কাবেরী নদীর পানি বণ্টন নিয়ে কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও ভারতের সুপ্রিম কোর্টে গড়িয়েছে। নদীর পানির বরাদ্দে ঘাটতির কারণে কৃষকেরা চরম সংকটের মধ্যে পড়েছেন—এমন দাবি জানিয়ে তামিলনাড়ু দ্রুত শুনানির আবেদন করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বৃহস্পতিবার মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেছেন।
৩ হাজার ৫০০ কিউসেক পানি চায় তামিলনাড়ু
সোমবার তামিলনাড়ু সরকার কর্ণাটকের সঙ্গে কাবেরী নদীর পানি বণ্টন বিরোধে তাদের আবেদনটি দ্রুত শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে তুলে ধরে। রাজ্যের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সি এস বৈদ্যনাথন প্রধান বিচারপতিকে জানান, নির্ধারিত পরিমাণ পানি না পাওয়ায় তামিলনাড়ুর কৃষকেরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।
তামিলনাড়ু আদালতের কাছে কর্ণাটককে কেন্দ্রীয় পানি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ৩০ জুলাইয়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেছে। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্ণাটকের কাবিনী ও কৃষ্ণরাজ সাগর জলাধার থেকে ১৫ দিনের জন্য প্রতিদিন ৩ হাজার ৫০০ কিউসেক পানি ছাড়ার কথা।
১২ আগস্টের মধ্যে পানি ছাড়ার দাবি
তামিলনাড়ু জানিয়েছে, ১৫ দিন ধরে প্রতিদিন ৩ হাজার ৫০০ কিউসেক হারে মোট ৪ দশমিক ৫৩৬ টিএমসি ফুট পানি তাদের পাওয়ার কথা। রাজ্য সরকার চায়, ১২ আগস্টের মধ্যে এই পানি ছেড়ে দেওয়ার জন্য কর্ণাটককে নির্দেশ দিক সুপ্রিম কোর্ট।
এর পাশাপাশি আন্তঃরাজ্য সীমান্তের বিলিগুন্ডুলু এলাকায় নির্ধারিত পানিপ্রবাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সেটিও পূরণ করার দাবি জানিয়েছে তামিলনাড়ু।

ঘাটতি পূরণে ২৬.৯৫৪ টিএমসি ফুট পানির দাবি
তামিলনাড়ুর আবেদনে বলা হয়েছে, ১ জুন থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত বিলিগুন্ডুলুতে যে পরিমাণ পানি কম এসেছে, তার হিসাব করে অনুপাতে সেই ঘাটতি পূরণ করতে হবে। এ জন্য কর্ণাটককে অবিলম্বে ২৬ দশমিক ৯৫৪ টিএমসি ফুট পানি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
রাজ্যটি আরও চেয়েছে, কর্ণাটকের জলাধারগুলোর পানিপ্রবাহ ও পানির মজুত প্রতি ১০ দিন পরপর পর্যবেক্ষণ করা হোক। একই সঙ্গে বিলিগুন্ডুলুতে নির্ধারিত মাসিক ও দৈনিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় পানি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে কার্যকর নজরদারির নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
পুরনো বিরোধ আবারও তীব্র
তামিলনাড়ু সরকারের অভিযোগ, কর্ণাটক কাবেরী পানি বণ্টন নিয়ে ট্রাইব্যুনালের নির্ধারিত নির্দেশনা দীর্ঘদিন ধরেই যথাযথভাবে মানছে না। কেবল অতিবৃষ্টির কারণে জলাধারগুলোতে অতিরিক্ত পানি জমে গেলে কিছু ক্ষেত্রে পানি ছাড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তামিলনাড়ু।
কাবেরী নদীর পানি নিয়ে দুই রাজ্যের বিরোধ বহু বছরের। কৃষিনির্ভর তামিলনাড়ুর জন্য নদীর পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে কর্ণাটকও তার কৃষি ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে কাবেরীর পানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে বর্ষার সময় জলাধারে পানির পরিমাণ, আন্তঃরাজ্য পানি প্রবাহ এবং নির্ধারিত বরাদ্দ নিয়ে দুই রাজ্যের মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনা তৈরি হয়।
এবার তামিলনাড়ুর আবেদন সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসায় বৃহস্পতিবারের শুনানিতে কর্ণাটককে পানি ছাড়ার বিষয়ে আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















