১৭ বছর পর ভারতে ফিরছে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ। আর এই মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ভারতীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ ও ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া। চলতি বছরের ইন্ডিয়া ওপেনে অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং খেলার মাঠে কবুতর ও বানরের প্রবেশ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে গত ছয় মাস ধরে সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ চালানো হয়েছে।
আয়োজকদের লক্ষ্য একটাই—বিশ্বের সেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়দের নিয়ে এই বড় আসরে যেন কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
ছয় মাস ধরে চলেছে ব্যাপক সংস্কার
ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামের অবকাঠামো বেশ পুরোনো হওয়ায় এবার সংস্কারের কাজ শুরু করা হয় ফেব্রুয়ারি থেকেই। স্টেডিয়ামের পুরোনো ছাদ মেরামত করে পানি নিরোধক করা হয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রসারণ সংযোগস্থল সংস্কার করা হয়েছে। দর্শকসারির অনেক পুরোনো চেয়ারও বদলে নতুন চেয়ার বসানো হয়েছে।
ভারতের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী পরিচালক অম্বর প্রতাপ সিং জানিয়েছেন, পুরোনো অবকাঠামোর কারণে বেশ কিছু জায়গায় কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছিল। সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় মেরামত করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য ও ব্যবহারিক সুবিধা বাড়াতেও বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে।
কবুতর ও বানর ঠেকাতে অভিনব ব্যবস্থা
ইন্ডিয়া ওপেনের সময় খেলার মাঠে কবুতর ও বানরের প্রবেশ দর্শক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা।
স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের তিনটি প্রধান ভবন—মূল ব্যাডমিন্টন কোর্ট, সাইক্লিং ভেলোড্রোম এবং কে ডি যাদব হলের প্রধান ক্রীড়া এলাকায় প্রবেশের সব পথেই স্বয়ংক্রিয় কাচের দ্বৈত দরজা বসানো হয়েছে। এর ফলে বাইরে থেকে পাখি বা বানরের ভেতরে ঢোকার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে।

তবে শুধু দরজা বসিয়েই থেমে থাকেনি আয়োজকরা। কবুতর যাতে কোর্টের ওপর বসতে না পারে, সে জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বিষমুক্ত বিশেষ জেল। রাতে পাখিদের দূরে রাখতে শব্দতরঙ্গ তৈরি করে এমন আমদানি করা যন্ত্রও বসানো হয়েছে।
বানরের ক্ষেত্রে আরও অভিনব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হনুমানের মতো দেখতে ল্যাঙ্গুরের উপস্থিতির শব্দ ও আচরণ অনুকরণ করার জন্য তিনজন কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের দায়িত্ব হবে প্রয়োজন হলে ল্যাঙ্গুরের উপস্থিতির অনুকরণ করে বানরকে দূরে রাখা।
কোর্টের আলোতেও বাড়তি নজর
বিশ্বমানের প্রতিযোগিতার জন্য খেলার মাঠের আলো নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইন্ডিয়া ওপেনের সময় আলো নিয়ে বড় কোনো সমস্যা না থাকলেও এবার ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা হয়েছে।
ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ নতুন আলোকব্যবস্থা স্থাপন করেছে। পাশাপাশি ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত আলো বসানো হচ্ছে। নতুন কাঠের কোর্টে যেন কোনো ধরনের ছায়া না পড়ে এবং খেলোয়াড়রা শাটল পরিষ্কারভাবে দেখতে পারেন, সেটিই এর মূল উদ্দেশ্য।
সমালোচনা থেকে শিক্ষা
ইন্ডিয়া ওপেনে অবকাঠামো নিয়ে যে সমালোচনা হয়েছিল, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে আয়োজকরা। পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার, নতুন সরঞ্জাম স্থাপন, পাখি ও বানর ঠেকানো এবং আলোকব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এবার একটি আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
১৭ বছর পর ভারতে ফিরতে যাওয়া বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ তাই শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, আয়োজকদের জন্য নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণেরও বড় পরীক্ষা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে তাদের মূল লক্ষ্য—খেলার মাঠে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নয়, শুধু খেলাটিই আলোচনায় থাকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















