মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের আর মাত্র দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় বাকি। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে ব্যস্ত কূটনৈতিক সফর ও তৎপরতার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের প্রভাব আরও জোরালো করার চেষ্টা করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সফর
চলতি মাসের শুরুতেই শি জিনপিং কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন। এরপর তিনি রাষ্ট্রীয় সফরে যান মিসরে। এসব সফরের মাধ্যমে চীন মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছে।
এবার শির সামনে রয়েছে আরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কূটনৈতিক কর্মসূচি। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে তিনি নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর তাঁর গন্তব্য হতে পারে ওয়াশিংটন, যেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন সফরের বিষয়ে বেইজিং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
ট্রাম্প বৈঠকের আগে অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে শি জিনপিংয়ের একের পর এক আন্তর্জাতিক সফর কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কর্মসূচি নয়। এর মধ্য দিয়ে চীন বিশ্ব রাজনীতিতে নিজের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার আগে কূটনৈতিক পরিসরও বাড়াতে চাইছে।
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, ব্রিকস এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ চীনের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর কাছে নিজেদের প্রভাব আরও বিস্তৃত করতে চাইছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাসহ নানা বিষয়ে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সঙ্গে শির আসন্ন বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বৈঠকের আগে শির কূটনৈতিক তৎপরতা তাই বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। চীন একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উন্নয়নশীল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে নিজের কৌশলগত অবস্থান সুসংহত করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















