২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটের পর পৃথিবী যেন হঠাৎ থেমে গিয়েছিল। নিউইয়র্কের আকাশে ধোঁয়া উঠছিল, মানুষ দিশেহারা হয়ে ছুটছিল, টেলিভিশনের পর্দায় বারবার ভেসে উঠছিল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া টুইন টাওয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ তখনও বুঝে উঠতে পারেনি, তারা ঠিক কী দেখছে। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়—এটি শুধু একটি বিমান দুর্ঘটনা নয়, এটি এমন এক হামলা, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস এবং বিশ্বের রাজনীতি, নিরাপত্তা ও মানুষের চিন্তাভাবনা আমূল বদলে দেবে।
সেই মুহূর্তে টাইম ম্যাগাজিনের সম্পাদক জিম কেলি একটি বিশাল সংবাদ সংগ্রহ অভিযান শুরু করেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সংবাদদাতারা হামলা, মানুষের প্রতিক্রিয়া, উদ্ধার তৎপরতা এবং দ্রুত বদলে যাওয়া পরিস্থিতির খবর সংগ্রহ করতে থাকেন। আর সেই বিপুল তথ্যকে একটি সমন্বিত গল্পে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব পান ন্যান্সি গিবস।
কেলির নির্দেশ ছিল খুব সরল—‘আজকের দিনের গল্পটা বলো।’ তার কাছে এটি ছিল একটি ‘সময়-ক্যাপসুল’ তৈরি করার কাজ; এমন একটি দলিল, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ফিরে তাকিয়ে বুঝতে পারে, ২০০১ সালের সেই দিনটি মানুষ কীভাবে দেখেছিল এবং অনুভব করেছিল।
গিবস পরে বুঝেছেন, সেদিনের সাংবাদিকতার দায়িত্ব শুধু তথ্য জানানো ছিল না। ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে একটি সমাজের সম্মিলিত অভিজ্ঞতাকে ধরে রাখাও ছিল সাংবাদিকতার কাজ। ২০০১ সালের ৯/১১ বিশেষ সংখ্যার সঙ্গে তার নাম গভীরভাবে জড়িয়ে আছে; ওই সংখ্যার কাজ পরবর্তী সময়ে ন্যাশনাল ম্যাগাজিন অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিল।
একই ঘটনা, ভিন্ন অভিজ্ঞতা
৯/১১-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি ছিল—একই ঘটনা মানুষ দেখেছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন জায়গা থেকে।
নিউইয়র্কের মানুষ ধোঁয়া দেখেছে, পোড়া গন্ধ পেয়েছে, ধ্বংসের ধুলোয় ঢেকে গেছে। কেউ কাছ থেকে দেখেছে ভবন ধসে পড়তে। কেউ স্বজনকে ফোন করে আর যোগাযোগ করতে পারেনি। কেউ রাস্তায় অপরিচিত মানুষকে পালাতে সাহায্য করেছে। কেউ আবার হাসপাতাল, দমকল কেন্দ্র কিংবা উদ্ধারস্থলে ছুটে গেছে।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা মানুষ টেলিভিশন, রেডিও বা সংবাদসংস্থার মাধ্যমে জানতে পেরেছে কী ঘটছে। ছোট শহর থেকে বড় নগর—সর্বত্র সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল।
অভিজ্ঞতা আলাদা হলেও একটি জায়গায় সবাই যেন এক হয়ে গিয়েছিল। সবাই বুঝতে পেরেছিল, একটি অকল্পনীয় ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ নিজেদের একই বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখতে শুরু করেছিল।
এই অভিন্ন বাস্তবতা তখন শুধু একটি সংবাদমাধ্যমের তৈরি বিষয় ছিল না। মানুষ একই টেলিভিশন ছবি দেখছিল, একই সংবাদ শুনছিল, একই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিল এবং একই ভয় অনুভব করছিল।
আতঙ্কের মধ্যে তৈরি হয়েছিল আস্থাও
৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক যেমন বেড়েছিল, তেমনি একটি সময়ের জন্য রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থাও বেড়েছিল।
গিবসের লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০১ সালের অক্টোবর নাগাদ ৬০ শতাংশ মানুষ বলেছিলেন, তারা সব সময় বা অধিকাংশ সময় সরকারের সঠিক কাজ করার ওপর আস্থা রাখেন। এটি ছিল প্রায় তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আস্থা।
একটি বড় সংকটের সময় মানুষ উত্তর খোঁজে। আর যখন সবাই একই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়, তখন একই ধরনের তথ্য ও একই ধরনের ব্যাখ্যার গুরুত্বও বেড়ে যায়।
সেদিন মানুষ জানত না সামনে কী হবে। কিন্তু অন্তত তারা জানত, সবাই একই ঘটনার দিকে তাকিয়ে আছে।
আজকের পৃথিবীর সঙ্গে এখানেই সবচেয়ে বড় পার্থক্য।
২৫ বছরে বদলে গেছে তথ্যের পৃথিবী
৯/১১-এর সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজকের মতো ছিল না। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক কিংবা এক্সের মতো প্ল্যাটফর্ম মানুষের দৈনন্দিন সংবাদজীবন নিয়ন্ত্রণ করত না।
তখন সংবাদ গ্রহণের পথ ছিল অনেক বেশি সীমিত। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও এবং প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট—মানুষ মূলত এসব মাধ্যমের ওপর নির্ভর করত।
এখন সেই পৃথিবী আর নেই।
বিশ্বজুড়ে মানুষ ক্রমেই সামাজিক ও ভিডিওভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম থেকে সংবাদ গ্রহণ করছে। সংবাদ শুধু সাংবাদিক বা সংবাদ প্রতিষ্ঠানের হাতে নেই; ব্যক্তি, কনটেন্ট নির্মাতা, প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং অসংখ্য অনলাইন অ্যাকাউন্টও এখন তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে।
এর ফলে তথ্যের পরিমাণ বেড়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে মানুষের সামনে থাকা বাস্তবতাও আলাদা হয়ে গেছে।
একজন যে ভিডিও দেখছেন, অন্যজন হয়তো সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ভিডিও দেখছেন। একজন যে ব্যাখ্যা বিশ্বাস করছেন, অন্যজন হয়তো তার বিপরীত ব্যাখ্যা শুনছেন।
ফলে একটি সমাজে একই ঘটনার জন্য অভিন্ন গল্প তৈরি করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
হারিয়ে যাচ্ছে ‘একটি অভিন্ন বাস্তবতা’
গিবসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখানেই।
একটি গণতান্ত্রিক সমাজে মানুষ ভিন্ন মত পোষণ করতেই পারে। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, নীতির বিষয়ে মতবিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু যদি মানুষ মৌলিক তথ্য নিয়েই একমত হতে না পারে, তাহলে একটি সমাজ কীভাবে একই বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করবে?
গিবস লিখেছেন, ১০ জনের মধ্যে আটজন মনে করেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা এমনকি মৌলিক তথ্য নিয়েও একমত হতে পারেন না।
এই পরিস্থিতির পেছনে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দায়ী—এমন সরল ব্যাখ্যা তিনি দেননি। প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের ব্যবসায়িক কাঠামোর দুর্বলতা, সাংবাদিকতার নিজেদের কিছু ভুল এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন—সবকিছু মিলে গত ২৫ বছরে মানুষ পৃথিবীকে বোঝার পদ্ধতি বদলে গেছে।
প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের ওপর আস্থা কমেছে। একই সঙ্গে সরকারের ওপর আস্থাও ব্যাপকভাবে কমেছে। গিবসের লেখায় বর্তমান সময়ে সরকারের ওপর আস্থা প্রায় ১৭ শতাংশে নেমে আসার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, ৯/১১-এর পর যে সমাজ একটি বড় সংকটের সময় প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকিয়েছিল, ২৫ বছর পর সেই সমাজের একটি বড় অংশ প্রতিষ্ঠানগুলোকেই সন্দেহের চোখে দেখছে।
৯/১১ কি এই পরিবর্তনের কারণ?
গিবসের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—৯/১১ একবিংশ শতাব্দীর ‘সত্যের অবক্ষয়’ তৈরি করেনি। কিন্তু ঘটনাটি সেই পরিবর্তনের সঙ্গে একই সময়ে ঘটেছিল।
২০০১ সালের পর মানুষ হঠাৎ এমন এক পৃথিবীতে ঢুকে পড়ে, যেখানে পুরোনো নিরাপত্তাবোধ ভেঙে যায়। মানুষ উত্তর খুঁজতে থাকে—কেন ঘটল, কে দায়ী, এরপর কী হবে এবং কাকে বিশ্বাস করা যায়?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার সময় মানুষ একই সঙ্গে নিরাপত্তা, পরিচয় ও বিশ্বাসযোগ্যতার সন্ধান করেছে।
কেউ প্রতিষ্ঠানের ওপর ভরসা করেছে। কেউ নিজের সম্প্রদায় বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে আশ্রয় খুঁজেছে। কেউ আবার ষড়যন্ত্রতত্ত্বে উত্তর খুঁজেছে।
অর্থাৎ, তথ্যের প্রয়োজন যেমন বেড়েছে, তেমনি তথ্য নিয়ে বিভাজনও বাড়তে শুরু করেছে।
৯/১১ নিয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের বিস্তারও নতুন কিছু নয়। টাইম নিজেই ২০০৬ সালে লিখেছিল, এত বড় ঘটনার ব্যাখ্যা খুঁজতে মানুষ প্রায়ই বড় ও সহজ কোনো তত্ত্বের দিকে আকৃষ্ট হয়।
কিন্তু তখনও তথ্যের প্রবাহ আজকের মতো অসীম ছিল না।
গল্পের শক্তি কোথায়?
২৫ বছর আগে গিবসের কাছে মূল প্রশ্ন ছিল—কীভাবে একটি ভয়াবহ ঘটনার গল্প বলা যায়?
তার বিশ্বাস ছিল, শুষ্ক তথ্যের চেয়ে গল্প মানুষের মনে বেশি স্থায়ী হয়।
সংখ্যা বলে কত মানুষ মারা গেল। সময় বলে কখন বিমান আঘাত করল। স্থান বলে কোথায় ভবন ধসে পড়ল। কিন্তু একজন বাবা তার সন্তানকে শেষবার ফোন করার আগে কী বলেছিলেন, একজন দমকলকর্মী কেন আগুনের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন, একজন অপরিচিত মানুষ কেন অন্য একজনকে হাত ধরে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন—এসব গল্প মানুষকে ঘটনার মানবিক অর্থ বুঝতে সাহায্য করে।
৯/১১-এর পর এমন অসংখ্য গল্প সামনে এসেছিল।
নিউইয়র্কের উদ্ধারকর্মীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে কাজ করেছেন। সাধারণ মানুষ অপরিচিতদের সাহায্য করেছে। রক্ত দিতে মানুষ হাসপাতালে গিয়েছে। কেউ খাবার দিয়েছে, কেউ আশ্রয় দিয়েছে, কেউ উদ্ধারকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
গিবসের আগের ৯/১১-সংক্রান্ত লেখাতেও সেই সময়ের মানুষের শোক, ভয়, সাহস এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর ছবি উঠে এসেছিল। (Time)
এই গল্পগুলোই সেই সময়ের মানুষের মধ্যে একটি অভিন্ন অনুভূতি তৈরি করেছিল।
হয়তো আসল যুদ্ধ ছিল তথ্যের জন্য
২৫ বছর আগে গিবস ভেবেছিলেন, তার কাজ হলো একটি ঐতিহাসিক দিনের গল্পকে ঠিকভাবে বলা।
কিন্তু ২৫ বছর পর ফিরে তাকিয়ে তার মনে হচ্ছে, হয়তো তখন তিনি আরও বড় একটি পরিবর্তনের সূচনা পুরোপুরি দেখতে পাননি।
সেটি ছিল তথ্যের জন্য যুদ্ধ।
কোন তথ্য সত্য? কাকে বিশ্বাস করা যাবে? কোন গল্পটি বাস্তবতার সবচেয়ে কাছাকাছি? কে তথ্য নির্বাচন করছে? কেন একটি ঘটনা একজনের কাছে একরকম, অন্যজনের কাছে অন্যরকম?
এই প্রশ্নগুলো এখন কেবল সাংবাদিকদের প্রশ্ন নয়। এগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রশ্ন।
মানুষের হাতে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি তথ্য। কিন্তু একই সঙ্গে সবার হাতে একই তথ্য নেই।
আর এখানেই তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য—তথ্য যত বেড়েছে, অভিন্ন বাস্তবতার অনুভূতি তত দুর্বল হয়েছে।
৯/১১-এর সবচেয়ে মূল্যবান উত্তর হয়তো মানুষের গল্পেই
গিবস শেষ পর্যন্ত ফিরে যান মানুষের গল্পের কাছেই।
কারণ ৯/১১-এর স্মৃতিতে শুধু বিমান, ভবন, ধোঁয়া কিংবা ধ্বংসস্তূপ নেই। আছে মানুষের সাহস, সেবা, আত্মত্যাগ ও অপরিচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অসংখ্য ঘটনা।
সেদিন প্রথম সাড়াদানকারী কর্মীরা আগুনের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন, যখন অন্যরা নিরাপদ জায়গার দিকে পালাচ্ছিল। সাধারণ মানুষ অপরিচিত মানুষকে সাহায্য করেছিল। ভয়াবহ বিপদের মধ্যেও অনেক মানুষ দায়িত্ব পালন করেছিল।
এসব গল্প কেবল অতীতের স্মৃতি নয়। এগুলো একটি সমাজ কীভাবে সংকটের সময় নিজেকে দেখতে পারে, তারও উদাহরণ।
আজ যখন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন পর্দায় ভিন্ন ভিন্ন গল্প দেখে, তখন সেই অভিন্ন মানবিক গল্পগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কারণ একটি সমাজ শুধু একই তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। সমাজ দাঁড়িয়ে থাকে এমন কিছু অভিন্ন গল্পের ওপর, যেগুলো মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—ভিন্ন মত থাকলেও তারা একই বাস্তবতার অংশ এবং একই মানবিকতার সঙ্গে যুক্ত।
২৫ বছর পর ফিরে দেখা
৯/১১-এর ২৫ বছর পর প্রশ্নটি তাই শুধু কী ঘটেছিল—তা নয়।
প্রশ্ন হলো, সেই ঘটনার পর আমরা কীভাবে পৃথিবীকে দেখতে শিখেছি।
সেদিন মানুষ একই ধোঁয়ার দিকে তাকিয়েছিল। একই ভয় অনুভব করেছিল। একই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছিল। একই সংবাদ শুনেছিল। আর বহু মানুষ একই সঙ্গে অপরিচিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
আজ মানুষ একই পৃথিবীতে থেকেও ভিন্ন ভিন্ন তথ্যজগতের মধ্যে বসবাস করছে।
ন্যান্সি গিবসের ফিরে দেখা তাই শুধু ৯/১১-এর স্মৃতিচারণ নয়। এটি সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ, মানুষের পারস্পরিক আস্থা এবং একটি সমাজের অভিন্ন বাস্তবতা ধরে রাখার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নও।
২৫ বছর পর হয়তো সবচেয়ে জরুরি স্মৃতি শুধু সেই ধ্বংসের নয়—সেই সময়ের মানুষের একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর গল্পও।
কারণ ভয় মানুষকে আলাদা করতে পারে। কিন্তু ভাগাভাগি করা গল্প মানুষকে আবার একত্র করতে পারে।












