁড়ায় ৭ মিনিট ১৫ সেকেন্ড।
একই বয়সী নারীদের জন্য সর্বোচ্চ নম্বরের সীমা ১৬ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড। অর্থাৎ প্রতি মাইলে গড় গতি প্রায় ৮ মিনিট ২৭ দশমিক ৫ সেকেন্ড।

ফিট থাকার অর্থ শুধু দ্রুত দৌড় নয়
এই সময়গুলো থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—একজন মানুষের শারীরিক সক্ষমতা বিচার করতে শুধু দৌড়ের গতি দেখলেই পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। নিয়মিত দৌড়ানো, দীর্ঘ সময় ধরে শরীরকে সক্রিয় রাখা, হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের সক্ষমতা এবং বয়স অনুযায়ী শরীরকে সুস্থ রাখা—সবই গুরুত্বপূর্ণ।
তাই বিমানবাহিনীর পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বরের মানদণ্ডকে একজন সাধারণ মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক লক্ষ্য হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং এগুলোকে শারীরিক সক্ষমতার একটি তুলনামূলক সূচক হিসেবে দেখা যেতে পারে।
একজন বিনোদনমূলক দৌড়বিদ হয়তো এই সময়ের চেয়ে ধীরে দৌড়াতে পারেন, কিন্তু নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের আগের সময়কে উন্নত করতে পারাও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। শেষ পর্যন্ত ফিটনেসের আসল সাফল্য শুধু অন্যকে হারানো নয়, নিজের শরীরকে আরও সক্ষম করে তোলা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















