০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে বাগান থেকে বদলাবে খাবারের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক

ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিনের শিক্ষক ও জনবল সংকটে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। একই সঙ্গে ৮০টি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরির পদও শূন্য রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১০৯টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে প্রধান শিক্ষক পদ রয়েছে ১০৯টি। এর মধ্যে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৩৭ জন। ফলে বাকি ৭২টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

২০১৭ সালের পর থেকে শূন্য পদগুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের নিয়মিত দায়িত্বের মধ্যে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ, বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ, উপবৃত্তি সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং সরকারি হিসাব-নিকাশসহ নানা প্রশাসনিক কাজ রয়েছে। এসব দায়িত্ব পালন করতে শিক্ষা অফিসেও যেতে হয়।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের এসব প্রশাসনিক কাজে সময় দিতে গিয়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ৭২টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

বিদ্যালয় পরিদর্শনেও জনবল সংকট

শুধু বিদ্যালয় পর্যায়েই নয়, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও জনবল সংকট রয়েছে। ফুলবাড়ী উপজেলায় বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য তিনজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন দুইজন। একটি পদ শূন্য থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত বিদ্যালয় তদারক করতে হচ্ছে।

ফলে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষকদের পাঠদান মূল্যায়ন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নৈশপ্রহরী না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮০টিতেই নেই নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরি। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ শূন্য থাকায় রাতের বেলায় অনেক বিদ্যালয় অরক্ষিত অবস্থায় থাকছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তার এই দুর্বলতার সুযোগে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম, বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ সরকারি সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।ফুলবাড়ীতে ১০৯ সরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী  শূন্য ৮০

পদোন্নতি নিয়ে শিক্ষকদের ক্ষোভ

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি এসএক মোহাম্মদ আলী দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম বলেন, ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অনেক শিক্ষক যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাচ্ছেন না। অন্যদিকে নতুনদের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, আইনি জটিলতার কারণে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহসিন আলী বলেন, সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি আটকে আছে। তবে শূন্য পদগুলোর তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংকট দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ফুলবাড়ীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সংকট

ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। পাশাপাশি ৮০টি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরির পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ

ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

০৮:০২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিনের শিক্ষক ও জনবল সংকটে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। একই সঙ্গে ৮০টি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরির পদও শূন্য রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১০৯টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে প্রধান শিক্ষক পদ রয়েছে ১০৯টি। এর মধ্যে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৩৭ জন। ফলে বাকি ৭২টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

২০১৭ সালের পর থেকে শূন্য পদগুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের নিয়মিত দায়িত্বের মধ্যে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ, বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ, উপবৃত্তি সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং সরকারি হিসাব-নিকাশসহ নানা প্রশাসনিক কাজ রয়েছে। এসব দায়িত্ব পালন করতে শিক্ষা অফিসেও যেতে হয়।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের এসব প্রশাসনিক কাজে সময় দিতে গিয়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ৭২টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

বিদ্যালয় পরিদর্শনেও জনবল সংকট

শুধু বিদ্যালয় পর্যায়েই নয়, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও জনবল সংকট রয়েছে। ফুলবাড়ী উপজেলায় বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য তিনজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন দুইজন। একটি পদ শূন্য থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত বিদ্যালয় তদারক করতে হচ্ছে।

ফলে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষকদের পাঠদান মূল্যায়ন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নৈশপ্রহরী না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮০টিতেই নেই নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরি। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ শূন্য থাকায় রাতের বেলায় অনেক বিদ্যালয় অরক্ষিত অবস্থায় থাকছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তার এই দুর্বলতার সুযোগে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম, বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ সরকারি সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।ফুলবাড়ীতে ১০৯ সরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী  শূন্য ৮০

পদোন্নতি নিয়ে শিক্ষকদের ক্ষোভ

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি এসএক মোহাম্মদ আলী দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম বলেন, ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অনেক শিক্ষক যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাচ্ছেন না। অন্যদিকে নতুনদের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, আইনি জটিলতার কারণে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহসিন আলী বলেন, সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি আটকে আছে। তবে শূন্য পদগুলোর তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংকট দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ফুলবাড়ীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সংকট

ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। পাশাপাশি ৮০টি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরির পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।