০৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
বিদ্যুৎমন্ত্রী বললেন, লোডশেডিং কমানোর সুযোগ নেই; গ্যাস সংকটে শিল্পে উৎপাদন ক্ষতি ৪০ শতাংশ বই বাছাইয়ে মানুষের রুচিই কেন এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে স্মার্টফোন থেকে গাড়ি—সবখানেই মেমোরি চিপের সংকট ১৫০ বছরেও ম্লান হয়নি বায়রয়থ উৎসবের মোহ, ওয়াগনারের সুরে আজও তীর্থযাত্রা টেনিসের ইতিহাসে রেনে রিচার্ডস: পথ দেখানো এক নারীর উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পকে বাঁচাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিক-সরকারি কর্মকর্তারাই কি ‘অজান্তের ঢাল’? আমেরিকার লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা ছয় বিস্ময়, যেখানে প্রকৃতি এখনো নির্জন ও দুর্দান্ত পুতিনের বিতর্কিত কুরিল দ্বীপ সফরে জাপানের তীব্র প্রতিবাদ জাতিসংঘের দুই আফগান কর্মীকে আটক করেছে তালেবান খরায় পুড়ছে ব্রিটেনের কৃষিজমি, সামনে ভয়াবহ খাদ্যসংকটের আশঙ্কা

হাসানের আগুনে বোলিং, ১৯৮ রানেই অস্ট্রেলিয়া অলআউট; প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের দাপট

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমেই দুর্দান্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে দিয়েছে টাইগাররা। বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ।

বাংলাদেশের হয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন হাসান মাহমুদ। ডানহাতি এই পেসার ১৭ ওভারে মাত্র ৫৫ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ৬ উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় পাঁচ উইকেটের কীর্তি। একই সঙ্গে নিজের আগের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

শুরুতেই চাপে অস্ট্রেলিয়া

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বাংলাদেশের তিন পেসার শুরু থেকেই স্বাগতিক ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করেন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই ৭৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

হাসান মাহমুদ প্রথম আঘাত হানেন জেক ওয়েদারাল্ডকে ২৩ রানে ফিরিয়ে। পরের ওভারেই তিনি সাজঘরে পাঠান ট্রাভিস হেডকে, যিনি করেন ২২ রান।

এরপর মর্নাস লাবুশেনকে মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে দেন এবাদত হোসেন। বিরতির ঠিক আগে ক্যামেরন গ্রিনকে ১৩ রানে আউট করে অস্ট্রেলিয়ার ওপর আরও চাপ বাড়ান তাসকিন আহমেদ।

New Age | Hasan puts Bangladesh in charge against Australia

জীবন পেয়েও ইনিংস টানলেন স্মিথ

অস্ট্রেলিয়া যখন বিপর্যস্ত, তখন স্টিভ স্মিথকে শুরুতেই ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু স্লিপে তানজিদ হাসানের হাত ফসকে সেই ক্যাচ পড়ে যায়। তখন স্মিথের রান ছিল মাত্র ২।

জীবন পেয়ে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার দলকে বিপদ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেন। অ্যালেক্স ক্যারিকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে যোগ করেন ৫৬ রান।

তবে সেই জুটি ভেঙে দেন এবাদত। ১৯ রানে ক্যারিকে ফেরানোর পর তাসকিন আহমেদ বোল্ড করেন বো ওয়েবস্টারকে। এরপর হাসান মাহমুদ পরপর আঘাত হেনে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে ৯ এবং মিচেল স্টার্ককে মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে দেন।

চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮৩ রান ৮ উইকেটে। তখনও ৬৭ রানে অপরাজিত ছিলেন স্মিথ।

স্মিথের প্রতিরোধও থামালেন হাসান

চা-বিরতির পর আবারও বল হাতে নেন হাসান মাহমুদ। এবার তার শিকার হন স্মিথ। বাউন্সারে ব্যাট চালিয়ে বলের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার।

৭১ রানের ইনিংস খেলে স্মিথের বিদায়ের সঙ্গে হাসানের পাঁচ উইকেট পূর্ণ হয়। এরপর নাথান লায়নকে ৭ রানে আউট করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসেরও সমাপ্তি ঘটান তিনি।

ফলে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। হাসানের ঝুলিতে জমা হয় ৬ উইকেট। তাসকিন ও এবাদত নেন দুটি করে উইকেট।

বাংলাদেশের তিন পেসারের হাতেই অস্ট্রেলিয়ার সব ১০টি উইকেট পড়েছে—টেস্ট ক্রিকেটে যা টাইগারদের পেস আক্রমণের অসাধারণ সাফল্যের প্রমাণ।

Hasan makes history as Tigers bundle Australia out for 198 | The Daily Star

বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন সংগ্রহ

১৯৮ রানে অলআউট হওয়া অস্ট্রেলিয়ার জন্য বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে সর্বনিম্ন সম্পূর্ণ ইনিংস। এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন সংগ্রহ ছিল ২১৭ রান, ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে।

সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ২০ রানে জয় পেয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট জয়।

পরিকল্পনায় অটল ছিলেন হাসান

ইনিংস শেষে হাসান মাহমুদ জানান, নিজের লাইন ও লেংথ ঠিক রাখা এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করাতেই তিনি মনোযোগ দিয়েছিলেন। অধিনায়কের দেওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।

ডারউইনের এই ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ২৩ বছর পর প্রথম টেস্ট। সর্বশেষ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ।

প্রথম দিনেই ১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দিয়ে তাই নতুন সিরিজে আত্মবিশ্বাসের বড় বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ। এখন ব্যাট হাতে নিজেদের প্রথম ইনিংসকে কতটা শক্তিশালী করা যায়, সেটিই হয়ে উঠেছে টাইগারদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের দাপট এবং হাসান মাহমুদের ছয় উইকেটের বোলিং পারফরম্যান্স প্রথম দিনটিকে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের করে দিয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎমন্ত্রী বললেন, লোডশেডিং কমানোর সুযোগ নেই; গ্যাস সংকটে শিল্পে উৎপাদন ক্ষতি ৪০ শতাংশ

হাসানের আগুনে বোলিং, ১৯৮ রানেই অস্ট্রেলিয়া অলআউট; প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের দাপট

০২:০২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমেই দুর্দান্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে দিয়েছে টাইগাররা। বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ।

বাংলাদেশের হয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন হাসান মাহমুদ। ডানহাতি এই পেসার ১৭ ওভারে মাত্র ৫৫ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ৬ উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় পাঁচ উইকেটের কীর্তি। একই সঙ্গে নিজের আগের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

শুরুতেই চাপে অস্ট্রেলিয়া

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বাংলাদেশের তিন পেসার শুরু থেকেই স্বাগতিক ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করেন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই ৭৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

হাসান মাহমুদ প্রথম আঘাত হানেন জেক ওয়েদারাল্ডকে ২৩ রানে ফিরিয়ে। পরের ওভারেই তিনি সাজঘরে পাঠান ট্রাভিস হেডকে, যিনি করেন ২২ রান।

এরপর মর্নাস লাবুশেনকে মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে দেন এবাদত হোসেন। বিরতির ঠিক আগে ক্যামেরন গ্রিনকে ১৩ রানে আউট করে অস্ট্রেলিয়ার ওপর আরও চাপ বাড়ান তাসকিন আহমেদ।

New Age | Hasan puts Bangladesh in charge against Australia

জীবন পেয়েও ইনিংস টানলেন স্মিথ

অস্ট্রেলিয়া যখন বিপর্যস্ত, তখন স্টিভ স্মিথকে শুরুতেই ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু স্লিপে তানজিদ হাসানের হাত ফসকে সেই ক্যাচ পড়ে যায়। তখন স্মিথের রান ছিল মাত্র ২।

জীবন পেয়ে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার দলকে বিপদ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেন। অ্যালেক্স ক্যারিকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে যোগ করেন ৫৬ রান।

তবে সেই জুটি ভেঙে দেন এবাদত। ১৯ রানে ক্যারিকে ফেরানোর পর তাসকিন আহমেদ বোল্ড করেন বো ওয়েবস্টারকে। এরপর হাসান মাহমুদ পরপর আঘাত হেনে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে ৯ এবং মিচেল স্টার্ককে মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে দেন।

চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮৩ রান ৮ উইকেটে। তখনও ৬৭ রানে অপরাজিত ছিলেন স্মিথ।

স্মিথের প্রতিরোধও থামালেন হাসান

চা-বিরতির পর আবারও বল হাতে নেন হাসান মাহমুদ। এবার তার শিকার হন স্মিথ। বাউন্সারে ব্যাট চালিয়ে বলের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার।

৭১ রানের ইনিংস খেলে স্মিথের বিদায়ের সঙ্গে হাসানের পাঁচ উইকেট পূর্ণ হয়। এরপর নাথান লায়নকে ৭ রানে আউট করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসেরও সমাপ্তি ঘটান তিনি।

ফলে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। হাসানের ঝুলিতে জমা হয় ৬ উইকেট। তাসকিন ও এবাদত নেন দুটি করে উইকেট।

বাংলাদেশের তিন পেসারের হাতেই অস্ট্রেলিয়ার সব ১০টি উইকেট পড়েছে—টেস্ট ক্রিকেটে যা টাইগারদের পেস আক্রমণের অসাধারণ সাফল্যের প্রমাণ।

Hasan makes history as Tigers bundle Australia out for 198 | The Daily Star

বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন সংগ্রহ

১৯৮ রানে অলআউট হওয়া অস্ট্রেলিয়ার জন্য বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে সর্বনিম্ন সম্পূর্ণ ইনিংস। এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন সংগ্রহ ছিল ২১৭ রান, ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে।

সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ২০ রানে জয় পেয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট জয়।

পরিকল্পনায় অটল ছিলেন হাসান

ইনিংস শেষে হাসান মাহমুদ জানান, নিজের লাইন ও লেংথ ঠিক রাখা এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করাতেই তিনি মনোযোগ দিয়েছিলেন। অধিনায়কের দেওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।

ডারউইনের এই ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ২৩ বছর পর প্রথম টেস্ট। সর্বশেষ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ।

প্রথম দিনেই ১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দিয়ে তাই নতুন সিরিজে আত্মবিশ্বাসের বড় বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ। এখন ব্যাট হাতে নিজেদের প্রথম ইনিংসকে কতটা শক্তিশালী করা যায়, সেটিই হয়ে উঠেছে টাইগারদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের দাপট এবং হাসান মাহমুদের ছয় উইকেটের বোলিং পারফরম্যান্স প্রথম দিনটিকে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের করে দিয়েছে।