মাত্র এক দশকের ফ্যাশন-যাত্রায় কাইয়া গারবার লালগালিচার অন্যতম আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। ১১ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত ভোগের বিশেষ প্রতিবেদনে তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিক থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বেছে নেওয়া হয়েছে ২০টি স্মরণীয় সাজ। প্রতিটি পোশাকে কাইয়ার রুচি, আত্মবিশ্বাস ও সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া ফ্যাশন-ভাবনার আলাদা ছাপ দেখা যায়।
শুরুতেই নজর কেড়েছিলেন কাইয়া
কাইয়া গারবারের লালগালিচার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে ‘সিস্টার সিটিজ’ ছবির প্রদর্শনীতে জুহাইর মুরাদের পোশাকে। এরপর ২০১৭ সালের ফ্যাশন পুরস্কারে রালফ অ্যান্ড রুশো এবং একই বছরের ডেইলি ফ্রন্ট রো ফ্যাশন মিডিয়া পুরস্কারে ফিলোসফি দি লরেঞ্জো সেরাফিনির পোশাকে দেখা যায় তাকে। ২০১৮ সালের ফ্যাশন পুরস্কারে আলেকজান্ডার ম্যাককুইনের পোশাকেও তিনি আলাদা করে নজর কেড়েছিলেন।
মেট গালা থেকে নতুন উচ্চতায়
২০২১ সালের মেট গালায় অস্কার দে লা রেন্টার পোশাকে কাইয়ার উপস্থিতি তার ফ্যাশন-পরিচিতিকে আরও দৃঢ় করে। পরের বছর মেট গালায় আলেকজান্ডার ম্যাককুইনের পোশাক এবং একই বছরে একাডেমি গালায় আলায়ার নকশায় তাকে দেখা যায়। আলায়ার সঙ্গে তার এই সম্পর্ক পরবর্তী বছরগুলোতেও বেশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
২০২৪ সালে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে হার্ভে লেজারের পোশাক, মেট গালায় প্রাদার সাজ এবং টাইম ১০০ নেক্সট গালায় আলায়ার পোশাক—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাইয়া নিজের উপস্থিতিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরেছেন। একই বছর ‘পাম রয়্যাল’ ছবির প্রদর্শনীতে উজ্জ্বল নীলাভ সবুজ রঙের আলায়া পোশাকে তার উপস্থিতিও ছিল ব্যতিক্রমী।
পুরোনো নকশায় নতুন আবেদন
কাইয়ার ফ্যাশন-চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পুরোনো নকশাকে নতুন প্রজন্মের উপযোগী করে তোলা। ২০২৪ সালের একাডেমি গালায় আলেকজান্ডার ম্যাককুইনের নকশা করা পুরোনো গিভেঞ্চি পোশাক এবং ২০২৫ সালের ভ্যানিটি ফেয়ার অস্কার পার্টিতে পুরোনো ভ্যালেন্তিনো পোশাক বেছে নিয়ে তিনি সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই পরিচয় দিয়েছেন।
২০২৫ সালে ‘পাম রয়্যাল’-এর দ্বিতীয় মৌসুম উপলক্ষে দ্রিস ভ্যান নোটেনের পোশাক এবং ল্যাকমা আর্ট অ্যান্ড ফিল্ম গালায় গুচ্চির পোশাকেও কাইয়ার পরিণত ফ্যাশনবোধ ফুটে ওঠে। একই বছর একাডেমি গালায় সারাহ বার্টনের নকশা করা গিভেঞ্চির পোশাক পরেও তিনি প্রশংসা পান।২০২৬-এ আরও পরিণত কাইয়া।
২০২৬ সালের ভ্যানিটি ফেয়ার অস্কার পার্টিতে সারাহ বার্টনের গিভেঞ্চির লাল মখমলের পোশাক ছিল কাইয়ার সাম্প্রতিক আলোচিত সাজগুলোর একটি। এর আগে ২০২২ সালের মেট গালায় তার প্রথম অংশগ্রহণেও সারাহ বার্টনের নকশা করা রুপালি ঝিলমিলে পোশাক নজর কেড়েছিল।
‘দ্য শার্ডস’-এর নিউইয়র্ক প্রদর্শনীতে ভ্যালেন্তিনো এবং লন্ডনের প্রদর্শনীতে ফেন্ডির বিশেষ পোশাকে কাইয়া ২০২৬ সালের লালগালিচায় নিজের ফ্যাশন-যাত্রাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। বিশেষ করে লন্ডনের অনুষ্ঠানে প্রদর্শনীর জন্য সদ্য তৈরি পোশাক বেছে নেওয়া তার বর্তমান ফ্যাশন-অবস্থানেরও প্রতিফলন।
পোশাকে ধারাবাহিক পরিবর্তনের গল্প
কাইয়া গারবারের লালগালিচার সাজগুলো শুধু সুন্দর পোশাকের সংগ্রহ নয়; এগুলো তার ক্যারিয়ারের বিবর্তনেরও একটি দৃশ্যমান দলিল। শুরুতে তরুণীর সাহসী ও আধুনিক পোশাক থেকে ধীরে ধীরে তিনি পৌঁছেছেন পরিশীলিত গাউন, পুরোনো নকশার পুনর্ব্যবহার এবং সমকালীন উচ্চ ফ্যাশনের জগতে।
ভোগের নির্বাচিত ২০টি সাজে তাই কাইয়ার এক দশকের ফ্যাশন-পরিক্রমাই ধরা পড়েছে—একজন স্টাইলিশ কিশোরী থেকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত সুপারমডেল হয়ে ওঠার গল্প।
কাইয়ার এই ফ্যাশন-যাত্রায় সারাহ বার্টনের গিভেঞ্চি ও পিটার মুলিয়েরের আলায়া বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে জুহাইর মুরাদ, আলেকজান্ডার ম্যাককুইন, অস্কার দে লা রেন্টা, প্রাদা, গুচ্চি, ভ্যালেন্তিনো ও ফেন্ডিসহ বিভিন্ন নকশাকারীর পোশাকে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার ক্ষমতাই তাকে লালগালিচার অন্যতম আকর্ষণীয় ফ্যাশন তারকায় পরিণত করেছে। )
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















