দেশে হামে মৃত্যু ১ হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে। এই মৃত্যুর পেছনে টিকার ঘাটতির পাশাপাশি অপুষ্টিও বড় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আইসিডিডিআর,বির যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৬৫ শতাংশই মাঝারি থেকে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছিল। হাম ও অপুষ্টি মিলে শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করছে।
মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী ৩৫৪ শিশুর ওপর গবেষণাটি চালানো হয়। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ছিল ৩০৮টি। তাদের ১২ শতাংশ তীব্র এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি মাত্রার কম ওজনে ভুগছিল। হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান গবেষণার ফল প্রকাশ করেন।
গবেষণায় মায়ের দুধ খাওয়ানোর ঘাটতিও স্পষ্ট হয়েছে। ১৩৫টি শিশু, অর্থাৎ ৩৮ শতাংশ, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস ঠিকমতো মায়ের দুধ পায়নি। হামে মারা যাওয়া ১১ শিশুর মধ্যে ৯টি, অর্থাৎ ৮২ শতাংশ, শুধু মায়ের দুধ পায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মায়ের দুধ শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে, আর অপুষ্ট শিশুর শরীর হামের মতো ভাইরাসের সঙ্গে লড়তে পারে না।
দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় চারজনের একজন শিশু খর্বকায়, অর্থাৎ অপুষ্টির কারণে বয়স অনুযায়ী বাড়েনি। এমন বাস্তবতায় হামের প্রাদুর্ভাব শিশুদের জন্য বাড়তি বিপদ ডেকে এনেছে। শনিবার পর্যন্ত হামে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২২ জনে। আক্রান্তদের বেশির ভাগই ছোট শিশু।
চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়মতো হামের টিকা, জন্মের পর ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ, ভিটামিন এ এবং পুষ্টিকর খাবার শিশুকে সুরক্ষা দেয়। জ্বর, কাশি বা গায়ে লালচে দানা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। হাম ও অপুষ্টির এই যৌথ ঝুঁকি কমাতে টিকাদানের পাশাপাশি পুষ্টি কর্মসূচিও জোরদার করার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।










