সিলেটে রাজনৈতিক কর্মীদের হাতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও স্থানীয় বিএনপির সংবাদ কার্যক্রম বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় টেলিভিশন সাংবাদিকরা।
প্রতিমন্ত্রীর প্রথম সিলেট সফর
শুক্রবার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে যান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। জুমার নামাজের পর তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে গিয়ে জিয়ারত করেন। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মাজার প্রাঙ্গণেই তাঁর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের কর্মীরা মাজারের প্রধান ফটকের কাছে অবস্থান নেন। একই সময়ে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের বের হওয়ার পথ স্বাভাবিক রাখতে সাংবাদিকরা গেটের পাশে অবস্থান করছিলেন।
তবে মাজার এলাকায় রাজনৈতিক কর্মীদের ব্যাপক ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হলে সাংবাদিকদের একপর্যায়ে মাজারের বাইরে চলে যেতে হয়।
সাংবাদিকদের হয়রানির অভিযোগ
সাংবাদিকদের অভিযোগ, মাজারের বাইরে যাওয়ার পর ‘জিয়ার সৈনিক এক হও’ স্লোগান দিতে থাকা একদল যুবক তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং হয়রানি করেন। কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে পৃথকভাবেও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জামুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক নাবিল হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা কেন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য না নিয়ে চলে গেলেন—এ নিয়ে হয়রানিকারীরা তাঁদের কাছে আক্রমণাত্মকভাবে প্রশ্ন করেন।
স্টার নিউজ সিলেট ব্যুরো প্রধান ইয়াহিয়া মারুফও ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিশৃঙ্খল ভিড়ের কারণে সাংবাদিকরা মাজারের বাইরে চলে গিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, এরপর বিএনপির কয়েকজন কর্মী টেলিভিশন সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
বয়কটের সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের
ঘটনার পর সিলেটের স্থানীয় টেলিভিশন সাংবাদিকরা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেন, ভবিষ্যতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের কোনো কর্মসূচি এবং স্থানীয় বিএনপির কোনো অনুষ্ঠান তাঁরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য কভার করবেন না।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁরা ফোনে সাড়া দেননি।
মাজার প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কথিত হয়রানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের এই বয়কটের সিদ্ধান্ত এখন সিলেটে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















