০৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
ইনফান্তিনোকে ঘিরে ফিফায় নতুন চাপ, যৌথ চিঠিতে তিন মহাদেশীয় সংস্থার কড়া বার্তা শিশুর ভবিষ্যৎ ‘নিট’ হবে কি না, তা শিক্ষকের কাজ নয় ডেমোক্র্যাটদের সামনে ২০২৮-এর বড় প্রশ্ন: শুধু ট্রাম্পবিরোধিতা কি যথেষ্ট? ভারতে ইংরেজি: ঔপনিবেশিক ভাষা থেকে ভারতীয় জীবনের নিজস্ব ভাষা ২৭ আগস্ট বসছে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন লোকসভার হট্টগোলে বিতর্ক ছাড়াই ট্রাইব্যুনাল সংস্কার বিল পাস ১৭ বছর পর বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ, পাখি-বানর ঠেকাতেও অভিনব প্রস্তুতি স্যামসাং ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঠেকাতে সনির সঙ্গে বিরল জোটে টিএসএমসি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেকোনো সময় ভারত সফরে যেতে পারেন কুষ্টিয়ায় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় রদবদল, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি ট্রাম্পের

ইরানের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সাবেক ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর প্রধান মোহসেন রেজাইকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সামরিক নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ রদবদল করা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে যুদ্ধ ও বিভিন্ন হামলায় হতাহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

নিরাপত্তা পরিষদের নতুন দায়িত্বে মোহসেন রেজাই

ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ৭১ বছর বয়সী মোহসেন রেজাই। তিনি আগে ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আলাদা এক আদেশে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁকে ওই নিরাপত্তা পরিষদে নিজের প্রতিনিধি হিসেবেও নিয়োগ দিয়েছেন। রেজাই তাঁর পূর্বসূরি মোহাম্মদ বাঘের জোলকাদরের তুলনায় জনসম্মুখে বেশি সক্রিয় ও স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত।

জোলকাদরকে এবার সর্বোচ্চ নেতার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোয় দায়িত্বের বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস ঘটল।

সামরিক নেতৃত্বেও পরিবর্তন

ইরানের সামরিক কাঠামোয়ও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর জেনারেল আলি আবদোল্লাহিকে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান করা হয়েছে।

এর আগে তিনি খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন। এই কমান্ড ইরানের বিভিন্ন সামরিক শাখার কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করে।

এদিকে ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর নতুন সর্বাধিনায়ক হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ওয়াহিদির নামও নিশ্চিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এসব পরিবর্তনকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

Iran leadership reshuffles amid Hormuz talks comes after rare meeting with  President, Supreme Leader - ChiniMandi

ট্রাম্পের ক্ষতিপূরণের দাবি

ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

সোমবার ট্রাম্প ইরানের কাছে বিভিন্ন যুদ্ধ, হামলা ও সংঘাতে নিহত এবং গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। ইরান এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু শর্ত পূরণের আহ্বান জানিয়েছিল। তারই জবাবে ট্রাম্প পাল্টা ক্ষতিপূরণের দাবি তোলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিভিন্ন সংঘাত ও হামলায় নিহত এবং গুরুতর আহত মানুষের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার আরেকটি বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় সচল করার বিষয়ে দ্রুত কোনো সমঝোতা হওয়ার আশা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

জলপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এটি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।

ঐক্যের ওপর জোর মোজতবা খামেনির

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, সোমবার সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে তাঁর প্রায় সাত ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে।

বৈঠকে মানুষের জীবিকা, কর্মসংস্থান ও আবাসনসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি।

পেজেশকিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ওপর। বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপের মধ্যে ইরানের নেতৃত্ব যে ঐক্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, এই বার্তায় তারই ইঙ্গিত মিলেছে।

ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে একই সময়ে একাধিক পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি—দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।

ইরানের নেতৃত্বে এই রদবদল এমন এক সময়ে হলো, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইনফান্তিনোকে ঘিরে ফিফায় নতুন চাপ, যৌথ চিঠিতে তিন মহাদেশীয় সংস্থার কড়া বার্তা

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় রদবদল, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি ট্রাম্পের

০৫:৫৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সাবেক ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর প্রধান মোহসেন রেজাইকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সামরিক নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ রদবদল করা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে যুদ্ধ ও বিভিন্ন হামলায় হতাহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

নিরাপত্তা পরিষদের নতুন দায়িত্বে মোহসেন রেজাই

ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ৭১ বছর বয়সী মোহসেন রেজাই। তিনি আগে ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আলাদা এক আদেশে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁকে ওই নিরাপত্তা পরিষদে নিজের প্রতিনিধি হিসেবেও নিয়োগ দিয়েছেন। রেজাই তাঁর পূর্বসূরি মোহাম্মদ বাঘের জোলকাদরের তুলনায় জনসম্মুখে বেশি সক্রিয় ও স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত।

জোলকাদরকে এবার সর্বোচ্চ নেতার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোয় দায়িত্বের বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস ঘটল।

সামরিক নেতৃত্বেও পরিবর্তন

ইরানের সামরিক কাঠামোয়ও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর জেনারেল আলি আবদোল্লাহিকে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান করা হয়েছে।

এর আগে তিনি খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন। এই কমান্ড ইরানের বিভিন্ন সামরিক শাখার কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করে।

এদিকে ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর নতুন সর্বাধিনায়ক হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ওয়াহিদির নামও নিশ্চিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এসব পরিবর্তনকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

Iran leadership reshuffles amid Hormuz talks comes after rare meeting with  President, Supreme Leader - ChiniMandi

ট্রাম্পের ক্ষতিপূরণের দাবি

ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

সোমবার ট্রাম্প ইরানের কাছে বিভিন্ন যুদ্ধ, হামলা ও সংঘাতে নিহত এবং গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। ইরান এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু শর্ত পূরণের আহ্বান জানিয়েছিল। তারই জবাবে ট্রাম্প পাল্টা ক্ষতিপূরণের দাবি তোলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিভিন্ন সংঘাত ও হামলায় নিহত এবং গুরুতর আহত মানুষের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার আরেকটি বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় সচল করার বিষয়ে দ্রুত কোনো সমঝোতা হওয়ার আশা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

জলপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এটি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।

ঐক্যের ওপর জোর মোজতবা খামেনির

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, সোমবার সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে তাঁর প্রায় সাত ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে।

বৈঠকে মানুষের জীবিকা, কর্মসংস্থান ও আবাসনসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি।

পেজেশকিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ওপর। বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপের মধ্যে ইরানের নেতৃত্ব যে ঐক্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, এই বার্তায় তারই ইঙ্গিত মিলেছে।

ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে একই সময়ে একাধিক পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি—দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।

ইরানের নেতৃত্বে এই রদবদল এমন এক সময়ে হলো, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।