০১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপালে হিমালয়-বন্যার তাণ্ডব, নিশ্চিহ্ন জনপদে ১,৩০০ মৃত্যু ও ৫ হাজার নিখোঁজ বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে ভয়াবহ সংঘর্ষ, চট্টগ্রামে নিহত ৪ কলোরাডোয় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগের নতুন প্রজাতির অ্যালিগেটরের সন্ধান ফরিদপুরে চা-দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ৩ ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের ‘কূটনীতি আগে’ নীতি, ইউক্রেন-মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে কেন নিরপেক্ষ নয়াদিল্লি নতুন অস্ত্রবাজারের বাস্তবতা: পশ্চিমা আধিপত্যের বাইরে রাশিয়ার উত্থান ভাড়া বাসা থেকে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ন্যাটো সদস্য বুলগেরিয়ায় অস্ত্র কোম্পানির গোলাবারুদ গুদামে ফের আগুন, নাশকতার সন্দেহ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার খবর, সৌদির তেল পাইপলাইন বন্ধে বাড়ছে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে সংযমের আহ্বান, বৈঠকে ইরান-আমিরাত

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে সংযমের আহ্বান, বৈঠকে ইরান-আমিরাত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে উত্তেজনা কমাতে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস জোট। শনিবার নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিন ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথ ঘোষণায় সমর্থন দেওয়াকে কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যৌথ ঘোষণায় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি প্রবাহ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান

ঘোষণায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ব্রিকস গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে নিতে পারে—এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।

ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধপরিস্থিতিতে তীব্র বিভাজন তৈরি হয়েছে। সংঘাতের সময় ইরান আমিরাতকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ আগস্টের শেষ দিকে আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। ওই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও হেলিকপ্টার অবস্থান করছিল।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই দুই দেশের প্রতিনিধিরা ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় একমত হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Iran President, UAE Crown Prince meet on BRICS sidelines, back joint  statement urging restraint in West Asia war | World News

ইরান-আমিরাত শীর্ষ বৈঠক

নয়াদিল্লি সম্মেলনের প্রথম দিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।

আবুধাবির মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়, উত্তেজনা কমানো, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার কোনো নির্দিষ্ট ফলাফল বা সমঝোতার কথা জানানো হয়নি।

ভারতের সাবেক সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত সুনজয় সুধীর বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার মূল চাবিকাঠি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে। তার মতে, ভারত কঠিন আলোচনা চালু রাখার মাধ্যমে দেখিয়েছে যে অঞ্চলের দেশগুলো একই টেবিলে বসে কূটনৈতিকভাবে আলোচনা করতে এবং অভিন্ন স্বার্থের জায়গায় এগোতে পারে।

ব্রিকসের প্রভাব বাড়ানোর বার্তা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলন উদ্বোধনের সময় বলেন, ব্রিকস এখন পরিণত হয়েছে এবং বৈশ্বিক পরিসরে জোটের ঐক্য ও ঐকমত্যকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে।

২০০৯ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস পরে মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্প্রসারিত হয়েছে। জোটটি আন্তর্জাতিক নিয়ম প্রণয়নে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে।

BRICS nations urge 'restraint' in Middle East, smooth flow of global trade  | International Trade News | Al Jazeera

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, ব্রিকস দেশগুলোর উচিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক করার পথে এগিয়ে নেওয়া। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চীন তার যথাযথ ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে রাজনৈতিক সমাধানের পথে অটল থেকে স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান শি।

নয়াদিল্লি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। ব্রিকসের মাধ্যমে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণেও জোর দিচ্ছে ভারত।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসের যৌথ ঘোষণা এবং ইরান-আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে। যদিও এই ঘোষণা চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তন আনবে কি না, তা স্পষ্ট নয়; তবে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর এই জোটের ঐক্য প্রদর্শনে এর গুরুত্ব রয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপালে হিমালয়-বন্যার তাণ্ডব, নিশ্চিহ্ন জনপদে ১,৩০০ মৃত্যু ও ৫ হাজার নিখোঁজ

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে সংযমের আহ্বান, বৈঠকে ইরান-আমিরাত

১১:১৫:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে উত্তেজনা কমাতে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস জোট। শনিবার নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিন ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথ ঘোষণায় সমর্থন দেওয়াকে কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যৌথ ঘোষণায় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি প্রবাহ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান

ঘোষণায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ব্রিকস গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে নিতে পারে—এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।

ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধপরিস্থিতিতে তীব্র বিভাজন তৈরি হয়েছে। সংঘাতের সময় ইরান আমিরাতকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ আগস্টের শেষ দিকে আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। ওই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও হেলিকপ্টার অবস্থান করছিল।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই দুই দেশের প্রতিনিধিরা ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় একমত হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Iran President, UAE Crown Prince meet on BRICS sidelines, back joint  statement urging restraint in West Asia war | World News

ইরান-আমিরাত শীর্ষ বৈঠক

নয়াদিল্লি সম্মেলনের প্রথম দিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।

আবুধাবির মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়, উত্তেজনা কমানো, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার কোনো নির্দিষ্ট ফলাফল বা সমঝোতার কথা জানানো হয়নি।

ভারতের সাবেক সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত সুনজয় সুধীর বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার মূল চাবিকাঠি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে। তার মতে, ভারত কঠিন আলোচনা চালু রাখার মাধ্যমে দেখিয়েছে যে অঞ্চলের দেশগুলো একই টেবিলে বসে কূটনৈতিকভাবে আলোচনা করতে এবং অভিন্ন স্বার্থের জায়গায় এগোতে পারে।

ব্রিকসের প্রভাব বাড়ানোর বার্তা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলন উদ্বোধনের সময় বলেন, ব্রিকস এখন পরিণত হয়েছে এবং বৈশ্বিক পরিসরে জোটের ঐক্য ও ঐকমত্যকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে।

২০০৯ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস পরে মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্প্রসারিত হয়েছে। জোটটি আন্তর্জাতিক নিয়ম প্রণয়নে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে।

BRICS nations urge 'restraint' in Middle East, smooth flow of global trade  | International Trade News | Al Jazeera

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, ব্রিকস দেশগুলোর উচিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক করার পথে এগিয়ে নেওয়া। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চীন তার যথাযথ ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে রাজনৈতিক সমাধানের পথে অটল থেকে স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান শি।

নয়াদিল্লি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। ব্রিকসের মাধ্যমে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণেও জোর দিচ্ছে ভারত।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসের যৌথ ঘোষণা এবং ইরান-আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে। যদিও এই ঘোষণা চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তন আনবে কি না, তা স্পষ্ট নয়; তবে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর এই জোটের ঐক্য প্রদর্শনে এর গুরুত্ব রয়েছে।