সরকারি হাসপাতালে সকালের পাশাপাশি বিকেল বা সন্ধ্যায় আরেকটি শিফট চালুর কথা ভাবছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হুসেন বলেছেন, এক-দুই দিনের মধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউটের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
এখন কী অবস্থা
দেশের সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে এখন শুধু সকালেই রোগী দেখা হয়। দুপুরের পর বড় হাসপাতালের বহির্বিভাগ কার্যত বন্ধ থাকে। ফলে কর্মজীবী মানুষ, দিনমজুর ও দূরের জেলা থেকে আসা রোগীদের অনেকে দিনের কাজ ফেলে সকালে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হন। সকালে ভিড় সামলাতে না পেরে অনেকে বেসরকারি ক্লিনিকে যান, এতে চিকিৎসার খরচ বাড়ে।
কী লাগবে
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্বিতীয় শিফট চালু করতে হলে বাড়তি চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দিতে হবে। না হলে সেবার মান ধরে রাখা যাবে না। সরকারি হাসপাতালে বিকেলের শিফট চালুর আলোচনা কয়েক বছর ধরেই চলছে, তবে এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
নাক কান গলা ইনস্টিটিউটে শয্যা বাড়ছে
একই অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের কথা জানানো হয়। এর মাধ্যমে ইনস্টিটিউটের শয্যা ১৩৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে। নাক, কান ও গলার ক্যানসার চিকিৎসার জন্য আলাদা একটি বিশেষায়িত ইউনিট চালুর কথাও বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
রোগীদের জন্য কী বদলাতে পারে
বিকেলের শিফট চালু হলে একই হাসপাতালে দিনে আরও বেশি রোগী দেখা সম্ভব হবে। সকালের দীর্ঘ লাইন কমতে পারে। অফিস শেষে চিকিৎসা নিতে পারবেন কর্মজীবীরা। তবে জনবল নিয়োগ, বাজেট ও বাড়তি পরীক্ষাগার সেবার ব্যবস্থা না হলে এই শিফট কাগজেই আটকে থাকার আশঙ্কাও আছে।
ডেঙ্গু ও হামের রোগীতে সরকারি হাসপাতালগুলো এখন চাপে আছে। এমন সময়ে বাড়তি শিফটের সিদ্ধান্ত কবে আসে এবং কত দ্রুত নতুন জনবল নিয়োগ হয়, সেদিকেই এখন নজর রোগীদের।











