ডাটুক অ্যালেক্স ডেসেনা
সাবাহে দীর্ঘদিন ধরে অনিবন্ধিত, নথিহীন ও নাগরিকত্ব-অনিশ্চয়তায় থাকা মানুষের প্রশ্নটি কেবল অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নাগরিকত্ব, রাষ্ট্রীয় নথি, আইনের শাসন, শিশুদের শিক্ষা এবং একটি পরিবারের বৈধভাবে জীবিকা নির্বাহের অধিকার। ফলে এই সমস্যার সমাধানও একমাত্রিক হতে পারে না।
সাবাহ ও মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে এখন এমন একটি ব্যবস্থা তৈরির সুযোগ রয়েছে, যেখানে যোগ্য পরিবারগুলোকে একটি বৈধ আবাসন ও কাজের কাঠামোর আওতায় আনা হবে, তাদের সন্তানরা স্কুলে যেতে পারবে এবং একই সঙ্গে প্রত্যেক ব্যক্তির প্রকৃত জাতীয়তা নির্ধারণের জন্য একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালু থাকবে।
সমস্যার শিকড় শুধু সীমান্তে নয়
সাবাহে নথিহীন মানুষের প্রশ্নটি বহু বছরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক আলোচনায় সাবেক প্রধান বিচারপতি তুন রিচার্ড মালানজুম কেন্দ্রীয় সরকার ও সাবাহের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। ড. মেলিসা চিয়া পুই ফুংয়ের গবেষণাও দেখিয়েছে, বিতর্কিত নথি ও অনিষ্পন্ন নাগরিকত্বের প্রশ্ন কীভাবে একটি প্রজন্মের অনিশ্চয়তা পরবর্তী প্রজন্মেও টেনে নিয়ে যেতে পারে।
এই ইতিহাসকে উপেক্ষা করলে বর্তমান পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। একই সঙ্গে অতীতের অনিয়মের দায় এবং বর্তমানে সেই পরিস্থিতিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের অধিকারকে এক করে দেখাও ন্যায়সংগত নয়।
রাজকীয় তদন্ত কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের প্রশ্নটিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তদন্ত হয়েছে, সুপারিশ এসেছে; কিন্তু পরবর্তী পদক্ষেপ যদি অস্পষ্ট থাকে, তাহলে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ যে সবার জন্য সমান—এটি দৃশ্যমানভাবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
সব নথিহীন মানুষ একই অবস্থায় নেই
নীতিনির্ধারণের শুরুতেই একটি মৌলিক পার্থক্য স্পষ্ট করা দরকার। নথিহীন একজন ব্যক্তি হয়তো আইনগতভাবে মালয়েশীয় নাগরিক, কিন্তু নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রয়োজনীয় কাগজ তার কাছে নেই। অন্য কেউ বিদেশি নাগরিক হতে পারেন, যার দেশে থাকার অনুমতি নেই। আবার এমন ব্যক্তিও আছেন, যাকে কোনো রাষ্ট্রই নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না—তিনি রাষ্ট্রহীন।
এর পাশাপাশি শরণার্থী বা সুরক্ষার প্রয়োজন থাকা মানুষের বিষয়টিও আলাদা। জন্মস্থান, জাতীয়তা, অভিবাসন-অবস্থা এবং সুরক্ষার প্রয়োজন—প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে যাচাই না করলে একই ধরনের প্রশাসনিক সমাধান সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।
শুধু একটি সাধারণ পরিচয়ে সবাইকে চিহ্নিত করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। সাবাহে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এমন শিশুও থাকতে পারে, যে কখনো সীমান্ত পার হয়নি। তাকে কেবল ‘ফিরে যেতে’ বলা হলে প্রশ্ন থেকে যায়—কোন দেশে সে ফিরবে এবং সেই দেশ তাকে গ্রহণ করবে কি না?
স্বাধীন যাচাই প্রক্রিয়া প্রয়োজন
এই কারণেই বিতর্কিত নাগরিকত্ব ও নথির বিষয়ে একটি স্বাধীন ও আইনি ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যবস্থা প্রয়োজন। সেখানে আবেদনকারীর নথি পরীক্ষা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং সিদ্ধান্তের লিখিত কারণ জানানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্যও এই প্রক্রিয়া সহজলভ্য হওয়া দরকার।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়সীমা। কোনো আবেদন এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতে বছরের পর বছর পড়ে থাকা উচিত নয়। সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
অতীতের দায় নির্ধারণে সত্য উদ্ঘাটন ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়াও ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু অতীতের রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের স্কুলে ভর্তি বা পরিবারগুলোর বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ আটকে রাখা উচিত নয়। ইতিহাসের হিসাব এবং বর্তমান প্রজন্মের মৌলিক অধিকার—দুটি কাজ পাশাপাশি চলতে পারে।

দায়িত্ব শুধু সাবাহর নয়
নাগরিকত্ব ও জাতীয় নিবন্ধনের বড় অংশ কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের আওতায়। অন্যদিকে সাবাহের নিজস্ব অভিবাসন-সংক্রান্ত ক্ষমতাও রয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়ও দুই স্তরের সরকারের মধ্যে ভাগ হওয়া প্রয়োজন।
কিছু পরিবার স্বেচ্ছায় মালয়েশিয়ার অন্য অংশে যেতে চাইতে পারে। যদি সেখানে কাজ, বাসস্থান ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে আইনগত কাঠামোর মধ্য দিয়ে তাদের সেই সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু স্থানান্তরকে একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা যাবে না।
একটি পরিবার বছরের পর বছর সাবাহে বসবাস করে থাকলে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া মানে শুধু ঠিকানা বদল নয়; এর সঙ্গে কর্মসংস্থান, সন্তানদের শিক্ষা, সামাজিক সম্পর্ক এবং জীবিকার ধারাবাহিকতা জড়িয়ে থাকে। তাছাড়া কাউকে অন্যত্র পাঠালেই তার জাতীয়তার প্রশ্নের সমাধান হয় না।
তাই কেন্দ্রীয় সহায়তা শুধু মানুষ স্থানান্তরের জন্য নয়; স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা এবং বৈধ আবাসন ব্যবস্থার প্রশাসনিক ব্যয় বহনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন।
বাসিন্দা পরিচয়পত্র হতে পারে অন্তর্বর্তী সমাধান
যারা সাবাহে থাকবেন, তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট বাসিন্দা পরিচয়পত্র চালু করা যেতে পারে। যোগ্য ব্যক্তিরা এর মাধ্যমে বৈধভাবে বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ও সন্তানদের শিক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট ব্যবস্থা থাকতে হবে।
সাবাহ আইন সমিতিও ২০১৩ সালের রাজকীয় তদন্ত কমিশনে দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে বৈধভাবে কর্মরত নন-সিটিজেনদের জন্য এমন একটি আবাসিক পাস ব্যবস্থার ধারণা সামনে এনেছিল। বর্তমানে বিদ্যমান মাইকেএএস ধরনের অস্থায়ী পরিচয়পত্রের কাঠামো ব্যবহার বা সংশোধনের সম্ভাবনাও পরীক্ষা করা যেতে পারে।
তবে পরিচয়পত্র কেবল একটি কাগজ হলে চলবে না। এর সঙ্গে যুক্ত আইনগত মর্যাদা নিয়োগকর্তা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সুরক্ষা দরকার। বাগান ও নির্মাণ খাতের নিয়োগকর্তারা এই ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারেন। শ্রমিকদের বৈধ মজুরি, প্রযোজ্য কর ও অবদান দেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও উপযুক্ত আবাসনের দায়িত্ব নিয়োগকর্তার ওপরও থাকা উচিত।
একজন শ্রমিক চাকরি হারালেই যেন তার পুরো পরিবারের বৈধ অবস্থান বিপন্ন না হয়, সে জন্য নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের বাস্তব সুযোগও থাকা দরকার।
শিশুদের অধিকার আলাদা করে দেখতে হবে
এই ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো শিশুদের সুরক্ষা। জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে এবং অনুমোদিত নথির ভিত্তিতে স্কুলে ভর্তি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিষ্কার নির্দেশনা থাকতে হবে।
একইভাবে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী কিংবা পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা এমন ব্যক্তিদের কথাও বিবেচনায় নিতে হবে, যারা শ্রমবাজারে অংশ নিতে পারেন না। একটি পরিবারের মৌলিক নিরাপত্তা শুধু তার শ্রম দেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে পারে না।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও কাগজপত্রের বাইরে বাস্তব ব্যবস্থা দরকার। কোন সেবা পাওয়া যাবে, কতটা ব্যয় হবে এবং সেই ব্যয় কে বহন করবে—এসব আগে থেকেই নির্ধারণ করতে হবে। পরিচয়পত্র নিজে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে না, আবার একটি নথি থাকলেই স্কুলে আসন তৈরি হয় না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে তাই প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
নাগরিকত্বের পথ হতে হবে সংবিধাননির্ভর
বৈধ আবাসনকে নাগরিকত্বের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যে নাগরিকত্বের পথ স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দশ বছর যোগ্যতাসম্পন্ন বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এটি কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার হবে না। সংবিধানে নির্ধারিত অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে।
একই সঙ্গে সবাইকে দশ বছর অপেক্ষা করানোর প্রয়োজন নেই। যারা ইতোমধ্যে নাগরিক, কিন্তু তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ নেই, তাদের বিষয় আলাদাভাবে নিষ্পত্তি করা দরকার। সংবিধানের বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য শিশুদের ক্ষেত্রেও সেই আইনই প্রয়োগ করতে হবে।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট থাকা জরুরি—আবাসিক পরিচয়পত্র নাগরিকত্ব নয়। এটি ভোটাধিকারও দেবে না। ভোটাধিকার নাগরিকত্ব ও প্রচলিত নির্বাচনী যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত থাকবে।
সাবাহর স্বার্থ রক্ষায় স্বচ্ছতা অপরিহার্য
এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা সফল হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো জনআস্থা। সাবাহবাসীর নথি জালিয়াতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং স্থানীয় অধিকার নিয়ে উদ্বেগকে উপেক্ষা করলে উদ্যোগটি শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারাতে পারে।
তাই আবেদনকারীর পরিচয় ও অতীত যাচাইয়ের পদ্ধতি প্রকাশ্য হতে হবে। নথি না থাকলে ন্যায্য প্রক্রিয়ায় তা যাচাই করার সুযোগ থাকতে হবে। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, অবৈধ অর্থ, ধর্মীয় পরিচয় বা দলীয় আনুগত্য যেন কোনো সিদ্ধান্তের মানদণ্ড না হয়।
একই সঙ্গে সাবাহর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও ভূমি-অধিকারের প্রশ্নও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সুরক্ষিত রাখতে হবে। বর্তমান বাসিন্দা এবং পরবর্তী সময়ে আগত ব্যক্তিদের বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং নথি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও এই উদ্যোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত।
ছোট পরিসরে শুরু করা যেতে পারে
এই উদ্যোগের জন্য অর্থের প্রয়োজন হবে। শুধু শ্রমিকদের কর বা অবদান দিয়ে পুরো ব্যবস্থার ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। কেন্দ্রীয় ও সাবাহ সরকার এবং অংশগ্রহণকারী নিয়োগকর্তাদের মধ্যে অর্থায়নের কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে।
প্রথম ধাপে নির্বাচিত কয়েকটি জেলায় সীমিত পরিসরে কর্মসূচি শুরু করা যেতে পারে। সেখানে যাচাইকৃত নথি, প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক পরিবারকে নিয়ে কাজ করে ব্যবস্থাটির দুর্বলতা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
নিয়ম, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি প্রকাশ করা দরকার। একটি স্থায়ী ও যথাযথ অর্থায়ন পাওয়া সচিবালয় বিভিন্ন দপ্তরের কাজ সমন্বয় করতে পারে। নিয়মিত স্বাধীন পর্যালোচনার মাধ্যমে দেখা যেতে পারে—পরিবারগুলো পরিচয়পত্র পাচ্ছে কি না, শিশুরা স্কুলে ঢুকছে কি না এবং নিয়োগকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছে কি না।
মানবিকতা ও আইনের মধ্যে বিরোধ থাকা উচিত নয়
সাবাহে নথিহীন ও রাষ্ট্রহীন মানুষের প্রশ্নে দুটি বিষয়কে পরস্পরের বিপরীত হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। একদিকে অতীতের অনিয়ম, নথি জালিয়াতি ও রাজনৈতিক অপব্যবহারের তদন্ত হতে পারে; অন্যদিকে সেই ব্যবস্থার উত্তরাধিকার বহন করা শিশু ও পরিবারগুলোকে বৈধভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
বাসিন্দা পাস কোনো সহজ সমাধান নয়। এর মাধ্যমে নাগরিকত্বের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যাবে না, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আড়াল করা যাবে না এবং সাবাহবাসীর বৈধ অধিকারও ক্ষুণ্ন করা যাবে না। কিন্তু স্পষ্ট আইন, স্বাধীন যাচাই, নির্দিষ্ট যোগ্যতা, স্বচ্ছ অর্থায়ন এবং জবাবদিহির সঙ্গে এমন একটি ব্যবস্থা বহু মানুষের বর্তমান অনিশ্চয়তা কমাতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—যে শিশুটি নিজের জন্ম বা পরিচয়ের জন্য দায়ী নয়, তাকে তার বাবা-মায়ের নথিগত সংকটের শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। তাকে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। পরিবারকে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে আইনের অধীনে নির্ধারণ করা—কে নাগরিক, কে নয় এবং কার কী ধরনের সুরক্ষা প্রয়োজন।
সাবাহ ও মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের যৌথ দায়িত্বের ভিত্তিতে এমন একটি ব্যবস্থা নিয়ে এখন বাস্তব আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। লক্ষ্য হওয়া উচিত অতীতের ভুলকে আড়াল করা নয়; বরং আইনের মধ্যে থেকে এমন একটি ভবিষ্যৎ তৈরি করা, যেখানে নথির অনিশ্চয়তায় আরেকটি প্রজন্ম আটকে থাকবে না।











