রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যে সহসা হচ্ছে না, সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা তা আবার স্পষ্ট করেছে। নিউইয়র্কে মিয়ানমারের মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার কেলি ই. কারি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে ফেরার পরিবেশ মিয়ানমারে এখনো তৈরি হয়নি। তাঁর মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য দরকার পূর্ণ নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা। এর মধ্যেই রাখাইনের কিয়াউকতাও বাজার ও কালাদান নদীর সেতুতে মিয়ানমারের বিমানবাহিনীর হামলায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
দুই পক্ষের মাঝখানে রোহিঙ্গারা
কারির অভিযোগ, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ এবং আরাকান আর্মিসহ সশস্ত্র গোষ্ঠী, দুই পক্ষই রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। কিয়াউকতাও এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে, আর সেখানে বিমান হামলা চালাচ্ছে জান্তা। যে এলাকায় রোহিঙ্গাদের ফেরার কথা, সেখানে এখন যুদ্ধ চলছে। কোনো পক্ষই তাঁদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।
জাতিসংঘের শর্ত ও বাংলাদেশের অবস্থান
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও জীবিকার নিশ্চয়তা না থাকলে সেই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সমর্থন পাবে না। কারি আশ্রয়দাতা দেশগুলোকে এসব নিশ্চয়তা ছাড়া শরণার্থীদের ফেরত না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। নভেম্বরে তিনি কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির পরিদর্শনে আসবেন। বাংলাদেশের অবস্থান সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ হতে পারে সেই সফর।
সামনে তিন প্রশ্ন
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন তিনটি প্রশ্ন। আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের কোনো পথ খোলা হবে কি না। সীমান্তে নতুন অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রস্তুতি কতটা। আর ফেরার আগ পর্যন্ত শিবিরে শিক্ষা ও জীবিকার খরচ কে জোগাবে।












