আফ্রিকা মহাদেশের প্রকৃত আয়তন ও অবস্থানকে আরও সঠিকভাবে তুলে ধরতে বহুদিনের প্রচলিত মানচিত্র পরিবর্তনের উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আফ্রিকার দেশগুলোর উদ্যোগে আনা একটি প্রস্তাব বিপুল ভোটে অনুমোদিত হয়।
বিকৃত মানচিত্রের বদলে বাস্তব আয়তন
শত শত বছর ধরে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ষোড়শ শতাব্দীর মারকেটর মানচিত্র। কিন্তু এই মানচিত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃত আয়তন সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না। বিশেষ করে মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি থাকা ভূখণ্ডগুলোকে বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় দেখানো হয়।
এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকা। প্রচলিত মারকেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার প্রায় সমান আকারের মনে হয়। অথচ বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের তুলনায় প্রায় ১৪ গুণ বড়।
টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুশি জাতিসংঘের ভোটের আগে বলেন, ‘ন্যায্য পৃথিবী শুরু হয় একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে।’
সমর্থন পেল ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্র

আফ্রিকান দেশগুলোর নেতৃত্বে আনা প্রস্তাবে ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এই মানচিত্রে মহাদেশগুলোর আপেক্ষিক আয়তন তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি ১৬৪ ভোটে অনুমোদিত হয়। বিপক্ষে ভোট দেয় মাত্র একটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।
তবে সিদ্ধান্তটি বাধ্যতামূলক নয়। টোগোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সমুদ্র ও আকাশপথে নৌচলাচল ও বিমান চলাচলের কাজে মারকেটর মানচিত্রের ব্যবহার নিয়ে এই সিদ্ধান্ত কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে না। এসব ক্ষেত্রে মানচিত্রটি এখনও কার্যকর।
স্কুলের পাঠ্যবই বদলাবে টোগো
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে টোগো নিজ দেশ থেকেই শুরু করতে চায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্কুলের ভূগোলের বই ও শিক্ষাসামগ্রীতে নতুন মানচিত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, টোগোই হবে প্রথম দেশ যারা নিজেদের ভূগোলের বই পরিবর্তন করবে। শ্রেণিকক্ষে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও এর উদাহরণ অনুসরণে উৎসাহিত করতে চায় দেশটি।

আগামী ছয় মাসের মধ্যে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য দেশ এবং অন্যান্য অঞ্চলের সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করে এই মানচিত্রের ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করার উপায় নিয়েও আলোচনা করবে টোগো।
উপনিবেশবাদের উত্তরাধিকার নিয়েও বিতর্ক
টোগোর মতে, মারকেটর মানচিত্রের দীর্ঘদিনের ব্যাপক ব্যবহার উপনিবেশবাদের ঐতিহাসিক প্রভাবের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই মানচিত্র পরিবর্তনের উদ্যোগকে আফ্রিকার বৃহত্তর আত্মপরিচয় ও ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার মোকাবিলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, এই উদ্যোগ ইউরোপ বা অন্য কোনো সভ্যতার বিরুদ্ধে অবস্থান নয়। বরং পরিবর্তনশীল বিশ্বের বাস্তবতাকে মানচিত্রে আরও যথাযথভাবে তুলে ধরাই এর লক্ষ্য।
তিনি বলেন, পৃথিবী বদলাচ্ছে, আফ্রিকাও বদলাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















