জার্মানির বায়রয়থ শহরে আবারও বসেছে সুরের এক অনন্য আসর। দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারও রিচার্ড ওয়াগনারের সংগীতনাট্যকে ঘিরে জমেছে বায়রয়থ উৎসব। এখানে দর্শক শুধু অপেরা দেখতে আসেন না, বরং তাঁরা যেন একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার অংশ হতে আসেন। কারও কাছে ওয়াগনারের সংগীত নেশার মতো, কারও কাছে ধর্মীয় বিশ্বাসের মতো, আবার কারও কাছে এটি ইতিহাস, রাজনীতি ও শিল্পের জটিল সম্পর্ক বোঝার একটি সুযোগ।
জুলাইয়ের উষ্ণ এক রবিবারে উৎসবের সূচনা হয় ওয়াগনারের প্রাথমিক দিকের গুরুত্বপূর্ণ রচনা ‘রিয়েনৎসি’ দিয়ে। দক্ষিণ জার্মানির ঢেউখেলানো ভূপ্রকৃতির মধ্য দিয়ে দর্শকেরা বায়রয়থের বিখ্যাত উৎসব-থিয়েটারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কারও পরনে ছিল সাদা-কালো আনুষ্ঠানিক পোশাক, কেউ এসেছেন পর্যটকের স্বাভাবিক পোশাকে। প্রায় ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও তাঁদের উৎসাহে কোনো ঘাটতি ছিল না।
‘ওয়াগনার আমাদের নেশা’
উৎসবের বাইরে কয়েকজন পুরনো ওয়াগনার-অনুরাগীকে দেখা যায় নিজেদের মধ্যে আড্ডা দিতে। কৈশোরে ওয়াগনারের সংগীতের সঙ্গে পরিচয়, এরপর বায়রয়থে এসে বন্ধুত্ব—সময় পেরিয়ে তাঁদের সেই টান আরও গভীর হয়েছে। এখন তাঁরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঘুরে ওয়াগনারের অপেরা দেখেন।
তাঁদের একজন দানিয়িল স্টারিকভের ভাষায়, বিষয়টি অনেকটা আসক্তির মতো। ওয়াগনারকে ছাড়া এখন আর তাঁদের জীবন কল্পনা করা কঠিন। অন্যদিকে প্রায় তিন দশক ধরে উৎসবে কাজ করা বারবারা স্টুয়ে এই দর্শকদের আচরণকে ধর্মীয় তীর্থযাত্রার সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর মতে, মানুষ বায়রয়থে আসে অনেকটা তীর্থযাত্রীর মতো।
স্টুয়ে উৎসবের দর্শকদের কাছে দূরবীন ভাড়া দেন। একসময় তাঁর স্টল ছিল থিয়েটারের ভেতরে। পরে সেটি বাইরে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের পেছনে উৎসবের বর্তমান পারিবারিক উত্তরাধিকারী ক্যাথারিনা ওয়াগনারের সিদ্ধান্ত ছিল বলে তিনি জানান।
ক্যাথারিনা ওয়াগনার রিচার্ড ওয়াগনারের প্রপৌত্রী। তাঁর বাবা ভলফগাং ওয়াগনারের মৃত্যুর পর তিনি পরিবারের এই সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার গ্রহণ করেন। উৎসবে তাঁর উপস্থিতি শুধু পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে নয়, বরং পুরো আয়োজনের নীতি ও পরিবেশের ওপর তাঁর প্রভাবের কারণেও গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ অপেরা নয়, যেন এক ধরনের মন্দির
বায়রয়থ উৎসব-থিয়েটারটি তৈরি হয়েছিল ওয়াগনারের একটি বিশেষ ধারণাকে সামনে রেখে। উনিশ শতকের প্রচলিত অপেরা-সংস্কৃতিতে দর্শকেরা মঞ্চ দেখার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ, পোশাক প্রদর্শন কিংবা একে অপরকে দেখানোতেও ব্যস্ত থাকতেন। ওয়াগনার এই ধারণার বিরোধী ছিলেন।
তিনি চেয়েছিলেন, দর্শকের সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকবে মঞ্চের সংগীতনাট্যের দিকে। সেই ভাবনা থেকেই উৎসব-থিয়েটারের নকশা।
এখানে প্রচলিত অর্থে কোনো রাজকীয় বাক্স নেই। আসনগুলো ধাপে ধাপে উঠে গিয়ে অর্ধবৃত্তাকার কাঠামো তৈরি করেছে। মঞ্চের দিকে দর্শকের দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত থাকে। এমনকি অর্কেস্ট্রার জায়গাটিও আচ্ছাদিত, যাতে বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের ওপর আলো পড়ে দর্শকের মনোযোগ অন্যদিকে না যায়।
ওয়াগনারের কাছে এই থিয়েটার ছিল নিছক বিনোদনের জায়গা নয়। তিনি এমন এক অভিজ্ঞতা তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যেখানে মঞ্চের দৃশ্য ও সংগীত দর্শককে এক ধরনের গভীর, প্রায় আধ্যাত্মিক অনুভূতির মধ্যে নিয়ে যাবে।
তবে এই অভিজ্ঞতার বাস্তব দিকটি খুব আরামদায়ক নয়। আসনগুলো শক্ত কাঠের তৈরি, বায়ু চলাচলের ব্যবস্থাও সীমিত। গ্রীষ্মের দুপুরে থিয়েটারের ভেতর বেশ গরম হয়ে ওঠে। তবু বহু বছরের দর্শকরা বলেন, পরিবেশনা ভালো হলে সেই অসুবিধা ভুলে যাওয়া যায়। সংগীতের মুহূর্তে শরীরে কাঁটা দেওয়ার অনুভূতিই তখন সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বায়রয়থ কেন বেছে নিয়েছিলেন ওয়াগনার
ওয়াগনার তাঁর বিশাল চার অপেরার ‘রিং’ চক্র পরিবেশনের জন্য একটি উপযুক্ত স্থান খুঁজছিলেন। জুরিখ ও মিউনিখের কথাও তিনি ভেবেছিলেন। শেষ পর্যন্ত বেছে নেন বায়রয়থকে।
বাভারিয়ার রাজা দ্বিতীয় লুডভিগ ওয়াগনারের বড় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে ওয়াগনার বিপুল আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁদের সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের জন্য তৎকালীন জার্মান রাজনীতিক অটো ফন বিসমার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি ওয়াগনার।
তাই উৎসবকে নিজস্ব অর্থে টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নেন তিনি। ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষকদের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এবং আগাম টিকিট সংরক্ষণের যে কাঠামো তিনি গড়ে তুলেছিলেন, সেটিকে আধুনিক শিল্পপৃষ্ঠপোষকতার অন্যতম প্রাথমিক রূপ হিসেবে দেখা হয়।
পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওয়াগনার সমিতি গড়ে ওঠে। এসব সংগঠন উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বহু বছর ধরে বায়রয়থের টিকিটের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকাও ছিল।
জাপানের ইয়োশি ওনোদেরা কৈশোরেই ওয়াগনারের সংগীতে মুগ্ধ হন। ২০০০ সালে তিনি জাপানের রিচার্ড ওয়াগনার সমিতিতে যোগ দেন। পাঁচ বছর পর প্রথমবার বায়রয়থে ‘রিং’ শোনার সুযোগ পান। এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই তিনি উৎসবে আসছেন। তাঁর ভাষায়, ওয়াগনারের সংগীত তাঁর আত্মায় এমন কিছু করে, যা অন্য কোনো সংগীত পারে না।
জাঁকজমকের মধ্যেও গ্রাম্য সরলতা
বায়রয়থের দর্শকদের মধ্যে রাজনীতিক, তারকা, ধনী পৃষ্ঠপোষক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংগীতপ্রেমী থাকলেও উৎসবের পরিবেশে এক ধরনের গ্রাম্য সরলতা রয়েছে।
থিয়েটারের আশপাশে অস্থায়ী শৌচাগার রয়েছে। ভেতরে বড় কোনো জমকালো লবি নেই। পরিবেশনার আগে এবং প্রায় এক ঘণ্টার বিরতিতে দর্শকেরা বাইরে বেরিয়ে পার্ক ও খোলা জায়গায় হাঁটেন। অনেকে সেখানে সসেজ খান, গল্প করেন, আবার নির্ধারিত সময় হলে থিয়েটারে ফিরে যান।
এখানেও একটি পুরনো ঐতিহ্য রয়েছে। ওয়াগনারের অপেরায় সাধারণত দুটি দীর্ঘ বিরতি থাকে। বিরতি শেষ হওয়ার সংকেত ঘণ্টাধ্বনিতে দেওয়া হয় না। বরং পিতলের বাদ্যযন্ত্রের বিশেষ সুর বাজানো হয়। সেই সুর ওয়াগনার নিজেই পরবর্তী অঙ্কের সংগীত থেকে তৈরি করেছিলেন।
ওয়াগনারের শিল্প, কিন্তু তাঁর বিতর্কিত রাজনীতিও
বায়রয়থের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি হলো—ওয়াগনারের সংগীতকে তাঁর রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান থেকে কতটা আলাদা করা সম্ভব?
ওয়াগনার ইহুদিবিদ্বেষী মতামত প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর শিল্পচিন্তার সঙ্গে জার্মান জাতীয়তাবাদ ও জাতিগত পরিচয়ের ধারণার সম্পর্কও ছিল। পরে তাঁর পরিবার নাৎসিদের উত্থানকে জোরালোভাবে সমর্থন করে। অ্যাডলফ হিটলার নিয়মিত বায়রয়থে আসতেন এবং উৎসবকে নাৎসি প্রচারের ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহার করেছিলেন।
এ কারণে ওয়াগনারের উত্তরাধিকার আজও বিতর্কিত।
এবারের উৎসবের উদ্বোধনী পরিবেশনা ‘রিয়েনৎসি’ সেই বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে। নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন জনতাবাদী রোমান নেতা। হিটলার এই রচনাটি বিশেষভাবে পছন্দ করতেন এবং ওয়াগনারের মূল পাণ্ডুলিপির একটি কপি তাঁর কাছে ছিল বলে জানা যায়। সেটি এখন হারিয়ে গেছে এবং ধারণা করা হয়, হিটলারের আত্মহত্যার পর তাঁর ধ্বংসপ্রাপ্ত আশ্রয়স্থলে সেটি ছিল।
ফলে ‘রিয়েনৎসি’ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সংগীত ও রাজনীতির সম্পর্ক এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। এবারের মঞ্চায়নে পরিচালক আলেক্সান্দ্রা সেমেরেদি ও মাগদোলনা পারদিতকা জনতার উন্মত্ত শাসনের বিপজ্জনক দিককে স্পষ্টভাবে সামনে এনেছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছবি নিয়েও বিতর্ক
এবারের আরেকটি বড় আকর্ষণ ওয়াগনারের ‘রিং’ চক্রের নতুন মঞ্চায়ন। পরিচালক হিসেবে প্রচলিত অর্থে কাজ না করে মার্কুস লোবেস এটিকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করেছেন। শিল্পীরা এমন একটি পর্দার পেছনে অভিনয় করেন, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি বিভিন্ন ছবি প্রদর্শিত হয়।
এই মঞ্চায়ন দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ কেউ এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন যে পরিবেশনার সময় প্রবল প্রতিবাদ ও দুয়ো শোনা গেছে। তবে বায়রয়থের ইতিহাসে এমন তীব্র প্রতিক্রিয়া নতুন নয়।
১৯৭৬-এর বিপ্লবী ‘রিং’
যুদ্ধের পর বায়রয়থকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে ওয়াগনারের উত্তরসূরিরা তাঁর কাজকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করেন। ১৯৫১ সালে ভিলান্ড ও ভলফগাং ওয়াগনার উৎসবের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের মূল ধারণা ছিল—এখানে শিল্পই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁরা আগের সময়ের অতিরিক্ত সাজসজ্জা ও রোমান্টিক উপস্থাপনার বদলে সরল, প্রতীকী ও আধুনিক মঞ্চায়ন শুরু করেন। এতে আন্তর্জাতিক দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়ে।
১৯৭৬ সালে উৎসবের শতবর্ষে আসে আরও বড় পরিবর্তন। পিয়ের বুলেজের পরিচালনায় এবং পাত্রিস শেরোর নির্দেশনায় ‘রিং’ চক্রকে পুঁজিবাদ ও তার সংকটের রূপক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

শুরুতে দর্শকের বড় অংশ এতে ক্ষুব্ধ হয়েছিল। কেউ কেউ পরিবেশনা বন্ধ করার জন্য শিসও নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু পরে সেই মঞ্চায়নই চলচ্চিত্রায়িত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে আধুনিক অপেরা নির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
দর্শকেরাও বিভক্ত
তবে বায়রয়থে আসা সবাই ওয়াগনারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে ভাবতে চান না। ব্রিটেন ও স্পেনে বসবাসকারী ইয়ান ও সু স্টানেক গত পাঁচ বছর ধরে উৎসবে আসছেন। ইয়ানের মতে, ওয়াগনার সবার জন্য নয়। তাঁর সঙ্গে অনেক অস্বস্তিকর ঐতিহাসিক সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। কিন্তু তাঁরা মূলত সংগীতের জন্য আসেন, রাজনীতির জন্য নয়।
অন্যদিকে পূর্ব জার্মানিতে সামাজিক ও পরীক্ষামূলক থিয়েটার নিয়ে কাজ করা হানেস ল্যাঙ্গার বায়রয়থে এসেছিলেন অনেকটা পর্যবেক্ষকের ভূমিকায়। তাঁর মতে, ‘রিয়েনৎসি’র মতো রাজনৈতিকভাবে ভারী একটি রচনা মঞ্চস্থ করার সিদ্ধান্ত সাহসী। সংগীতের শক্তি এত বেশি যে জাতীয় সমাজতন্ত্রীরা কেন ওয়াগনারের সংগীতে আকৃষ্ট হয়েছিল, তা বোঝা কঠিন নয়।
সরকারি অর্থায়ন নিয়েও বিতর্ক
বায়রয়থ উৎসবের রাজনৈতিক গুরুত্ব শুধু অতীতের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ১৯৭০-এর দশকের শুরু থেকে এটি একটি স্বতন্ত্র ভিত্তির কাঠামোয় পরিচালিত হচ্ছে এবং বাভারিয়া রাজ্য ও জার্মান কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে অর্থ পায়।
জার্মানির অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে জাতীয় সংস্কৃতি বাজেট কমানোর পরিকল্পনা থাকলেও সংস্কৃতিমন্ত্রী ভলফরাম ভাইমার সম্প্রতি উৎসবের জন্য বরং বাড়তি অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন।

এ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও জার্মান সমাজের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহল বায়রয়থের দিকে বিশেষ নজর রাখে। কারণ এই উৎসব শুধু সংগীতের অনুষ্ঠান নয়; এটি জার্মানির শিল্প, জাতীয়তাবাদ, ইতিহাস ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয়ের বহু বৈপরীত্যকে এক জায়গায় ধারণ করে।
পোশাক বদলেছে, কিন্তু আগ্রহ কমেনি
একসময় বায়রয়থের দর্শকদের পোশাকেও ছিল কঠোর আনুষ্ঠানিকতার ছাপ। এখন সেই রীতি অনেকটাই বদলে গেছে। স্টুয়ের চোখে, করোনার পর মানুষ বেশি করে জিনস ও ক্রীড়াজুতো পরে আসছেন। নির্দিষ্ট পোশাকবিধিও আর নেই।
তবু তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উৎসবের আকর্ষণ যে কমেনি, তার প্রমাণ ১০ বছর বয়সী সোফি মেরৎসরাথ। সুন্দর পোশাকে দ্বিতীয়বারের মতো বায়রয়থে এসেছিল সে। প্রথমবার এসেছিল আরও আগে—মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায়।
বার্লিনে নিয়মিত অপেরা দেখতে যাওয়া সোফির কাছে ওয়াগনার কোনো ভারী ঐতিহাসিক নাম নয়। তার কাছে এটি simply—দারুণ কিছু।
দেড়শ বছর পরও বায়রয়থ উৎসব তাই টিকে আছে এক অদ্ভুত দ্বৈততায়। একদিকে ওয়াগনারের সংগীতের গভীর আবেগ, অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার নিয়ে অস্বস্তি। একদিকে ঐতিহ্য, অন্যদিকে ক্রমাগত নতুন করে মঞ্চায়নের সাহস।
সম্ভবত এ কারণেই বায়রয়থে ওয়াগনার এখনো শুধু একজন সুরকার নন। তিনি একই সঙ্গে সংগীতের নেশা, ইতিহাসের বিতর্ক এবং একটি জাতির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের আয়না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















